ধর্মপাশায় সুনুই জলমহালকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে খুন-১, আটক- ২৩

প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২১

ধর্মপাশা প্রতিনিধি :
ধর্মপাশা উপজেলায় সুনুই  জলমহাল দখল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই পক্ষ। সংঘর্ষে  শ্যামাচরণ বর্মণ(৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায়   আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের আরও প্রায় ৩০ জন। সংঘর্ষের পর পুলিশ সন্দেহভাজন ২৩ জনকে আটক করেছে এবং সংঘর্ষে নিহত শ্যামা চরণ বর্মণের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের মনাই নদী প্রকাশিত  সুনই  জলমহাল দখল নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্যামাচরণ দাস উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামের বাসিন্দা ও সুনই জলমহাল মৎস্যজীবী সমিতির কো-অপ্ট (বিশেষ বিবেচনায়) সভাপতি চন্দন চন্দ্র বর্মণের বাবা। এই ঘটনায় এলাকা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনই জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে  সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুবল চন্দ্র বর্মণ ও কো-অপ্ট (বিশেষ বিবেচনায়) সভাপতি চন্দন চন্দ্র বর্মণের লোকজনের মধ্যে  দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি তারা এই জলমহলে মাছ ধরার জন্য হাওরের খলায় ঘর নির্মাণ করে অবস্থান নেয়। এরপর থেকেই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এরই জের ধরে  গত বৃহস্পতিবার  রাত ৮টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শ্যামাচরণ বর্মণ নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দুই পক্ষের ৩০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া আহতদের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ও মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সুহেল রানা বলেন, সাগর নামে একজন ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ধর্মপাশা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার  ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে।  নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত  ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি,  ওই জলমহাল নিয়ে সমিতির দুটি পক্ষের মধ্যে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। আদালতের নির্দেশে জলমহালে এখন স্থিতাবস্থা রয়েছে।

এই সংবাদটি 146 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ