দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছাত্রকে বেধড়ক পিটুনি, শিক্ষক কারাগারে

প্রকাশিত: ৩:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক ছাত্রকে বেধড়ক পিটিয়েছেন এক স্কুলশিক্ষক। শুধু তাই নয়, তাকে জবাই করে মাটিতে পুতে রাখারও হুমকিও দেন তিনি। এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই ঘটনায় ওই ছাত্রের বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই স্কুলশিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিশুদের মধ্যে সামান্য ক্রিকেট খেলা নিয়ে ধাক্কাধাক্কিকে কেন্দ্র করে ওই ছাত্রকে এভাবে মারধোর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলার আটরাই গ্রামের মোজাহেদুল ইসলামের ছেলে সাকিব আহমেদ। সে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং স্থানীয় চকবোয়ালিয়া মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার নুরুল হুদা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর তাকে রাস্তায় ধরে বেধড়ক মারধর করে। সেই মারধরের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে সাকিব আহমেদ সহকারী প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীরের ছেলে জিসানকে মারধোর করে। এই বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষক হুমায়ুন কবীর সাকিবকে রাস্তায় প্রকাশ্যে সবার সামনে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় তিনি সাকিবকে জবাই করে হত্যা করে মাটিতে লাশ পুতে রাখারও হুমকি দেন। পরে হুমায়ুন কবীরের ভাতিজা সৌরভও আরেক দফা মারধর করে সাকিবকে। এই ঘটনায় সাকিব অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
ঘটনার শিকার সাকিবের বাবা ও মা ঢাকায় চাকুরী করেন। সে থাকে তার দাদির সঙ্গে। তবে এই ঘটনার পর সে নানীর বাড়িতে চলে গেছে। গত শুক্রবার এই ঘটনায় সাকিবের বাবা মোজাহেদুল ইসলাম বাদী হয়ে পার্বতীপুর মডেল থানায় শিক্ষক হুমায়ুন কবীর, তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার, ভাই হেলাল ও ভাতিজা সৌরভকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত হুমায়ুন কবীরকে গ্রেফতার করে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মোখলেসুর রহমান জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এই সংবাদটি 14 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ