“বন্দেহরি” জলমহালে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে মৎস্য আহরনের অভিযোগ।

প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২০


মিজানুর রহমান মিজান :  সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার “বন্দেহরি গ্রুপ” জলমহালে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে ইজারাদার কর্তৃক মৎস্য আহরনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকাবাসী।
সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগে প্রকাশ,দোয়ারাবাজার উপজেলার “বন্দেহরি গ্রুপ” জলমহালটি একই উপজেলার মাছিমপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি:কে ভূমি মন্ত্রনালয় সায়রাত-১ অধিশাখা এর ১৫/০২/২০১৭ তারিখের ১১৪ স্মারকে ০৬(ছয়) বছরের জন্য উন্নয়ন স্কীমের আওতায় বনায়ন সৃষ্টি সহ উন্নয়ন কার্যক্রমের শর্ত সাপেক্ষে ১৪২৩-১৪২৮ বাংলা সন মেয়াদে বার্ষিক ১৬,২৩,৪৩৩ টাকা ইজারা মুল্যে ‘মাছিমপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি:’এর অনুকুলে ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু উক্ত সমিতিটি জলমহাল ইজারা প্রাপ্তির পর থেকে অধ্যাবদি উন্নয়ন স্কীমের আওতায় বনায়ন সৃষ্টি সহ কোন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করেনি। চুক্তিপত্র লংঘন করে মাছ ধরার জন্য উক্ত মাছিমপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি:কে কালো তালিকাভূক্ত করে তাদের সহযোগীতাকারী অসাধু কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন রায়নগর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি:এর সাধারন সম্পাদক সহ এলাকাবাসী।
তাছাড়া সরকারী জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি ২০০৯ ও সম্পাদিত চুক্তিপত্রের ১৬নং শর্ত ভঙ্গ করে উক্ত মাছিমপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি:এর সভাপতি আলী আহমদ সংশ্লিষ্ঠদের ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে মৎস্য আহরন করে যাচ্ছেন মর্মে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে জলমহাল তথা আশেপাশের জলাধার গুলোতে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে মর্মে জানা যায়।
এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক স্মারকনং ০৫.৪৬.৯০০০.০০৮. ৩৪.১৪১.১৩৫১ তারিখ ০২/১২/২০২০ইং মুলে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন প্রেরনের নির্দেশ দেন।
জলমহালে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মৎস্য আহরন করার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী মাওলানা আব্দুুল মজিদ বলেন, “চুক্তিপত্রের ১৬ ধারার শর্ত মোতাবেক ২০২৭ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ বর্তমান ২০২০ সালে জলমহালে মাছ ধরার কথা নয়। কিন্ত লীজ গ্রহিতা আলী আহমদ থানা পুলিশের ভয় দেখিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার মৎস্য আহরন করছে। আগে রাতে মাছ ধরতো অভিযোগ দেয়ার পর এখন দিনে ধরছে। মাছ মারার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে পুলিশ উল্টো জনগনকে মামলার ভয় দেখায়”।
এব্যপারে অভিযুক্ত ‘মাছিমপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি: এর সভাপতি আলী আহমদের সাথে একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল দিলে ও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
অপরদিকে আইন লংঘন করে মাছিমপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি:এর সভাপতি আলী আহমদ কর্তৃক জলমহালে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মৎস্য আহরন করে যাচ্ছেন এ অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ প্রতিবেদককে বলেন “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে রিপোর্টটি আমার অফিসে আজ জমা হয়েছে আমি এখনো দেখিনি। রিপোর্ট মোতাবেক পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে”।
মৎস্য সম্পদ রক্ষার্থে এবং সরকারী নীতিমালা লংঘন করে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে প্রশাসনের তরিৎ কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

এই সংবাদটি 307 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ