‘মমিনুল মউজদীন সড়ক’ উদ্বোধন

প্রকাশিত: ৩:২৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২০

সুলেমান কবীর:
সুনামগঞ্জ পৌরসভার টানা তিনবারের নির্বাচিত জননন্দিত প্রয়াত পৌর চেয়ারম্যান দেওয়ান মমিনুল মউজদীন রাজা চৌধুরী’র স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘মমিনুল মউজদীন সড়ক’ নামে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ পৌরসভার জনপ্রিয় ও তারুণ্যদীপ্ত মেয়র নাদের বখ্ত গতকাল ১৫ই নভেম্বর রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় “মমিনুল মউজদীন সড়ক”-এর(পুরাতন জেলা ক্রিড়া সংস্থা কার্যালয়ের সন্মুখ পয়েন্ট থেকে হাছননগর হেসেন বখত্ চত্বর হয়ে পূর্বদিক অভিমুখে অগ্রসরমান অংশ) নাম ফলক উন্মোচন করেন। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন- দঃ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ,সুনামগঞ্জ পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো:শেরগুল আহমেদ, পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র নুরুল ইসলাম বজলু, পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মীর মোশারফ হোসেন, শিক্ষক আলী হায়দর, সাবেক কমিশনার আব্দুল্লাহ আল নোমান, ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হোসেন আহমেদ রাসেল, ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিল ফজর নুর, ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিল গোলাম সাবেরীন সাবু, ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিল শামছুজ্জামান স্বপন, ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিল আহমেদ নূর সহ সুনামগঞ্জ পৌরসভার সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিকগণ উপস্থিত ছিলেন। নাম ফলক উন্মোচনপর্ব শেষে মোনাজাত করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
উল্লেখ্য, গতকাল ১৫ই নভেম্বর ছিল সুনামগঞ্জ পৌরবাসী তথা সুনামগঞ্জবাসীর জন্য এক বিষাদময় দিন। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরের ভারি ও ঘন কুয়াশাছন্ন এই দিনে পুরো দেশ ছিল নিমজ্জিত। বৈরী আবহাওয়া ও প্রতিকূল পরিবেশে ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার সরাইলে স্ত্রী-সন্তানসহ নিহত হয়েছিলেন তৎকালীন সময়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় তিনবার নির্বাচিত জননন্দিত চেয়ারম্যান, মরমি কবি হাসন রাজার প্রপৌত্র জোছনাবাদী কবি মমিনুল মউজদীন।
দুর্ঘটনায় একই সাথে তাঁর স্ত্রী তাহেরা চৌধুরী ও ছোট ছেলে কহলিল জিবরান ও গাড়িচালক কবির মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হয়েছিলেন মমিনুল মউজদীনের বড় ছেলে ফিদেল নাহিয়ান। সিঙ্গাপুরে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন।
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় একটানা তিন বার চেয়ারম্যান থাকাকালে মমিনুল মউজদীন ছিলেন দলনিরপেক্ষ জনপ্রতিনিধিত্বের প্রবর্তক একজন রাজনীতিবিদ। প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের নিয়ে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল ‘গণঐক্য’ নামের সর্বদলীয় এক রাজনৈতিক মোর্চা। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, মাদকবিরোধী সামজিক আন্দোলনসহ সৃজনশীল নানা কর্মযজ্ঞে দেশে ও বিদেশে তিনি এক নামে পরিচিত ছিলেন।
পৌর চেয়ারম্যান থাকাকালে মমিনুল মউজদীন প্রায় দেড়দশক জোছনা রাতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সব স্ট্রিট লাইটের বাতি নিভিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতেন। তাঁর এই উদ্যোগটি তখন দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। এ জন্য তিনি জোছনাবাদী কবি-জন প্রতিনিধি বলে আখ্যায়িত হয়েছিলেন। ‘এ শহর ছেড়ে পালাব কোথায়’ ও ‘হৃদয় ভাঙার শব্দ’ নামে দুটো কাব্যগ্রন্থ রয়েছে তাঁর।
তাঁর অকাল মৃত্যুর স্মরণে ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে সর্বদলীয় নাগরিক শোকসভা হয়েছিল। গণপরিসরের সেই শোকসভায় যোগ দিয়েছিলেন জাতীয় নেতারা। সুনামগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে ২০০৭ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় নাগরিক শোকসভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন গণমানুষের নেতা বরুণ রায়(বর্তমানে প্রয়াত) । গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন, প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও দেওয়ান ফরিদ গাজী, সাবেক মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাংসদ রাশেদ খান মেনন, সাংসদ হাসানুল হক ইনু, সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংসদ সুলতান মনসুর, সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংবাদিক ও লেখকেরা অংশ নিয়েছিলেন শোকসভায়।

এই সংবাদটি 10 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ