শীত ও ঠান্ডাজনিত কারণে বেড়েছে ডায়রিয়া,নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগী আক্রান্তদের বেশির ভাগ বিভিন্ন বয়সের শিশু

প্রকাশিত: ৩:৫৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০২০

হিমাদ্রি শেখর ভদ্র:
শীত ও ঠান্ডাজনিত কারণে সুনামগঞ্জে বেড়েছে- ডায়রিয়া ,নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগী। আক্রান্তের বেশির ভাগই বিভিন্ন বয়সের শিশু। বিগত ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৫৪ জন ও নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ১০৪ জন শিশু আক্রান্ত হয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে মারা গেছে ৫ জন শিশু। সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় চলতি মাসের ৬ তারিখ থেকে ১৩ পর্যন্ত সদর উপজেলার রাবারবাড়ি গ্রামের সানি (৩ মাস), সাদকপুর গ্রামের রুবেল (১৫ মাস), গুলেরগাও গ্রামের রাইয়ান (৪২ দিন) দোয়ারাবাজার উপজেলার গনারগাও গ্রামের জোহান (৪০ দিন), জামালগঞ্জ উপজেলার রাধানগর গ্রামের শিহাব (৫ মাস), আব্দুর রহমান (৫ মাস) বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের সেজোয়ান (৩৬ দিন) নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মারা যায়।
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বালাকান্দা গ্রামের সামির উদ্দিন বলেন, পরিবারের সবার অজান্তে তার মেয়ে তাঞ্জুমা বেগমের ঠান্ডা লাগে প্রথমে জ্বর ও পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। দিনের বেলায় শীত কম লাগলেও রাতে শীতের ঠান্ডার পরিমাণ বেড়ে যায় তাই তাদেও গ্রামের শিশুরা শ্বাসকষ্ট ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
ইব্রাহিমপুর গ্রামের তানিম মিয়া বলেন, তার মেয়ে রাফিয়া বেগমের হঠাৎ করে পাতলা পায়খানা ও বমি করে পরে অবস্থা খারাপ দেখে তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রতারগাঁও গ্রামের আবু তালিব বলেন, গরীব ঘরের শিশুরা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকের শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ নেই, তাই তারা আক্রান্ত হচ্ছেন।
সদর উপজেলার জগাইরগাঁও গ্রামের সোহাগ মিয়া বলেন, হাসপাতালে অনেক ওষুধ মিলে না বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে আনতে হয়। তারা শুধু স্যালাইন দেয় বাকি ওষুদের জন্য টোকা লিখে দেয়।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের জমির আলী বলেন, হাসপাতালে এসে যদি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে দিতে হয় তাহলে প্রাইভেট ডাক্তার দেখানো ভালো। এতো কষ্ট করতে হতো না। শিশুদের অভিবাবকরা জানান হঠাৎ করে শীত বেড়ে যাওয়ায় শিশুরা ঠান্ডাজনীত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন ও হাসপাতালের থেকে দুইটি ওষুধ সরবরাহ করা হলেও বেশির ভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনছেন তারা।
সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ শামছ উদ্দিন জানান, হাসপাতাল ওষুধের কোন সংকট নেই। ঠান্ডার কারণে রোগবালাই কিছুটা বেড়েছে। এসময় শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যতœবান হওয়ার পরামর্শ তার। আক্রান্ত শিশুদের শুরুতে পাতলা পায়খানা ও পরে জ্বর এবং বমি হয় তারপরই শিশুরা অসুস্থ হয়ে যায়। দিনে ঠান্ডার পরিমাণ কম থাকলে রাতে বেশি মাত্রায় ঠান্ডা পড়ায় পরিবারের সদস্যদের অজান্তেই শিশুরা ঠান্ডাজনীত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাবারদাবার গ্রহণ করায় শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। সদর হাসপাতালে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৪৬ জন ও নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে ৪১ জন শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে ২৯ জন শিশু ও বয়স্ক নারী পুরুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সিভিল সার্জন দাবি করেন, সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যে ৫ জন শিশু মারা গেছে এর জন্য ডাক্তারদের অবহেলা বা ওষুধের সংকটের কোন কারণ নেই। শিশুরা আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের অভিবাবকরা হাসপাতালে না এসে বিভিন্ন টুট্কা চিকিৎসা, কবিরাজ, গ্রাম্যচিকিৎসক দেখিয়ে রোগ ভালো না হওয়ায় মুমূূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে ওই শিশুদের চিকিৎসা দিয়ে কোন লাভ হয় না। হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ রয়েছে তারা যদি সময় মতো শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে আসতেন তাহলে শিশুদের প্রাণ রক্ষা করা যেতো। শীত মাত্র শুরু হয়েছে শিশু ও বয়স্কদের গরম কাপড় গায়ে দিয়ে থাকতে হবে। এ হাসপাতালে ওষুধের কোন সংকট নেই। তবে ইডিসিএল এর কিছু ওষুুুধের ঘাটতি রয়েছে। এসময় তিনি শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যতœ নেয়ায় পরামর্শ দেন। সিভিল সার্জন অফিসের দেয়া তথ্যে জানাযায় গেল এক মাসে জেলায় দুই শতাধিক শিশু ঠান্ডা ও শীত এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এই সংবাদটি 108 বার পঠিত হয়েছে