গাঙ্গও কোন কাম কাজ নাই, জামাইও বেকার আমিও বেকার

প্রকাশিত: ২:২৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২০


হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, সুনামগঞ্জ:
গাঙ্গও কোন কাম কাজ নাই, জামাইও বেকার আমিও বেকার। ঋণ করে কয়েকমাস সংসার চালাইছি। পরে দুই মেয়ে মাজেদা ও খালেদাকে ঢাকায় গার্মেন্টেসে কাজে পাঠাইছিলাম করোনার কারণে ঢাকায় কোন কাজ না পেয়ে কয়েকদিন হলো বাড়ি ফিরে এসেছে। এখন ৭ জনের পেট কি দিয়ে চালাই। এভাবেই যাদুকাটা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে কথা হয় সাহিদাবাদ গ্রামের ৫ সন্তানের জননী আরজু বেগম। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের পর থেকে নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। কিছুসংখ্যক নারী নদী থেকে কয়লা উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করলেও বালি পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা ৮ মাস যাবৎ বেকার অবস্থায় রয়েছেন। আজ পর্যন্ত নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলনের কোন ব্যবস্থা হয়নি। পুরানগাঁও গ্রামের ৮ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক হিরন মিয়া (৪৭) বলেন, যাদুকাটা নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় নদী তীরবর্তী ৩০ টি গ্রামের শ্রমজীবীরা বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য বাইরের জেলায় গেলেও কোন কাজকর্ম না পেয়ে খালি হাতে ফেরত এসেছেন। রহমতপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুনছি সরকার বালি পাথর মহাল ইজারা দেয়নি। তাই নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলণ একবারে বন্ধ রয়েছে। কেউ একমুঠো বালি বা একটি পাথরও নদী থেকে তুলতে পারেন না। ছোট নৌযান শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদী চালু থাকলে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সুহালা, মুদেরগাঁও, ঢালারপাড়, ছরারপাড়, লাউড়েরগড়, পুরান লাউড়,জাঙ্গালহাটি, লামাশ্রম, সাহিদাবাদ, ঘাঘড়া, ঘাগটিয়া, মাহারাম, মানিগাঁও, বাদাঘাট, মোল্লাপাড়া,কান্দাহাটি,সুন্দরপাহাড়িসহ ৩০টি গ্রামের বারকি শ্রমিকরা বেকার অবস্থায় রয়েছেন। রাজারগাও গ্রামের নূর মিয়া বলেন, নদী চালু থাকলে একটি বারকি নৌকা প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার বালি উত্তোলন করতে পারতো। নদী বন্ধ থাকায় তারা এ টাকা আর উপার্জন করতে পারছেন না।
আলমগীর হোসেন বলেন, বালি পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় ৩০টি ক্রাশার মিলের শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। মিল মালিকরা পড়েছেন লোকসানের মুখে।
দেলোয়ার হোসেন বলেন. বারকি শ্রমিকরা নদী থেকে ডুব দিয়ে বালি উত্তোলন করার জন্য বেলচা,বারকি, ছাকনি রশিসহ বিভিন্ন উপকরণ কিনে বালি পাথর উত্তোলনের কাজ করেন এখন নদী বন্ধ থাকায় তারা এগুলো কম দামে বিক্রি করে সংসারের খরচ যোগাচ্ছেন।
আব্দুল খালেক বলেন, করোনাকালে মানবিক দিক বিবেচনা করে নদী থেকে বারকি নৌকা দিয়ে বালি পাথর উত্তোলনের সুযোগ করে দেয়া উচিত।
বালিপাথর ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ বালি পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় ছোটবড় শতাধিক বালিপাথর ব্যবসায়ী এখন নি:স্ব হওয়ার পথে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা বালি পাথর সরবরাহ করতে পারছেন না। বকেয়া টাকাও তুলতে পারছেন না।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, ইজারা না থাকা ও সারাদেশে বালি পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় নদী থেকে কেউ বালি পাথর উত্তোলন করতে পারছেন না। তারপরও স্থানীয় বারকি শ্রমিকদের ছোট নৌকায় করে বালি পাথর উত্তোলনের সুযোগ করে দিলে করোনাকালে শ্রমিকদের আয়-রোজগারের পথ খোলা থাকতো।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন, সারা দেশে বালি পাথর উত্তোলন বন্ধ। আমরা উত্তোলনের অনুমতি দিতে পারি না। বারকি শ্রমিকরা বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য নদী থেকে কয়লা উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। বর্তমানে নদী ইজারা দেওয়ার জন্য পত্র প্রেরণ করা হইয়াছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইবে।

এই সংবাদটি 23 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ