সাহিত্য পাতা

প্রকাশিত: ১:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২০

বহুব্রীহি
——– শেরগুল আহমেদ

বেদনার নিরব কান্নার প্লাবন ধারা
অস্থির প্রাণে করুণ ধ্বনির তীব্র নাড়া
জনম যেন পরম সুখের নিবিড় তাড়া
আপন মনে হয় যেন সে গতিহারা।।
লুকোচুরি খেলাঘরে জীবন গড়া
ভীষণ রকম জানে শুধ ুহেঁয়ালি করা
লাগাম যেন টানছে ধরে বাঁধন হারা
অবাক হয়ে নিচ্ছে মেনে সকল কড়া।।
সুখ দুখের দোলাচলে দোলছি মোরা
চাওয়া পাওয়ার হিসেব কষে দিশেহারা
এমন করে চলছে যে এই আজব ধরা
কেউ বুঝে আর কেউবা খুঁজে অন্য ধারা।।
এতো শাসন এতো তোষণ জীবন ভরা
আপন পর পরম স্বজন রয় অধরা
আসল নকল বুঝে শুধ শুদ্ধ যারা
নিরবধি চলছে কতো রঙের ঘোড়া।।

 

পর্দা করো অন্তরে
——– ইয়াকুব বখ্ত বহলুল

ধর্ষণ নিয়ে কথা হচ্ছে, হচ্ছে নানা মতামত ,
ধর্ষণ থেকে মুক্তি পেতে খুঁজে পেতে সঠিক পথ।
কেউ বলছে পর্দা করো শরীর ঢাকো কাপড়ে,
কারো মতে শরীরে নয় পর্দা করো অন্তরে ।

আসলে কোনটা সঠিক,কি হবে তার মাপকাঠি ,
শালীনতা অন্তরে পর্দা‌ জীবন হয় পরিপাটি।
নারী পুরুষ সবি মানুষ যদি মানি ধর্মাচার ,
অনেকাংশে কমে আসবে,ধর্ষণ নামক অনাচার।

নৈতিকতা পরিবারে, শিক্ষা দিলে সবসময় ,
সেই শিশু নষ্ট হয়না ঘটেনা তার অবক্ষয়।
নৈতিকতায় কমে আসবে, সমাজের ভুল ভ্রান্তি ,
আসুন সবাই শালীন হই ,দেশে আসবে শান্তি।

 

ললনা
——- মানিকউল্লাহ

আপন ভূবন ছেড়ে
নিজেকে ভাসিয়ে দিবে
সাগরের লোনা জলে।
এমনতো কথা ছিলনা।
ললনা
অর্ধ উলঙ্গ জামা পরে
হাইহিল জুতো পরে
নিজেকে ভাসাবে অজানা পথে।
এমনতো কথা ছিলনা।
ললনা
ঠোঁটে রক্তিম লিপস্টিক পরে
পায়ে নূপুরে ধ্বনি তুলে
মাতাল করবে রাস্তার ছেলেকে।
এমনতো কথা ছিলনা।
ললনা
শালিন জামা ছেড়ে
বোরকাটা আলমিরায় পুরে
সুট,কোট,প্যান্ট,পরে নিজেকে বিলিন করলে তার তরে।
এমন তো কথা ছিলনা।
ললনা
মিথ্যাকে সত্য বলে
মাতৃ পিতৃহীন বলে
নিজের সাথেই ছলনা করলে।
এমন তো কথা ছিলনা।
ললনা
ধর্ম কর্ম ত্যাগ করে
বাস্তববাদী বলে দাবি করে
আপন স্বত্ব হারালে।
এমন তো কথা ছিলনা।
ললনা
ভার্চুয়ালে তুমি ঝড় তুললে
অর্ধল্যাংটা ছবি আপলোড করে
জানতে চাইলে কে কে পছন্দকরে?
এমন তো কথা ছিলনা।
ললনা
তোমার কারণে তুমি কলঙ্কিত হলে
ধর্ষিত হলে ঐ অঙ্গনে
রাস্তার পাশে দাঁড়াতে হলো
ধর্ষণকারীর ফাঁসির দাবিতে।
এমন তো কথা ছিলনা।

 

অমাবশ্যার অন্ধকার
—— মোঃ ফরহাদ হোসেন সেতু

সর্বত্রই মিল‌ছে জন‌রো‌ষের বি‌স্ফোরণ,
‌পিছ‌নে তার যে র‌য়ে‌ছে হাজা‌রো কারণ।
অ‌নে‌কে হয়‌ত অ‌নেক কিছু বল‌তে চায়,
পা‌রেনা, টু‌টি চে‌পে আ‌ছে সীমাবদ্ধতায়।
খবর শুধু খুন-খারা‌বি, আত্মসাৎ, ধর্ষণ,
কবর ‌কি হ‌বেনা ত‌বে,বাঁচ‌বে আজীবন?
সাহস কেম‌নে পায় ওরা,না দি‌লে আশ্রয়,
ওরা নির্ভীক, ওরা দু‌র্জেয়, নিশ্চয়ই নয়?
দেখ‌তে লা‌গে ‌যে অ‌লি টু‌পি দাঁ‌ড়িওয়ালা,
‌ধরা পড়‌লে বুঝা যায় কী কাম‌লিওয়ালা!
গা‌ড়ি, বা‌ড়ি, নারী, আ‌ছে টাকার পাহাড়,
ক্যা‌সি‌নো না‌মে চ‌লে জুয়া,মদ পানাহার।
‌টক‌শো‌তে তোল‌ছে ঝড়, কত নী‌তিকথা,
জন মান‌বের ত‌রে তার বুক ভরা ব্যাথা!
হাদীস কোরান চ‌ষে বাউল রূপী ফাউল,
‌দিন শে‌ষে সব এক,নাই‌তো সাপ নেউল।
ওরা খবর দেখেনা, ওরা খবর প‌ড়েওনা,
ওরা খবর তৈ‌রি ক‌রে,বা‌ড়ি ভ‌র্তি সোনা।
কা‌রো আবার আ‌ছে নিজস্ব হোম লকার,
‌কেউবা দে‌শ পে‌রি‌য়ে অর্থ ক‌রে পাচার।
বাজারমূল্য যাই হোক, চিন্তা নাই ও‌দের,
পুড়‌লে পুড়ুক কপাল, দিন মজুর‌দের !
তবু মুখ বু‌ঝে সয়ে যায় ক‌রে মানববন্ধন,
‌ঘা‌চছে কি মজলু‌ম জা‌তির হৃদ ক্রন্দন?
আ‌ছে বিচার, বিচারক, আই‌নের শাসন,
কনো আঙ্গুল তোল‌ছে দে‌শের জনগণ?
শুন‌ছে কি ওরা স‌বে,যা‌দের শুনার কথা,
আর ক‌তো সীমানায় হত্যা,সীমান্ত হত্যা?
তনু, বিশ্ব‌জিৎ, আবরার, রা‌ফি, ফেলা‌নি,
‌খা‌দিজা,সাংবা‌দিক দম্প‌তি সাগর-রুনী।
আই‌নের দ্বা‌রেও নিরাপদ নয় মানবজান,
ঘু‌ষ কে‌ড়ে নিলো ইমাম, মুসল্লী, রায়হান।
হারাম রি‌জি‌কে লা‌লিত কুলাঙ্গার ঐশী,
হারামীর দল ধর্ষকদের হ‌বে তো ফাঁসী?
ছলনার দায় গেল অকা‌লে ঝ‌রে রিফাত,
‌মি‌ন্নিরাই আজ কে‌ড়ে নি‌চ্ছে বহু হায়াত।
ওসী মোয়া‌জ্জেম, প্রদীপ, আর আকবর,
‌কে‌ড়ে নিল কত সাধারণ কিংবা মেজর।
ঘুম থে‌কে জা‌গি, দে‌খি নব ক‌ষ্টের বার্তা,
ঘুমা‌তে যাই, নি‌য়ে উৎকন্ঠা,আহত সত্তা।
চিৎকার ক‌রে সবাই জানাতে চায় ব্যাথা,
হক কথা বল‌তে গে‌লে হারায় নিরাপত্তা।
আর ক‌তো দেখ‌বে হে স্বাধীন বাংলা‌দেশ,
অমাবশ্যার এ অন্ধকা‌রের নাই কি শেষ?

এই সংবাদটি 23 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ