সম্পাদকীয়

প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০

ভৌগলিক বিবেচনায় করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে দ্রুত গতিতে রূপ পরিবর্তন করছে বলে আশংকা করছেন করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা
বাংলাদেশ শিল্প ও গবেষণা পরিষদ মিউটেশন নিয়ে সাম্প্রতিক এক তথ্য প্রকাশ করছে, যা করোনাভাইরাস বাংলাদেশে অনেক দ্রুত গতিতে রুপ পাল্টাচ্ছে। সারা বিশ্বে নমুনাপ্রতি মিউটেশন (রূপ পরিবর্তন) পরিমাপ করা হয়েছে ৭ দশমিক ২৩। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ১২ দশমিক ৬। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে
নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ৩২ জনের মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে চার হাজার ৪৭৯ জন, নতুন করে আরো এক হাজার ৫৯২ জন আক্রান্ত, এ নিয়ে দেশে মোট তিন লাখ ২৫ হাজার ১৫৭ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ প্রথম করোনা রুগী শনাক্ত হয়। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মানবসভ্যতা ভয়ংকর এক পরিণতির সম্মুখীন। নভেল করোনাভাইরাস আমাদের অস্তিত্বকে চরমভাবে একটি চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আজ সমগ্র বিশ্ব এক হয়ে লড়ছে বিধ্বংসী এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে, যার কোনো নিশ্চিত সমাধান এখন পর্যন্ত অনিশ্চিত। এর প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কৃত না হওয়ায় বাড়তি সতর্কতা এবং প্রতিরোধই এর থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায়। আর তাই সবাইকে বাসায় থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং শাকসবজি, ভিটামিন সি-যুক্ত ফলমূলের সঙ্গে এমন কিছু খেতে বলা হচ্ছে, যাতে দেহের রোগ প্রতিরোধ ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ে। অস্তিত্বের লড়াইয়ে যেখানে মুখ থুবড়ে পড়ছে তখন বাংলাদেশের নভেল করোনা ভাইরাসের মিউটেশন বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় দ্রুত গতিতে রুপ পাল্টাচ্ছে।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের এক তথ্যে বলা হয়েছে , নভেল করোনাভাইরাস বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে রূপ পাল্টাচ্ছে। সারা বিশ্বে নমুনাপ্রতি মিউটেশন (রূপ পরিবর্তন) পরিমাপ করা হয়েছে ৭ দশমিক ২৩। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ১২ দশমিক ৬। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিসিএসআইআরের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের মে মাসে শুরু হওয়া এক গবেষণা কাজে নিয়োজিত দল সারা দেশ থেকে নমুনা এবং সেইসঙ্গে রোগীর প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে পরিসংখ্যাননির্ভর বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
গবেষক দলটি বাংলাদেশের আটটি বিভাগ থেকে সংগ্রহ করা সার্স-কোভ-২-এর ২৬৩টি নমুনার সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিং করে। সংগৃহীত নমুনায় শতভাগ ক্ষেত্রে একমাত্র ‘ডমিনেন্ট’ বা আধিপত্যকারী ভ্যারিয়েন্ট ‘জি৬১৪’-এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিসিএসআইআরের গবেষণার মধ্য দিয়ে যদিও ভৌগোলিক বিবেচনায় সার্স-কোভ-২-এর স্বতন্ত্র কোনো ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়নি, কিন্তু এ ভাইরাসের ৯টি সাবক্লাস্টারসহ তিনটি স্বতন্ত্র ক্লাস্টার চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষণায় আরো বলা হয়, সার্স-কোভ-২ জিনোম দিয়ে ৭৩৭টি মিউটেশন সাইট ও ৩৫৮ নন্-সিনোনিমোস অ্যামিনো এসিড প্রতিস্থাপন চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্পাইক প্রোটিনে ৫৩টি নন্-সিনোনিমাস অ্যামিনো এসিড প্রতিস্থাপন এবং ১০৩টি নিউক্লিওটাইড প্রতিস্থাপন শনাক্ত করা হয়েছে। বিসিএসআইআরের জেনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. সেলিম খান বলেন, ‘আমরা স্পাইক প্রোটিনে নন-সিনোনিমাস অ্যামিনো এসিড প্রতিস্থাপনের ওপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক সার্স- কোভ-২-এর সঙ্গে সর্ম্পকিত পাঁচটি স্বতন্ত্র ভ্যারিয়েন্ট আবিষ্কার করেছি। সংগৃহীত নমুনায় ১০০ ভাগ ক্ষেত্রে আমরা চারটি পৌনপুনিক মিউটেশন নিরীক্ষণ করেছি।’ এমতাবস্থায়,ভৌগলিক বিবেচনায় বাংলাদেশে আসছে শীতে এ ভাইরাস আরও ভয়ংকর হয়ে আঘাত হানতে পারে বলে আশংকা করছেন করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এই সংবাদটি 21 বার পঠিত হয়েছে