এ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ১.৬ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

প্রকাশিত: ১:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২০

 

সু:ডাক ডেস্ক:

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। করোনাভাইরাসজনিত মহামারির নেতিবাচক প্রভাবে কারণে প্রবৃদ্ধি কমে যাবে বলে মনে করছে বৈশ্বিক এই দাতা সংস্থা। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।বিশ্বব্যাংকের এ অনুমান সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। সরকার মনে করছে, চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শমিক ২ শতাংশ। সম্প্রতি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এশিয়ার অর্থনীতি নিয়ে তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।বিশ্বব্যাংক আরও জানায়, পরবর্তী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হবে।বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ২ শতাংশ। এছাড়া তৈরি পোশাকশিল্পের চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো গত আগস্টে প্রকাশিত সাময়িক হিসেবে জানায়, ওই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ।প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে মজুরি কমে যাওয়ার প্রভাবে বেসরকারি ভোগব্যয় কমে যেতে পারে। তৈরি পোশাকের চাহিদা পুনরুদ্ধার হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স বাড়লেও তা সাময়িক মনে করছে বিশ্বব্যাংক। কোভিড-১৯ এর কারণে ফেরত আসা প্রবাসীদের সঞ্চয়ের কারণে রেমিট্যান্স এখন বাড়ছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধারা নাও থাকতে পারে।আরও বলা হয়, স্থিতিশীল পুনরুদ্ধারের জন্য দরিদ্র ও দুর্বলদের সুরক্ষা এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও চাকরি সৃষ্টির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা দরকার। এ জন্য সরকারকে উপযুক্ত আর্থিক পদক্ষেপ নিতে হবে।এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে প্রত্যাশার চেয়েও তীব্রতর অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস দিয়েছে এ প্রতিবেদন। গত পাঁচ বছর ধরে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে থাকলে এবার প্রত্যাশার চেয়ে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে।অন্যদিকে এই অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি বাড়বে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, পাকিস্তানের দশমিক ৫ শতাংশ। একইভাবে মালদ্বীপের ৯ দশমিক ৫, শ্রীলংকার ৩ দশমিক ৩, আফগানিস্তানের ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়বে। আর ভুটানের ১ দশমিক ৮ ও নেপালের দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে। ২০২১ সালে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশে ফিরবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।এসব তথ্যের ভিত্তিতে চলমান অর্থবছরে (২০২০-২১) বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে গত জুনে ঢাকায় এই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ।

 

এই সংবাদটি 6 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ