আদালত থেকে হ্যান্ডকাফ খুলে আসামি পলায়ন,৫পুলিশ প্রত্যাহার,তদন্তকামিটি গঠিত, গ্রেফতারে মরিয়া পুলিশ।

প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২০


মিজানুর রহমান মিজান:
সুনামগঞ্জে প্রকাশ্য দিবালোকে কঠোর পুলিশী প্রহরার মধ্যে আদালতে হাজিরা দিতে আনা স্ত্রী হত্যা মামলার আসামি আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেফতারের সর্বাতœক প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। গত বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যাওয়া আসামির নাম ইকবাল হোসেন (৩৫)। সে দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের উস্তেংগের গ্রামের রমজান আলীর পুত্র। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আসামির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোর্ট পুলিশে কর্মরত ২ জন এটিএসআই ও তিন কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়। দায়িত্বপালনে অবহেলায় এই ৫ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। একই সঙ্গে কীভাবে আসামি ইকবাল হোসেন পালিয়েছে এবং এ ঘটনায় কার অবহেলা ছিল তার খুঁজে বের করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুন নবীকে প্রধান করে এবং ডিআইওওয়ান আনোয়ার হোসেন মৃধা ও শহর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মাসুদ আহমেদকে সদস্য করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে সুনামগঞ্জ শহরতলির হালুয়ারগাঁওয়ের জেলা কারাগার থেকে দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কিরনপাড়া গ্রামের মনোয়ারা বেগমকে হত্যা মামলার আসামি তার স্বামী ইকবাল হোসেনকে আদালতে হাজির করার জন্য নিয়ে আসে কোর্ট পুলিশ। পরে দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে সকলের অলক্ষ্যে পালিয়ে যায় আসামী ইকবাল হোসেন। বুধবার সন্ধ্যার পর অন্য আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ইকবাল হোসেনকে ফেরত দেওয়া হয়নি। বিষয়টি পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে জানান জেলা কারাগারের সুপার।
সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের সুপার নুরশেদ আহমেদ ভুইয়া বলেন, ‘ইকবাল হোসেনকে পুলিশ বুধবার সকালে কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু রাত ১১টা পর্যন্ত তাকে কারাগারে ফেরত দেওয়া হয়নি। কারাগার থেকে আদালতে জানতে চাইলে সেখান থেকে বলা হয়েছে আসামি পালিয়েছে’।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কিরনপাড়া গ্রামের মনা মিয়ার মেয়ে মনোয়ারা বেগমকে বিয়ে করেন ইকবাল হোসেন। বিয়ের চার বছর পর ২০১৭ সালের জুন মাসে ইকবাল হোসেন তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে খুন করে লাশ জঙ্গলে লুকিয়ে রাখে। মনোয়ারা বেগমের লাশ পচে দুর্গন্ধ বের হলে গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ১৩ জুন মনোয়ারা বেগমের মা আমিনা বেগম বাদী হয়ে ইকবাল হোসেনকে আসামি করে দোয়ারাবাজার থানায় মামলা দায়ের করে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন আছে। নিহত মনোয়ারা বেগমের মা আমিনা বেগম জানান, মনোয়ারার চার বছরের শাওন মিয়া নামের এক ছেলে রয়েছে। নাতিকে তিনি নিজেই দেখাশুনা করছেন। মনোয়ারার খুনি ইকবাল হোসেন আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যাওয়ার খবরে তিনি আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন,‘পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার আসামি ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করার জন্য সর্বাতœক কাজ করছে পুলিশ।’ তদন্ত কমিটিকে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘পুলিশ সুপার ও জেল সুপার জানিয়েছেন আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় আসামি পালিয়ে গেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’

এই সংবাদটি 210 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ