সম্পাদকীয়

প্রকাশিত: ৩:৫৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

আসছে শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউমোকাবেলায় প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ কার্যকরী করতে হবে
সামনে শীতকাল। শীতে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে বলা যাবে না। শীতকে সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা জরুরি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমরা লকডাউনে ব্যর্থ হয়েছি। এখন সবকিছু খুলে দিয়েছি। তাই সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার করতেই হবে। নইলে সামনে বিপদ চলে আসতে পারে
শীতকাল আসার আগেই এখন ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর , কাশি,অর্থাৎ ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ভাইরাসজনিত জ্বরে অনেকেই ভোগছেন।কেউ শুধু প্যারাসিটামল খেয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন। আবার কেউ ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাসকষ্ট, কাশি, ব্রংকাইটিস,কিডনি, হার্ট ও ফুসফুসজনিত জটিল রোগে যারা ভুগছেন তাঁরাই মূলতঃ পরবর্তী সময়ে করোনা নামক অদৃশ্য ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকেই শরীরে জ্বর নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন কেউ আবার উপসর্গহীন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। কেউ টেষ্ট করার আগেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। করোনার মৃত্যুর হারের চেয়ে সুস্থতার হার বেশী। তবে করোনা আগে থেকে যাদের শরীরের বিভিন্ন অর্গান এফেক্টেড তাঁরাই মূলত করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন ঝুঁকিতে আছেন। এছাড়াও আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর এই ভাইরাসের আগ্রাসন লক্ষ্য করা যায়।করোনা ভাইরাসের উপসর্গ না থাকলেও শরীরে এ ভাইরাস থেকে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, মানুষের শরীরে ভাইরাসটির উপসর্গ প্রাথমিকভাবে যে ধারণা করা হচ্ছিল- তারচেয়েও দীর্ঘদিন ধরে থাকতে পারে। সামনে শীতকাল এ সময়ে করোনায় ” সেকেন্ড ওয়েভ” হানা দিতে পারে ব্যাপকভাবে । সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক তথ্য না থাকলেও অনেকেই আশঙ্কা করছেন, শীতকালের আবহাওয়ায় বাংলাদেশে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। তাদের আশঙ্কা, আর্দ্রতা, সূর্যের তাপ, ভিটামিন ডি-এর অভাব এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াসহ শীতকালে অন্যান্য ভাইরাস ও ফ্লু জাতীয় শ্বাসকষ্টের রোগের লক্ষণ দেখা দেয় বলে এ সময় মানুষ করোনা ভাইরাস নিয়ে আরো বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠতে পারে। এদিকে শুরুর দিকে করোনা ভাইরাস নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভয়ভীতি ছিল, এখন তা আর নেই বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন। মানুষ অনেকটা বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করছেন। মানুষের এই ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ সংক্রমণ বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
সামনে শীতকালে সংক্রমণের হার বাড়তে পারে। তাই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করলে ৮০ ভাগ মানুষ করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পারে। ভ্যাকসিন কবে আসবে তার কোনো ঠিক নেই। তাই সবারই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। জনসমাগম, হাটবাজার, গণপরিবহন,ঘনবসতি এলাকা, নেই স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা। আসছে শীত মৌসুম। চিকিৎসকসহ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের সময় যেকোনও ভাইরাসজনিত রোগ বাড়ে। এ সময়ে মানুষের শরীরে ইমিউনিটি কমে যায়। এ কারণে শীতে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি যদি আমরা সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করি।
গত ২৮ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনলাইন পরামর্শমূলক ব্রিফিংয়ে সেখানে করোনাবিষয়ক ৭টি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ৩ নম্বরেই রয়েছে শীতকালের করোনা পরিস্থিতি।
সেখানে মহাপরিচালক বলেন, “সামনেই শীতের মৌসুম, সবাই ভাবছে শীতের সময় ‘সেকেন্ড ওয়েব বা দ্বিতীয় ঢেউ’ আসতে পারে।” এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় কমিটির মতামত এবং অধিদফতর এর জন্য করণীয় তা জানতে চান মহাপরিচালক। পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয় ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ এর জন্য এখনি প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। এখনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারলে সংক্রমণ কমানো যাবে। কন্টাক্ট ট্রেসিং, কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন জোরদার ও তদারকি করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
একইসঙ্গে সেখানে জনগণকে সচেতন করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলেও প্রশ্ন ওঠে। সেই সঙ্গে কী কী পদক্ষেপ নিলে করোনার নমুনা পরীক্ষা বাড়বে, সে বিষয়ে মহাপরিচালক জানতে চান কমিটির সদস্যদের কাছে। পরে সিদ্ধান্ত হয়, আইন করে মাস্ক পরানো এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম করতে হবে। একইসঙ্গে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বাড়াতে হবে। প্রতিটি উপজেলায়, সিটি করপোরেশনে, ওয়ার্ডে কমিউনিট গ্রুপ করতে হব; যারা স্বাস্থ্যবিধির নিয়ম মেনে চলতে এলাকার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে।
বাতাস করোনাভাইরাস ট্রান্সমিশনের অন্যতম বাহক বলে জানান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, ‘শীতের সময় ঘর বদ্ধ থাকে এবং ভেন্টিলেশন কম থাকে বলে এসব রোগ বাড়ে। শীতে অনেকে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ রাখে, সেটা বাসা বাড়ি এবং অফিসগুলোতেও। এতে করে সবার হাঁচি কাশি আবদ্ধ ঘরের বাতাসে জমা হয়। তাই সংক্রমণ কমাতে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।’
‘শীতের সময় আবহাওয়ার কারণে সর্দি কাশি বেশি হয়, আবার যেকোনও ছোঁয়াচে রোগ শীত ও বর্ষাতে বেশি হয়। একইসঙ্গে হিউমিলিটি যখন ড্রাই থাকে, তখন সেটা বাতাসে বেশিক্ষণ থাকে। এ জন্য সংক্রমণের সম্ভাবনাও বাড়ে।’এছাড়া
‘অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট যাদের থাকে, তাদের শীতের সময়ে এসব রোগের টেন্ডেসি বাড়ে। এর কারণে ভাইরাসের শিকার হলে সেটা সিভিয়ার হয়ে যায়। তাই আমরা শীতকালের বিষয়ে বেশি কনসার্ন।’
শীতে যে সেকেন্ড ওয়েভ আসতে পারে আর সেটা প্রথম ওয়েভের চেয়ে বেশিও হতে পারে মন্তব্য করে ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘শীতের আগে সংক্রমণের হার কমে গেলেও শীতের সময়ে আরেকটা ঢেউ আসতে পারে।শীতের সময়ে সংক্রমণ বাড়বেই। এটা এখন কমলেও পরে বাড়বে। এখন প্ল্যাটু অবস্থাতে থেকেও শীতের সময় বাড়বে। একে সেকেন্ড ওয়েভ বলাই যায়।’ তাই সংক্রমণ কমাতে এখন থেকেই পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি নেওয়া দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা । এমতাবস্থায়,প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি , স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ কার্যকরী করতে হবে এবং করোনা বিষয়ক সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সবাইকে সর্বাত্মক সতর্ক থাকতে হবে।

 

 

এই সংবাদটি 34 বার পঠিত হয়েছে