নিজস্ব প্রতিবেদক ;
জামালগঞ্জের ফেকুল মাহমুদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে মাসের পর মাস অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা ভোগ করছেন সি এইচ সিপি পদে থাকা ক্লিনিকের ইনচার্জ নিজাম নুর। তাঁর বিরুদ্ধে গত ১৪ই জানুয়ারী সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জনের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকাবাসী। তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের ফেকুল মাহমুদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের ইনচার্জ সি এইচ সিপি পদে কর্মরত মোঃ নিজাম নুরের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবেহলাসহ মাসের পর মাস প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে একদিনে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর দিয়ে বেতনভাতা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। গ্রামের রোগীরা ক্লিনিকে এসে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যমে। সেবা নিতে আসা লোকজন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ আরো অভিযোগ করেন, সরকারি ঔষধপত্র অন্যত্র বিক্রি করেন নিজাম নুর। ইতিমধ্যেই তাকে অপসারনের দাবীতে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ফেকুল মাহমুদপুর গ্রামের মোঃ জালাল উদ্দিনের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ।অভিযোগ সুত্রে জানা যায়,বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্যসেবা জনসাধারণের দোরগড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে গ্রামীণ পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্বমাণের যে কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন তার ধারাবাহিকতায়ই ফেকুল মাহমুদপুর চৌরাস্তার মোড়ে ২০১২ সাালে এই কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু হয়। এই ক্লিনিককে ঘিরে ভীমখালী ইউনিয়নের ফেকুল মাহমুদপুর, চান্দে নগর, ফেরানগর, কান্দাগাঁও, মাহমুদপুর, ছেলাইয়া, মানিগাঁও, শ্রীপুর, গোলামীপুর, ছোট ঘাগটিয়াসহ দশটি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের স্বপ্ন ছিল। এই ক্লিনিকে ২০১৩ সালে স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে একই ইউনিয়নের ছেলাইয়া গ্রামের মিরাশ আলীল ছেলে মোঃ নিজাম নুর সি এইচ সিপি পদে চাকুরীতে যোগদান করেন। এই ক্লিনিকে মোট তিনটি পদের মধ্যে এইচ এ পদে নাসিমা সুলতানা ও এফ ডব্লিউ এ পদে গীতা রানী তালুকদার কর্মরত । এলাবাসীর অভিযোগ, তাঁদেরকে মাঝে মধ্যে প্রতিষ্ঠানে এসে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও পুরো মাসে একদিনও দেখা মেলেনি ক্লিনিকের পুরো দায়িত্ব থাকা নিজাম নুরের । অন্যদিকে স্থানীয় প্রভাব কাটিয়ে নিজাম নুর মাসের পর মাস অনুপস্থিত থাকেন। চিকিৎসা নিতে আসা এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে অনেকটা ভয় পান। কর্মস্থলে না থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ফেকুল মাহমুদপুর এই কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে তাকে অপসারনের জন্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান ভুক্তভোগীরা । এ ব্যাপারে ফেকুল মাহমুদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের ইনচার্জ সি এইচ সিপি মোঃ নিজাম নুরের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার কর্মস্থলে মাসের পর মাস অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর ফোনের লাইনটি কেটে দেন। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ আহম্মদ হোসেন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাইট/দ্বিপাল/সুনাম২৪ইং
স্টাফ রিপোর্টার 









