সম্পাদকীয়

প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে হাওরবাসীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি এ শিল্পের উন্নয়নের সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা আবশ্যক
“হাওরকন্যা” খ্যাত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা ঘীরে পর্যটনের দৃষ্টিনন্দন টাংগুয়ার হাওর, লাল শাপলার বিকি বিল,  শিমুল বাগান, শহিদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি লেক), বারিক্কা টিলা, যাদুকাটা নদীর সাদাবালির মিনি মরুর এক অভূতপূর্ব  দৃশ্য যা সহজেই মন কেড়ে নেবে আপনার। খুব সকালে  অথবা পড়ন্ত বিকেলে লেকের পাড়ে দাড়ালে মনে হবে  সুইজারল্যান্ডের কোন হ্রদের দৃশ্য অবলোকন করছেন। শিমুলবাগানের নিবিড় ছায়ায় চোখে পড়ে যেন রক্তিম সূর্যের আগুন লেগেছে শিমুলের ফুলে।  বিকি বিলের লাল শাপলার মনমোগ্ধকর দৃশ্য দেখলেই মনে পড়বে আবেগী হয়ে  কবি বলেছিলেন ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি’ প্রবাদ আছে-নয়কুড়ি বিল, ছয় কুড়ি কান্দার সমন্বয়ে গঠিত শত বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই হাওর। যেখানে নানা প্রজাতির বনজ ও জলজ প্রাণী, হিজল, করচ আর নল খাগড়া   হাওরের সৌন্দর্যকে আরো দর্শনীয় করেছে। বর্ষায় টাংগুয়ার হাওর এক বিশাল সমুদ্রের রূপ ধারণ করে আর শীতের সময় অতিথি পাখির আগমনে টাংগুয়ার হাওরকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলে। এছাড়াও রয়েছে হাওর সংলগ্ন গ্রাম যুগ যুগ ধরে বসবাস করা মানুষের জীবন জীবিকার মুগ্ধকর চিত্র।  চোখে দেখে জীবনের পরিপূর্ণতা অর্জন করতে পারেন।হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা নৌকায় বসে বিস্তীর্ণ নীল জলরাশির মায়ায় ভেসে বেড়াতে পারেন। হাওরের কোলঘেঁষে থাকা সীমান্ত নদী, পাহাড়, পাহাড়ি ঝর্ণার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নানা প্রজাতির বনজ, জলজপ্রাণী  নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার মতো খোরাক মিলবে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের। এছাড়াও লাকমা ছড়া, চাঁনপুর ঝর্ণা, লাউড়ের রাজবাড়ি , সুনামগঞ্জ সদরে হাসন রাজার বাড়ি  ও মিউজিয়াম, ডলুরা শহীদ সমাধি সৌধ, বাঁশতলা শহীদ মিনার,  ঐতিহ্য জাদুঘর, গৌরারংয়ের জমিদার বাড়ি সহ নানা  ঐতিহ্যবাহী ও দৃষ্টিনন্দন এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউটিউব এ সার্চ করলেই এসব দর্শনীয় স্থানের  লোকেশন পাওয়া যায় । পর্যটনের অপার সম্ভাবনা হাতছানি দিয়ে ডাকলেও  রয়েছে নানাপ্রতিবন্ধকতা। দূর দুরান্ত থেকে আসা ভ্রমণ পিয়াসী মানুষের  জন্য কোন ভাল মানের বেসরকারী ব্যবস্থায়পনায় সেখানে রাত্রি যাপনের কোন ব্যবস্থা নেই।একমাত্র সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ কিঃ মিঃ উত্তর-পূর্বে টেকেরঘাট চুনাপাথর খনির  একটি সরকারি রেষ্টহাউজে অবস্থান করা যায়। এখানকার   সুবিধাজনক স্থানে পর্যটন মোটেল, কিংবা একটু ভাল মানের রেস্টুরেন্ট,  আবাসিক হোটেল,  কটেজ হতে পারে। একটি তারকা খচিত হোটেল থাকলে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যেত।   পর্যটকের জন্য স্থানীয় শিল্প-সংস্কৃতি উপভোগ করার ব্যবস্থা থাকতো।  এ রকম সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা গেলে হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হবে। হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা নৌকায় বসে বিস্তীর্ণ নীল জলরাশির মায়ায় যেমনি ডুব দিতে পারে, তেমনি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পেতে সাঁতার কাটতে পারে নির্দিষ্ট স্থানগুলোয়। সংস্কৃতিপ্রেমীরা  রাতে চাঁদের আলোর নিচে নৌকায় বসে স্বাদ নিতে পারেন বাউল ও মরমি কবি-সাধকদের গানগুলোর সুর তুলে কিংবা হাওরের শীতল হাওয়া ও জল জোছনার  আলোয় রাত্রিযাপন করে।  সুনামগঞ্জ তাহিরপুর সংযোগ সড়ক সংষ্কার  ২০১৯ ইং এর নভেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অদ্যাবধি শেষ হয়নি। ছোট, সর্পিল রাস্তা পর্যটকদের জন্য খুব কষ্টকর । রাস্তা সংষ্কার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। হাওরবাসীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে । হাওর এলাকায় পর্যটনসুবিধা বৃদ্ধি করে নতুন নতুন পর্যটকের ভ্রমণে উৎসাহিত করা যেতে পারে। বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আমরা পর্যটন শিল্পে পিছিয়ে আছি। এ শিল্পের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা।
এমতাবস্থায় , পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবপক্ষকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। দেশীয় পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে প্রচার-প্রচারণার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। পাশাপাশি এ শিল্পের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সঠিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে পর্যটন শিল্প অন্যতম ভূমিকা পালন করতে পারব।

এই সংবাদটি 12 বার পঠিত হয়েছে