অতিবৃষ্টি-খরায় উৎপাদন কম, বাড়ছে চায়ের দাম

প্রকাশিত: ১:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০

গত বছর যে পরিমাণ চা উৎপাদন হয়েছে তার তুলনায় অনেক কম উৎপাদন হয়েছে এবার। চা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনার কারণে দেশে লকডাউন থাকায় এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত চা ব্যবসায় মন্দা অবস্থা বিরাজ করছিল। বর্তমানে চায়ের বাজারে আগুন।

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২০ সালে চায়ের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৭০ লাখ কেজি। কিন্তু এ বছর জুলাই পর্যন্ত চায়ের উৎপাদন পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার কেজি।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ডের (বিটিবি) উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ কোটি কেজি। কিন্তু উৎপাদন হয় সাড়ে ৯ কোটি কেজি। এর মধ্য দিয়ে চা-শিল্পের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা রেকর্ড করেছিল বাংলাদেশ।

দেশীয় বাগানে উৎপাদিত চা বিক্রি হয় চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলের দুটি নিলাম কেন্দ্রে। উৎপাদন কম হওয়ায় এবার নিলাম বাজারে চায়ের দাম বাড়ছে। তাতে খুচরা বাজারেও দাম বাড়া অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে আবহাওয়ার কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশীয় চা সংসদ সিলেট ভ্যালি সভাপতি গোলাম শিবলী বলেন, চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের চেয়েও কম চায়ের উৎপাদন। এর প্রধান কারণ, শুধু জুন মাসে ৩০ দিনের মধ্যে ২৫ দিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। চায়ের জন্য উপযোগী পর্যাপ্ত সূর্য তাপমাত্রা পাওয়া যায়নি। দিনের বেলা বৃষ্টি হলে চায়ের জন্য ক্ষতি। চায়ের জন্য দিনের বৃষ্টিপাতের চেয়ে রাতে বৃষ্টিপাত সবচেয়ে বড় উপকারী। দিনে মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকলে চা-গাছগুলো সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না। ফলে চা-গাছের দ্রুত কুঁড়ি ছাড়ানোয় ব্যাঘাত ঘটে।

চায়ের চাহিদার বড় অংশ টং দোকান, হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো। এখানে অধিক পরিমাণে চা ব্যবহার হয়। করোনার পর মার্চ থেকে টং দোকান ও হোটেল রেস্তোঁরাগুলো বন্ধ থাকায় চা ব্যবসা হয়নি। এখন সীমিত আকারে খুলে ব্যবসা অনেক কমলেও চাহিদা বাড়ায় বেড়েছে চায়ের মূল্য।

শ্রীমঙ্গল স্টেশন রোডের সেলিম টি হাউসের সত্ত্বাধিকারী মো. সেলিম আহমেদ জানান, সর্বনিম্ন ১৭০ টাকা কেজির চা পাতা ২২০ টাকা দামে বেড়েছে। আগামীতে চায়ের দাম আরও বাড়বে। শ্রীমঙ্গলের বাজারে ক্লোন টি (ছোট দানা) প্রতি কেজি ২৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩৫০ টাকার চা ৩৮০ টাকায় এখন বিক্রি হচ্ছে। বিটি-২ গ্রেডের চা ৪০০ থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকাতে বিক্রয় হচ্ছে। দেশের সবচেয়ে উন্নত চা বিটি-গোল্ড বা টি-গোল্ড ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় এবং গ্রীন-টি ৬৫০-৭০০ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

.

“>প্যাকেটজাত চা পাতা ইস্পাহানি টি কোম্পানি শ্রীমঙ্গল জেরিন চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা জানান, খরার কারণে শুধুমাত্র মার্চ মাসেই পঞ্চাশ শতাংশ চা উৎপাদন কম হয়েছে।তিনি জানান, অনেক চা বাগানে সেচের ব্যবস্থা নেই। আধুনিক পদ্ধতিতে সেচ দেওয়ার পরও তার বাগানে বছর শেষে ১২ শতাংশ চা উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত চলতি বছরের জুন মাসের শেষ দিকে অবস্থার থেকে কিছুটা ভালো বলেও তিনি জানান।

শ্রীমঙ্গল নাহার চা বাগানের ব্যবস্থাপক পীযুষ কান্তি ভট্রাচার্য বলেন, গত বছর আবহাওয়া ভালো ছিল। রাতে বৃষ্টি, দিনে রৌদ্র থাকায় চা উৎপাদন ভালো হয়েছে। এবার তার তুলনায় অনেক কম। কারণ চা মৌসুমের প্রথম দিকে অধিক খরা, তারপর দিনে ও রাতের বেলা অতিবৃষ্টির কারণে সূর্যতাপ না পাওযায় চা উৎপাদন কমেছে।

তিনি বলেন, ভারতে করোনাকালে চা বাগান বন্ধ থাকায় চা উৎপাদন কম হয়েছে। যার ফলে চোরাইপথে চা আসা বন্ধ এবং আমদানি না থাকাও চায়ের দাম বাড়ার কারণ। বর্তমানে হোটেল মোটেল ও রেষ্টুরেন্ট খোলার কারণেও চাহিদা বেড়ে দাম বাড়ছে বলে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে শ্রীমঙ্গল স্টেশন রোডের ব্যবসায়ী গুপ্ত টি হাউসের সত্ত্বাধিকারী পীযুষ ভট্টাচার্য ও পপুলার টি হাউসের শহীদ আহমেদ বলেন, লকডাউন শিথিল হওয়ায় চায়ের চাহিদা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে বিভিন্ন চা প্যাকেটজাত কোম্পানি চা পাতা ক্রয় করে স্টক করার কারণে চায়ের দাম বাড়ার কারণ। তারা আরও বলেন, ভারতীয় চা দেশে না আসা, দেশে চায়ের বাজারের জন্য মঙ্গল।

বিদেশি কোম্পানি, সরকারি ও ব্যক্তি মালিকাধীন ছোট বড় মিলিয়ে দেশে মোট ১৬৭টি চা বাগান রয়েছে। তারমধ্যে মৌলভীবাজার জেলাতেই ৯৩টি।

এদিকে ২০২৫ সালে ১৪ কোটি কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে চা বোর্ডের।

এই সংবাদটি 32 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ