দিরাইয়ে চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা, চালক ৩দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত: ৩:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২১


নিজস্ব প্রতিবেদক:
দিরাইয়ে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলার মূল আসামি চালক শহিদ মিয়াকে (২৬) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার দুপুরে আমলগ্রহণকারী সুনামগঞ্জ আদালতের দিরাই জোনের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাগীব নূর বাসচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত শনিবার(২ জানুয়ারি) ভোরে সিআইডি সুামগঞ্জের পুরাতন বাসস্টেশন থেকে তাকে আটক করে। রোববার (৩ জানুয়ারি) সিআইডির হেডকোয়ার্টারে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে শহীদ মিয়াকে দিরাই থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে সিআইডি।
তার আগে ২৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে চালকের সহকারী রশিদ আহমদকে ছাতকের বুরাইরগাঁও থেকে গ্রেফতার করে সিলেটের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রশিদও ২৯ ডিসেম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জাবনবন্দী দিয়েছেন।
শহিদ মিয়া সিলেটের জালালবাদ থানার মোগলগাঁও ইউনিয়নের মোল্লারগাঁও গ্রামের তৌফিক মিয়ার ছেলে।
গত ২৬ ডিসেম্বর বিকেলে দিরাই-মদনপুর সড়কের সুজানগর এলাকায় চলন্ত বাসে দিরাই ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। নিজেকে রক্ষা করতে চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত হন ওই তরুণী। তাকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে সুজানগর গ্রামের দুই যুবক উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
মাথা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ওই কলেজছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে প্রেরণ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। ওসমানী হাসপাতালেই চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটায় ৩০ ডিসেম্বর বাড়ি ফিরেন তরুণী।
ঘটনার পরপরই পুলিশ বাসটি জব্দ করে এবং রাতেই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে বাসের চালক শহিদ মিয়া ও তার সহকারী রশিদ আহমদকে আসামি করে দিরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, এ ঘটনায় জড়িত দুজনকে আটক করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২ জানুয়ারি ওই বাসের চালক শহিদ মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার ভোর ৬টায় ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের পুরাতন বাসস্টেশনে এসে নামলে সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে শহিদ মিয়াকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে সেই বাসের হেলপার আব্দুর রশিদকে (২৭) আটক করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ২৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বুরাইরগাঁও গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
পিবিআই জানায়, আটককৃত হেল্পার আব্দুর রশিদ ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের কামরাঙ্গিরচর গ্রামের হাবিব আহমদের ছেলে। ঘটনার পরপরই তিনি ছাতকের বুরাইগাঁও গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপন করেছিল। গোপনে খবর পেয়ে পিবিআই ২৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে আব্দুর রশিদকে আটক করে। রশিদ সিলেটের জালালাবাদ থানার মোল্লারগাঁও গ্রামে তার নানা বাড়িতে থাকতো।
তবে এখনও পলাতক রয়েছে সেই বাসের গেটম্যান বক্কর।

এই সংবাদটি 12 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ