সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর উপর ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশিত: ৪:০৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০

কর্ণ বাবু দাস :সুরমা নদীর উপর একটি সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সুনামগঞ্জ  সদর উপজেলার সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের কয়েকটি ইউনিয়নে বসবাসকারী প্রায় লক্ষাধিক সাধারণ নাগরিক ও সীমান্তে বসবাসকারী প্রন্তিক জনগোষ্ঠীকে । সুনামগঞ্জ জেলা শহরের উত্তরের প্রান্তসীমা ধারারগাও ঘেঁষে এবং সুরমা ইউনিয়নের দক্ষিণের প্রান্তসীমাসীমা হালুয়ারঘাট ঘেঁষে প্রবাহিত  সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মিত না হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সুরমা ,জাহাঙ্গীরনগর , রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর লক্ষাধিক মানুষ।
আর সে কারণে সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে বেশ কয়েকবার মানববন্ধনও করেছেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনতা।
জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলাকে দিখন্ডিত করেছে। তিন ইউনিয়নের মানুষের নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। হালুয়ারঘাট- ধারারগাও এলাকায় এপার-ওপার পারাপারের একমাত্র অবলম্বন নৌকা। পারাপারের জন্য জনসাধারণকে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয় । ফলে, প্রতিনিয়ত অসুবিধায় পড়তে হয় এই ঘাট দিয়ে চলাচলকারী শতাধিক গ্রামের মানুষকে।
নদী পারাপারে সেতু না থাকায় এসব গ্রামের মানুষেরা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন জেলা সদর থেকে।
চাকুরিজীবী আখলাকুর রহমান বলেন, ‘চাকুরীর কারণে প্রতিদিন নদী পার হয়ে যাওয়া-আসা করতে হয় । সেতু না থাকার কারণে নৌকার জন্য বা খেয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় । প্রতিদিনই এক ঘন্টা চলে যায় খেয়ার অপেক্ষায়। একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিনই আমার মতো অনেক চাকুরিজীবী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ ভোগান্তি পোহাতে হয় দৈনন্দিন প্রয়োজনে জেলা সদরে যাতায়াতকারী জনগণকে । তাছাড়া,এখানে একটি সেতুর অভাবে আমরা আমাদের উৎপাদিত পণ্য ও ফসলের ন্যায্য মূল্য পাইনা। সময়মতো বাজারজাত করতে না পারায় প্রায়ই ফসল নষ্ট হয়ে যায়।’
রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাসাউরা গ্রামের শরীফ উদ্দিন বলেন,‘ কিছুদিন আগে রাতে হঠাৎ করে আমার এক আত্মীয় অসুস্থ হয়ে পড়েন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশে ঘাটে আসলে, সেখানে কোনো নৌকা না থাকায় রোগীকে আর হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে য়ায়।’
সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী তাহমিনা আক্তার বলেন,‘সেতু না থাকার কারণে প্রায়ই আমাদের স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয় । বর্ষাকালে প্রায়ই আমরা স্কুলে যেতে পারিনা। ঘাটে নৌকা না থাকায় নদী পার হওয়া সম্ভব হয় না।নৌকার জন্য ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করতে হয়।’
এ কারণে যুগ যুগ ধরে চলে আসা এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে চান এ সব এলাকার মানুষ।
ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বলেন,‘নারায়নতলা বর্ডারহাট থেকে মাল নিয়ে নৌকার অভাবে  প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হয় । একটা খেয়া মিস হলে দীর্ঘসময় ঘাটে বসে থাকতে হয় । মালামাল সঠিক সময় পৌঁছাতে না পারলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় । এখানে ্একটি সেতু নির্মাণ হলে আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যের অনেকটা উন্নতি হবে ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুব আলম বলেন ,‘ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলাধীন সুনামগঞ্জ-মঙ্গলকাটা সড়কের সুরমা নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা র্দীঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন । এই ব্রীজটি হলে সুনামগঞ্জ থেকে বিচ্ছিন্ন মঙ্গলকাটাসহ এই এলাকার জনগণের অনেক সুবিধা হবে সেই বিষয়টি বিবেচনা রেখে এলজিইডির আওতায় এই ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সমীক্ষা প্রজেক্টের মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান আছে । যেহেতু সুরমা একটি বড় নদী এবং এটি একটি বড় ব্রীজ সেজন্য এই নদীর উপর  ব্রীজ  করতে অনেক রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং বিভিন্ন দপ্তর যেমন- বিআইডব্লিউটিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ আরো কিছ কনসার্ন ডিপার্টমেন্টের মতামত নিয়ে এটার এলাইনমেন্ট চূড়ান্ত করা হবে এবং এই প্রক্রিয়াগুলো এখন চলমান আছে । ইতোমধ্যেই এই ব্রীজ নির্মাণের জন্য ডিজিটাল সার্ভে করা হয়েছে । আমরা আশা করছি যে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই ব্রীজের নির্মাণের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন  হবে।

এই সংবাদটি 73 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ