সম্পাদকীয়

প্রকাশিত: ২:৫৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০

অনুকুল পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তকেই যথাযথ বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

বর্তমান বৈশ্বিক মহামারীর কভিড ১৯ এর কারনে সারাবিশ্বজুড়ে মানুষের জন জীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি ও বিপর্যয়।করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশে  অফিস,আদালত, ব্যাবসা বানিজ্য,স্কুল, কলেজ সহ সবধরনের   শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। দেশে করোনা প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় গত ১৭ মার্চ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সব অফিস-আদালত আর যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা শুরু হয়।টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটির পর ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে অফিস খুলে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধই আছে।

আগের ঘোষণা অনুযায়ী ছুটির মেয়াদ ছিল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আরেক দফা ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলো।করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতির কারণে কওমি মাদ্রাসা ছাড়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরো এক মাস বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। শিক্ষাবান্ধব বর্তমান  সরকার কভিড ১৯ বৈশ্বক মহামারী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধির পাশাপাশি সুষ্ঠু মনিটরিং ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন।এপ্রিল থেকে নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও মহামারির কারণে স্থগিত হয়ে আছে। এবারের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষাও নেবে না সরকার। দেশের ও আন্তর্জাতিক করোনা পরিস্থিতি এখনও আগের মতো অবস্থাতেই আছে। তারপরও অনেকে মনে করছেন আসছে সেপ্টেম্বরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া দরকার আবার অনেকে মনে করছেন সেটা মোটেও ঠিক কাজ হবে না। তাদের মতে, শিক্ষার ক্ষতি হচ্ছে কিন্তু জীবন না থাকাটা তো সবচেয়ে বড় ক্ষতি। এমন পরিস্থিতিতে কী করণীয় দ্বিধা দন্ধে থাকা অভিবাবক,শিক্ষার্থী  শিক্ষাবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা নানা মত প্রকাশ করছেন।

অভিভাবকরা মনে করছেন,স্কুল খোলা থাকলে নিয়মিত পড়ার রুটিনটা অন্তত ঠিক থাকতো, এখনতো শেখা সবকিছুও ভুলতে বসেছে। কিন্তু সন্তানকে এমন পরিস্থিতিতে স্কুলে পাঠাতেও ঠিক ভরসা পাচ্ছেন না । তাদের মতে মাস্ক মুখে রাখবে না বা নিয়ম মেনে হাত ধুবে না। তাতে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়বে। সবমিলিয়ে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত একজন  অবিভাবক মনে করেন, অবশ্যই শিক্ষার থেকে জীবন আগে।

এই সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়াটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলেই অগণিত শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। এত ভীড়ে সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা কতটুকু  সম্ভব হবে।এই সংকট শুধু আমাদের দেশে না সমস্ত বিশ্বেই এখন একই সংকট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হলে সংক্রমণের হার তীব্রভাবে বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।বিশেষজ্ঞরা আরো মনে করেন,  পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষার্থীদের এই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে নানান পদক্ষেপের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে । সিলেবাস বা  কোর্স কমিয়ে, পরের শিক্ষাবর্ষে ছুটি কমিয়ে অথবা একই সঙ্গে অল্প অল্প করে বাড়তি কোর্স দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা  সম্ভব। তাই অনুকুল পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে সংক্রমণ মাল্টিপ্লাই করবেনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমতাবস্থায়, অনুকুল পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তকেই যথাযথ বলে  মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এই সংবাদটি 43 বার পঠিত হয়েছে