নূর-মোহাম্মদের খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষরযুক্ত স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২০

 


মিজানুর রহমান মিজান:
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মধুরাপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর নূর মোহাম্মদ হত্যা মামলার বাদী, স্বাক্ষী ও নীরিহ গ্রামবাসীদেরকে নির্যাতন, বাড়ীঘর ভাংচুর, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর প্রতিবাদে এবং হত্যাকারী দিলহক ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবীতে গনস্বাক্ষরযুক্ত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
গতকাল ২৮/১০/২০ইং বুধবার দুপুর ২ঘটিকায় দিলহক বাহিনীর নির্যাতনে অতিষ্ট মধুরাপুর ও কামালপুর গ্রামবাসীর পক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের নিকট গনস্বাক্ষরযুক্ত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মধুরাপুর ও কামালপুর গ্রামের শতাধিক ভুক্তভোগী নিহত নুরমোহাম্মদের ছবি সম্বলিত ব্যানার, পোষ্টার, প্ল্যকার্ড, নিয়ে মিছিল সহযোগে জেলাপ্রশাসকের কার্যালয় হতে ট্রাফিক পয়েন্টে বিশাল মানববন্ধনে যোগ দেয়। মানববন্ধনে খুনের মামলায় অভিযুক্ত দিলহক ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও খুনীদের ফাঁসীর দাবীতে বক্তব্য রাখেন নিহত নুরমোহাম্মদের পুত্র জখমী হীরন মিয়া, নিহতের ভাই জখমী নুরজালাল, আব্দুল খালেক তালুকদার, শিবুচৌধুরী, এনায়েত হোসেন, জখমী মুহিবুর রহমান, আবু হানিফ, আছাদুর রহমান প্রমুখ। বক্তারা বলেন হত্যা মামলা থেকে বাঁচার জন্য পলাতক আসামী দিলহক ও তার পক্ষের লোকজন নিহত নুরমোহাম্মদের আতœীয় স্বজনদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা দায়েরের লক্ষ্যে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার অনতি বিলম্বে দিলহক ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ বাহিনীর প্রতি আবেদন জানান।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের মধুরাপুর গ্রামে বিগত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ৮ ঘটিকায় স্থাানীয় শাহজালাল বাজারের মাছ বাজারে মাছ বিক্রির টাকা চাইতে গিয়ে সন্ত্রাসী দিলহক বাহিনীর হামলায় মাছ বিক্রেতা নূর মোহাম্মদ (৫০) নিহত এবং নিহতের পুত্র হীরন মিয়া গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় নিহত নূর মোহাম্মদের পুত্র হীরন মিয়া বাদী হয়ে দিরাই থানায় সন্ত্রাসী দিলহক বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (নং জিআর-১০১/২০২০)ইং দায়ের করেন।
মানববন্ধনে নিহতের পুত্র হীরন মিয়া বলেন, ঘটনার দিন সন্ত্রাসী দিলহক তার পিতা নিহত নুর মোহাম্মদের নিকট হতে মাছ কিনে টাকা না দিয়ে চলে যেতে চাইলে নিহত নুরমোহাম্মদ মাছ বিক্রির টাকা চাওয়া মাত্রই সন্ত্রাসী দিলহক হাতে থাকা সুলফি দিয়া ঘাই মারিয়া তার পিতা নূরমোহাম্মদকে প্রানে মেরে ফেলে। সংবাদ পেয়ে তার চাচা নূর জালাল সহ আতœীয় স্বজনগন ঘটনাস্থালে ছুটে আসামাত্র সন্ত্রাসী দিল হক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অশ্রসস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। ঘটনার সাথে সাথেই দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থালে যায়। আহতদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্যা কেন্দ্র ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে। নিহত নুর মোহাম্মদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল পাঠানো হয়। থানা পুলিশ ঘটঁনার সাথে সাথেই ঘটনাস্থাল হতে অস্ত্রসহ ১৫ জনকে আটক করে। পরবর্তিতে মাননীয় আদালত আরো ৩৫জনকে জেলহাজতে পাঠান।এ নিয়ে এঘটনায় মোট ৫০জন কারাগারে রয়েছে।
ঘটনার পরপর এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে ঘটনাস্থালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশরাফুল ইসলাম।

 

এই সংবাদটি 102 বার পঠিত হয়েছে