ধর্মপাশার  হাওরে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান, শঙ্কায় হাওরবাসী

প্রকাশিত: ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২০

মিঠু মিয়া, ধর্মপাশা :
বর্ষায় ধর্মপাশা উপজেলার  হাওরাঞ্চলে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ইঞ্জিনচালিত নৌযান। কিন্তু  নৌযানগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এবং অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করায় একের পর এক  ঘটছে নৌ  দুর্ঘটনা। ফিটনেসবিহীন নৌযান বেশি লাভের আশায় অদক্ষ চালক দিয়ে বেশি লাভের আশায় নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল নিয়েই এখনো আগের নিয়মেই দাপটের সঙ্গে চালানো হচ্ছে হাওরাঞ্চলে ইঞ্জিনচালিত নৌযান।
গত ৯ সেপ্টেম্বর ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থেকে নেত্রকোণার ঠাকুরাকোনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী ট্রলার বাল্কহেড নৌকার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে গুমাই নদীর কলমাকান্দা অংশে ডুবে গিয়ে ১২ জনের মৃত্যু হলে নৌপথে চলাচলকারী নৌযানের দুর্ঘটনা এড়াতে অভ্যন্তরীণ নৌযানসমূহকে ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং নিবন্ধন করে তা নৌযানে প্রকাশ্য স্থানে ঝুলিয়ে রাখা, প্রতিটি নৌযানে আসন সংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট যাত্রী সাধারণের হাতের নাগালের মধ্যে রাখাসহ প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের নিয়ম মেনে চলার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। নিয়ম না মেনে হাওরে নৌ চলাচলের ফলে যে কোনো সময় আবারও দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও স্থানীয় সরু নৌরুটে বাল্কহেড নৌকা চলাচলের ফলে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে ধর্মপাশা উপজেলার হাওরবাসী। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে উপজেলা ও পাশের জেলার  ঠাকুরাকোনা, কলমাকান্দা, তাহিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার  সাথে সড়কপথে ভালো যাতায়াত ব্যবস্থা নেই। বর্ষায় ছয় মাস নদী পথে চলাচল করতে হয়। চলাচলের প্রধান মাধ্যম ইঞ্জিনচালিত কাঠের তৈরি নৌকা। এসব নৌকা ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থেকে তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ, ঠাকুরাকোনা, কলমাকান্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী ও মালামাল বহন করে। সরেজমিন দেখা যায়, যাত্রীবাহী ট্রলারের কোনোটিতেই লাইফ জ্যাকেট নেই। নেই ফিটনেস সার্টিফিকেট। চালক দক্ষ বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কী না তাও জানার সুযোগ নেই। কোনো কোনো ট্রলার মালিক শুধু পর্যটকদের জন্য লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করেন। তাও আবার অর্থের বিনিময়ে। এদিকে, মধ্যনগর নৌকাঘাট থেকে শুধু তাহিরপুর পর্যন্ত স্পিডবোট চলাচল করে। এ রুটে তাহিরপুর পৌঁছাতে হলে কয়েকটি বড় হাওর পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু স্পিডবোট ছাড়ার সময় চালকসহ কেউই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করেন না। স্থানীয় স্পিডবোট সমিতির সভাপতি দুলাল মিয়া বলেন, গরম লাগে কিংবা করোনার জীবাণু থাকতে পারে এমন ভয়ে লাইফ জ্যাকেট এড়িয়ে চলেন যাত্রীরা।
আবির হাসান-২ ট্রলারের চালক সানুক মিয়া বলেন, ট্রলারে লাইফ জ্যাকেট, ফিটনেস সার্টিফিকেট রাখার বিষয়টি তার অজানা। যাত্রী বেশি হলে অতিরিক্ত যাত্রীও পরিবহন করেন বলে জানান তিনি। কলমাকান্দার যাত্রী রমজান মিয়া  বলেন, ‘বাঁচি আর মরি, বাড়িতে যাওনতো লাগব। ট্রলার ছাড়া বাড়িতে যাওয়ার বিকল্প কিছু নাই।
একই এলাকার আরেক যাত্রী রবিন মিয়া বলেন, ‘ট্রলারে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা না থাকলেও আমাদের বাধ্য হয়ে যেতে হয়।
মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের নেতা ও মধ্যনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতির অমরেশ রায় চৌধুরী বলেন, হাওরাঞ্চল পর্যটনের জন্য এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। যদি নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধ না করা যায় কিংবা তা বাড়তে থাকে তাহলে হাওর পর্যটন শিল্প বাধাগ্রস্ত হবে। মধ্যনগর থানা আওয়ামীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন  বলেন, এখনো অবাধে বাল্কহেড নৌকা চলছে। কিছুদিন আগেও দুটি বাল্কহেড নৌকার সংঘর্ষে একজন নৌশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
মধ্যনগর নৌযান মালিক সমিতির সভাপতি আরশাদ  তালুকদার বলেন, যদি নৌযান চলাচলের নিয়ম-বিধি কেউ না মানে তাকে এই নৌরুটে নৌযান চালাতে দেওয়া হবে না।
মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, ‘প্রতিটি ট্রলারের ফিটনেস ও দক্ষ চালক আছে কি না, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।
ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন বলেন, হাওর ও নদীর সব দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মেরিনকোর্ট স্থাপন ও বিআইডব্লিউটিএ-এর শাখা স্থাপন করতে হবে। সবাইকে বর্ষার সময় দুর্ঘটনা এড়াতে হাওরাঞ্চলে সতর্কতার সাথে নৌযান চলাচল করার জন্য যাত্রী, নৌ শ্রমিক ও মালিকদের সতর্ক হতে হবে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশিত গণবিজ্ঞপ্তিটি ওয়েবপোর্টাল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারসহ মাইকিং করা হয়েছে এবং নৌযানের ফিটনেস ও দক্ষ চালক নিশ্চিত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নৌপথে আর যেন দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য শূন্য সহনশীল নীতি গ্রহণ করার পাশাপাশি লাইফ জ্যাকেট সরবরাহের জন্য এডিপি থেকে বরাদ্দ পক্রিয়াধিন রয়েছে।

এই সংবাদটি 9 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ