জমে উঠছে তিন পৌরসভার নির্বাচন দলীয় প্রতিক বাগিয়ে নিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু।

প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০২০


মিজানুর রহমান মিজান:
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সাথে সাথেই সুনামগঞ্জ সদর, জগন্নাথপুর ও ছাতক পৌরসভায় নির্বাচনী হাওয়া বেশ জোরেশোরে বইতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গত বুধবার (২ ডিসেম্বর) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষনা মোতাবেক এ তিন পৌরসভায় আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ করা হবে।

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। জানা গেছে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে থেকেই দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঢাকায় অবস্থান করছেন।
প্রবাসী অধুষ্যিত এলাকা হিসেবে পরিচিত জগন্নাথপুর পৌরসভায় বিগত দুই মাস আগে নির্বাচন হলেও আইন অনুযায়ী পৌরপরিষদের মেয়াদকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় আবার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতিক নৌকা পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন অনেকেই। পৌর নির্বাচনে জগন্নাথপুরে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, বর্তমান মেয়র মিজানুর রশিদ ভূইয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক লুৎফুর রহমান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামীলীগনেতা আকমল খান, জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শামছুল ইসলাম রাজন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন সাবেক পৌর মেয়র আক্তার হোসেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু বলেন, জেলা কমিটির নির্দেশনায় দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য আমরা সভা করেছি। তৃনমুল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিত্বে বর্তমান পৌর মেয়র মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া সহ তিনজনের মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম জেলা কমিটির নিকট পাঠানো হবে।
ছাতক পৌরসভায় বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে বলে জানা যায়।
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রায় অর্ধ ডজন নেতা মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র নাদের বখত, সাবেক পিপি অ্যাড: ড:খায়রুল কবীর রোমেন, দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, দেওয়ান গনিউল সালাদীন, দেওয়ান সাজাওয়ার রাজা সুমন এর নাম শুনা যাচ্ছে।
বর্তমান মেয়র নাদের বখত জানান, আমি বিগত সময়ে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছি। আমি আশাবাদি দলীয় প্রতিক নৌকা আমিই পাব”।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন বলেন, তৃণমূল তথা পৌর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে নাম পাওয়ার পর প্রার্থীর সকল দিক বিবেচনা করে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। প্রার্থীকে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির লোক হতে হবে। এছাড়া নির্বাচনে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন, আগামী ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরন করা হবে, এরপর তৃনমুল নেতা কর্মীর মতামতের ভিত্তিতে দলীয় প্রার্থী মনোনীত করা হবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার জানান, আগামী ২০ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন। যাচাই বাছাই ২২ ডিসেম্বর, প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর এবং ভোট গ্রহণ ১৬ জানুয়ারি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল নির্বাচনী কাজ সম্পন্ন করা হবে।

 

এই সংবাদটি 71 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ