ধর্মপাশার উকিলপাড়া-নোয়াবন্দ সড়কটির বেহাল দশাঃ সংস্কারে স্বেচ্ছাশ্রমে রিকশাচালকরা

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২০

ধর্মপাশা প্রতিনিধি:
ধর্মপাশা উপজেলায় উকিলপাড়া-নোয়াবন্দ সড়কটির বেহাল দশা। চরম দুর্ভোগ ও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিজেদের উদ্যোগে সেচ্ছাশ্রমে সাময়িকভাবে চলাচলের জন্য সড়কটিকে সংস্কার করছে স্থানীয় ১৫-২০ জন রিকশাচালক। সড়কটি ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। বুধবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সোজানা গ্রামের রিকশাচালক মোঃ রানা মিয়া (৩৫), রবিউল ইসলাম(৩৭), নোয়াবন্দ গ্রামের রিকশা চালক লিটন মিয়া (২৬) ও হযরত আলী (৫০) সহ ১৫-২০জন রিকশাচালক তাদের নিজেদের উদ্যোগে এই সেচ্ছাশ্রমে সংস্কারের কাজটি করে সড়কটিকে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে তুলেছেন। স্থানীয় রিকশাচালক মোঃ রানা মিয়া (৩৫) ও লিটন মিয়া (৩০) এর সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা যহন গাড়ি চালাইয়া মানুষদের লইয়া যাই তহন আমরার বুকডা দরহর দরহর করে কুমবালা নাজানি গাড়িডা উইল্ডা জাগা। কোনো একডা রোগী আর গর্ভবতী মহিলারে তারাতারি হাসফাতাল নিয়া জাওন জানা। এইডার লাইগ্যা আমরা নিজেরা এই কাজ করছি। সবডাত আর করতা হাত্তামনা বড় বড় গাতাডি (গর্ত) একটু বরছি আরকি।এই সড়কটির উপড় দিয়ে উপজেলার উকিলপাড়া, নোয়াবন্দ দক্ষিণ পাড়া, নোয়াবন্দ মোজার বাড়ি, সোনাজানা, মহিষের বাতান, লংকাপাথারিয়া, দূর্বাকান্দার গ্রামের প্রতিদিন প্রায় হাজারের অধিক মানুষ চলাচল করে। প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে।জানা গেছে, ২০০৪ সালে এলজিইডির অধিনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উপজেলার কৃষি ব্যাংকের সামনের মোড় থেকে নোয়াবন্দ গ্রাম প্রর্যন্ত ধর্মপাশা নোয়াবন্দ সড়কটির প্রায় আড়াই কিলোমিটার পাকাকরণ করা হয়। পরে ক্রমান্বয়ে এই সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভাঙতে থাকে। বর্তমানে এই সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।এই আড়াই কিলোমিটার সড়কেই যেন এখন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ভুক্তভোগী পথচারীদের। ভুক্তভোগী পথচারীদের প্রশ্ন এই সড়কটি সংস্কার করা কবে হবে? এই সড়কটির বেহাল অবস্থা দেখার যেন কেউ নাই।সড়কের এই বেহাল অবস্থার কারণে মানুষ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং যানবাহন চলাচলে অনেক সময় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। এমতাবস্থায় ডেলিভারি রোগীসহ গুরুত্বপূর্ণ রোগী হাসপাতালে নিতে গেলে কোওন গাড়ি পাওয়া যায় না। যার কারণে পথিমধ্যেই রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সড়কের এই বেহাল অবস্থার জন্য কোনো গাড়ি আসতে চায়না এবং আনতে গেলে দেখা যাচ্ছে ১০ থেক ২০ টাকার গাড়ি ভাড়ার মধ্যে দিতে হয় ১০০ থেকে ১২০০ টাকা।ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, ধান, সবজি, পোল্ট্রি খামারে উৎপাদিত মোরগ সহ আরও অনেক কিছু যথাসময়ে বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছেনা। যার জন্য ওইসব উৎপাদনের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেননা তারা। ফলে সল্পমূল্যে স্থানীয় ভাবে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে করে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে সড়কটির সংস্কারের জন্য প্রকল্প এসেছিল। কিন্তু প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। এতে করে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে যায়। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়। এই সড়কটি সংস্কার করা হলে এলাকাবাসী খুবই উপকৃত হবে।ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমি একাধিকবার সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করেছি। সড়কটি একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। কিন্তু অদ্যাবধি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমার জোড় দাবি যত দ্রুত সম্ভব সড়কটিকে পুননির্মাণ করে মানুষের দুঃখ লাগব করার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ আরিফ উল্লাহ খান বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের সংবাদকে মুঠোফোনে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চার বারের বন্যায় সড়কটি অনেক ক্ষতি হয়েছে বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে। তবে এই সড়কটির কাগজপত্রের ফাইল প্রাক্কলন শেষে ঢাকা অফিসে আছে। অনুমোদন হলেই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এর টেন্ডার পাশ হবে।

এই সংবাদটি 10 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ