ধূলোবালি ও যানজটে ধুঁকছে সুনামগঞ্জ পৌরবাসী

প্রকাশিত: ৩:৩২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২১


মিজানুর রহমান মিজান:
একসাথে শহরের বেশিরভাগ রাস্তায় সংস্কার কাজ চলমান থাকা, যেখানে সেখানে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা, অনুমোদনহীন যানবাহনের চাপ ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করায় সুনামগঞ্জ শহর ধূলোবালি ও যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে।
যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, সমন্বয়হীনভাবে একসাথে প্রায় সকল সড়কের সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে প্রায় সময় কোন প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রাস্তাবন্ধ করে দেয়া হয় ফলে জনগণ তীব্র যানজটের ভোগান্তিতে পড়েন। যানজটের কারণে ১০ মিনিটের পথ যেতে ১ ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। এ কারণে পৌরবাসীর একদিকে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে তারা ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
ভূক্তভোগীরা জানান পৌরসভার সড়কে যত্রতত্র রিকশা, বাস, অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রীদের ওঠানো ও নামানো হয়। এসব কারণে সড়কে তীব্র যানজট হচ্ছে। এছাড়া শহরের উপর দিয়ে দিনের বেলায় চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষিত ট্রলি,ট্রাক্টর,বাস,রিকশা,অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রীদের ওঠানো ও নামানো, অবৈধভাবে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যান চলাচল, অনেক সড়কের পাশে ফুটপাত না থাকা, যত্রতত্র যানবাহন পার্কিংএর কারনে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বলেন, সড়কের দুই পাশ দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি দখল করে রেখেছে অনেক জায়গা। শহরের পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় প্রধান সড়কে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, ট্রাক, যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন অনিয়ন্ত্রিতভাবে পার্কিং সহ চলাচল করছে। এতে শহরে তীব্র যানজট হচ্ছে। শহরের পুরাতন বাসষ্টেন্ড থেকে কোর্টের সম্মুখ পর্যন্ত, কাজির পয়েন্ট, ময়নার পয়েন্ট, ষোলঘর থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত বলাকা রাস্তায় যানজট বেশি থাকে।
সরকারী ছুটির দিন ছাড়া প্রায় প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শহরে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, সড়কের সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে শহরের কাজির পয়েন্ট, কালীবাড়ী সড়ক, ট্রাফিক পয়েন্ট চত্বর, ড্রেইন নির্মাণে ধীরগতির কারণে ষোলঘর থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত রাস্তা যখন তখন বন্ধ করে দেয়ায় বাধ্য হয়ে বলাকা আবাসিক এলাকার ভিতরের সরু সড়ক ও পুরাতন বাসষ্টেন্ড হতে কোর্টের সম্মুখ পর্যন্ত সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট চলছে। যানজটের কারণে আদালতগামী ও শহরে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ফুটপাত না থাকায় মানুষ হেঁটেও যাতায়াত করতে পারছে না।
প্রবীণ আইনজীবী অমিয়াংশু চৌধুরী জানান, বর্তমানে যেভাবে জনসংখ্যা বেড়েছে ও শহরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে তাতে শহরের প্রতিটি সড়কের প্রস্থ বর্ধিত করা দরকার। সেই সাথে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা ও জরুরি। যানজটের কারণে আমার বাসা হতে কোর্ট মাত্র ১০ মিনিটের পথ যেতে সকাল বেলায় সময় লাগে ১ ঘণ্টা। উপরন্তু সড়কে ধূলা ওড়ার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বেশী, মাঝে মাঝে শ^াস নিতে ও কষ্ঠ হচ্ছে। গার্ল্স স্কুলের সামনে প্রধান সড়কে নির্মাণ সামগ্রি বালু পাথর, মাঠি ইত্যাদি ফেলে রাখা হয়েছে ফলে পথচারী যাতায়াতে মারাতœক সমস্যার সৃষ্ঠি হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমদ বলেন,সুনামগঞ্জ শহরে গত এক দশকে লোকসংখ্যা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ । সেই সঙ্গে যানবাহন বেড়েছে। কিন্তু সবগুলো সড়কের প্রস্থ বাড়েনি। অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে ঘরবাড়ি। বর্তমানে ছোট্ট এ শহর ঘিরে কয়েক হাজারের মতো ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ও মোটর সাইকেল চলে। শহরে যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় যানজট বেশি হয় সেসব এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য লোক নিয়োগ দেওয়া দরকার। এ ছাড়া যানজট দূর করতে সড়কের প্রস্থ বাড়ানো দরকার।
শহরের জামাই পাড়া এলাকার ম্যাকানিক্যল ইঞ্জিনিয়ার খছরু আহমদ এবং ডিএস রোডের ব্যাবসায়ী জুনেদ আহমদ জানান, যানজট ও ধূলার কারণে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠান খোলার পর থেকে ধুলোয় বসা যায় না। তারা আরও বলেন, সড়ক সংস্কার করতে গিয়ে সড়ক খননের মাটি ইচ্ছামতো শহরের প্রধান সড়কের ওপর দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। এতে সড়কে মাটি পড়ে ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে।এ বিষয়ে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ঠিকমতো পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ঝাড়– ও দিচ্ছেনা ফলে বাজারে স্থানে স্থানে ময়লার স্থুপ জমে আছে। নির্বাচনের কারণে সবাই ব্যস্ত তাই এসব দেখার কেউ নাই।

এই সংবাদটি 53 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ