~~সাহিত্য পাতা~~১

প্রকাশিত: ৩:২৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২১

প্রণয় প্রলাপ
শেরগুল আহমেদ
কে তুমি অবিরত সিঁধ কাটো প্রাণে
উঁকিঝুঁকি করো প্রণয়ের ধ্যানে
কখনো উষ্ণ আবেশ ছড়াও কানে
নিত্য নৃত্য করো শিরায় মধুর তানে।
এতো চমক এতো পুলক ক্ষণে ক্ষণে
স্বপ্নগুলো ডানা মেলে প্রজাপতির বনে
আকাশে বাতাসে স্নিগ্ধ সৌরভ অনুক্ষণে
হারিয়ে যাই অজানা সুদূর পানে।
মাতাল হাওয়ায় উড়ায়ে আঁচল চানে
জোছনা আনো আঁধার ঘরের টানে
মৌনতা ভাঙো চপল আঁখির বানে
এমন করে প্রমোদ জাগাও তনু মনে
বিলাসী তরী বেয়ে যাও সংগোপনে
নরম ঘাসের শিশিরবিন্দু কানপেতে শুনে
তিয়াসী মধুপ কি যেন বলে গুঞ্জনে
আমি জানি সেও জানে।।

আমি চলে যাব
মানিক উল্লাহ
তোমাদের প্রান্তরে ক্ষণিকের এ আশ্রয়
ক্ষণিক পরে চলে যাবো ।
চলে যাবো আমি আমার আস্থাানায়
যেখানে দানবেরা থাকবে না।
চলে যাবো আমি তোমাদের এ গ্রহ ছেড়ে
যেখানে নষ্টদের আদিপত্য থাকবে না।
আমি চলে যাব চির শান্তির ছায়া তলে
যেখানে অপরাধিরা শাস্তি পাবে।
বিশ^াস করো তোমাদের এ যুগে শ^াসনিতে কষ্ট হয়
বাতাসে ভেসে আসে কুর্কমের গন্ধ।
তাই চলে যাব আমি আমার রাজ্যে
য়েখানে সত্য ন্যায়ের কদর হবে ।
শাসকের বিচার হবে মজলুমের কাঠগড়ায়
¯্রষ্টাই হবে সৃষ্টির বিচারক।
আমি চলে যাব তাঁর কাছে
তোমাদের তৈরি জাল চিহ্ন করে।
তোমাদের রূপলাবণ্যে ভুলিব না আমি
আমি চির সত্যের পূজারী
আমি চলে যাব আমার বিশ^াস ও সত্যের কাছে।

ছুরির নিচে হাওরের জল
আপন দেবনাথ
ধারালো ছোরার নিচে হাওরের জল; রক্তাক্ত মাঠে
বিকেলের তৃণপাল গোয়ালে ফিরেনি সন্ধ্যার পথে
হিজলবনে মিটা জলের স্বাদে দুলছে হেলেঞ্চা

পানকৌড়ি ডুবে আর ভাসেনি; একা ট্রলার ঘাটে
নাইওর বুনছে নীল শাড়িতে করুণ দুধিলতা
বাউল গান ভাটাপড়ে জলডাকাতের আসরে

হাওরের মাঠে ছড়িয়ে যায় জলজ অন্ধকার
দূরের গ্রামঘরে জেগে উঠে চোরের উৎপাত
পুরোনো হ্যাজাকে চাঁদ জ্বালিয়ে জ্যোৎ¯œার জালু
শহরের ভোরে প্রান্তিক ট্রাকে বেবাক ক্লান্ত মাছ

রাতের হর্ন নিস্তব্ধতায়। দিকে দিকে ডাকাতের মুখ
ওরা খুনের রক্ত মাখে- জালু-মালুর নির্জন দুপুরে
জিপ নিয়ে হাওরের বুকে মারে ক্রম ধারালো ছুরি
মরে মরে রোপণ করি- জলবীজ, জলবীজ জলবীজ।

তুলির আঁচড়
ইয়াকুব বখ্ত বাহলুল
কথায়া মালা গাথো তুমি হবে কবি ,
রং তুলির আঁচড় কাটো হবে ছবি।
ফুল কুড়িয়ে সুতোয় গাথো হবে মালা,
কষ্ট গুলো পুষলে বুকে বাড়ে জ্বালা।
রাত্রি শেষে সূর্য উঠে হয় ভোর ,
আঁধার কেটে অমানিশা যায় দূর।
আকাশ জুড়ে মেঘে মেঘে করে খেলা
চাঁদের সাথে তারকাদের মিলনমেলা।
রাত গভীরে পূর্ণিমার ঐ চাঁদের হাসি ,
চাঁদের সাথে হাঁটছি যেন কাছাকাছি।
কনকনে শীতের রাতে শিয়াল ডাকে ,
ভোর বেলা উড়ে পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে।
সবুজ ঘাসে শিশির কণা রাশি রাশি ,
রাখাল মাঠে গরু ছড়িয়ে বাজায় বাঁশি।
সন্ধ্যে হলে ছুটছে পাখি আপন নীড়ে,
সারি সারি নৌকা বাঁধা নদীর তীরে।
# মরণ বসন্ত #
*সুলতানা রাজিয়া আছমা *
উন্মাতাল প্রণয়ের গাঁথা মালা
পড়িয়ো মোর অঙ্গে
জীবনের অবসানে সাজাবে যখন
শ্বেত বসনা রঙ্গে ।
মরণ বসন্তের চুম্বনেতে বিবশ যখন
আমার দশদিক
তখন ও ভালোবাসবে আমায়
প্রাণের ও অধিক !
উন্মুদ্র ঊষার লগ্নে আমায় রাখো তুমি
পরম আদরে আদরে
নিজেরে বিলাই তাইতো প্রিয়
তোমারই প্রণয়ের তরে ।
মোর উষ্মিলিত আঁখি পানে
চেয়ে দেখো প্রিয়
হৃদয় দিয়ে নিগুঢ় ভালোবাসা
তুমি বুঝে নিও ।
গহন বিপিন মাঝে তাকাই একান্তে
প্রিয় তোমারই পানে
কি করে ত্যাগীব তোমারই প্রণয়
ভাবি মনে মনে ।
করি যখন চিন্তন বসে নিরালায়
বারেবারে এই কথাটিই মনে ধায় !
দ্যুলোকে ভূলোকে কতো লীলাভরে চলি
মোহমায়ায় মজে আছি আখিরাতের পথ ভুলি!
তুমি আমি আমরা সবাই উচল পথের পথিক
অচল পথের যাত্রী
যেতেই হবে ছেড়ে অধিক মায়ার এই ধরিত্রী ।
বিত্ত বৈভব সব রইবে পিছনে পড়ে
চলে যাবো রিক্ত হস্তে জনমের তরে ।
ঘুচে যাবে ধরণীতে আছে যতো বিভঙ্গী বিলাস
অন্ধকার ঘরে হবে চিরস্থায়ী আবাস ।
প্রিয়তম ,খুব জানতে ইচ্ছে করে,,,,,,,,,,,!
সবাই যখন ব্যস্ত হবে নিজের কাজের তরে
তুমি ও কি ভুলে যাবে তোমার প্রেয়সিরে?
বিজন রাতে আসে যদি আমার কথা মনে
আমায় খুঁজে নিও তখন
কবি কুঞ্জের কবিতা কাননে ।
প্রিয়, রেখে গেলাম এই মিনতি
তোমার কাছে প্রণয়ের যত আকুতি।
শেষ বিদায়ের আগে তুমি একটু ছোঁয়ে দিও
আমার হাতের পরশ তুমি নিজেই নিয়ে নিও ।
মোর গোরের পাশে তুমি নিয়ম করে যেও
দু’হাত তুলে মাওলার কাছে মাফি মাঙ্গিয়ো ।
শত পয়সা দিও তুমি শত সায়েলের হাতে
ক্ষমা যদি করেন দয়াল তাদের দোয়ার বদৌলতে ।

ধর্ষকদের ফাসি চাই
প্রসূন মাহবুব
দুঃখে ভরা সত্তা আমার
বলবো খুলে কারে?
বলতে গেলে নীলচে থাবা
পড়তে পারে ঘাড়ে।

নীলচে থাবা যতই আসুক
কলম আজ আর থামবে না,
সবাই মিলে শপথ করি
ধর্ষকদের আর ছাড়বো না।

আমার দেশে আমার বোনকে
করে গুন্ডা নির্যাতন,
আর কবে ভাই জাগবি তোরা
কবে হবে সচেতন?

বীরের দেশে আমার বোনটি
আজ কেনো নয় স্বাধীন,
গুন্ডারা আজ ধর্ষণ করে
আমার বোনকে বস্ত্রহীন।

সবাই মিলে এক হয়ে আজ
ধর্ষন রোধে লড়বো ভাই,
সবাই মিলে স্লোগান তুলি
ধর্ষক পশুর ফাসি চাই।

জন্মভূমি
মাজহারুল ইসলাম
বাংলা আমার জন্মভূমি
বাংলা মাতৃভাষা,
বাংলা আমার মনের প্রদীপ
বাংলা ভালোবাসা।

সবুজ শ্যামল দেশটি আমার
চোখ জুড়ানো রেশ,
যে দিকে তাকাই সে দিকে দেখি
সৌর্ন্দযের সমাবেশ ।

এমন দেশটি নাই কোথাও
দেখতে এমন সেরা,
বাংলাদেশে জন্ম আমার
গর্বে বুকটি ভরা।

রক্ত দিয়ে কেনা আমার
বাংলাদেশের মাটি,
শহিদের রক্ত দিয়ে
হয়ে আছে খাঁটি।

আমি প্রজাপতি
মো. পারভেজ হুসেন তালুকদার

ফুলের দেশে প্রতিদিনি
উড়ি ডানা মেলে,
রঙিন আমি রঙিন দেশে
থাকি হেসে খেলে।

আমেজ রাঙা জীবন কাটে
ফুলের মধু খেয়ে,
বিকেল ভোরে মনের খুশি
আনন্দে গান গেয়ে।

দিনের শেষে ফুলের দেশে
আধার নেমে এলে,
ভয় করে জয় ঘুমিয়ে যাই
কল্প প্রদীপ জ্বেলে

লড়াই
আব্দুল্লাহ আল হান্নান
অর্থ বিত্ত নাই মোদের
মনটা ভীষণ ভারী,
বিত্তশালী নিত্যই চলে
দিয়ে দামি গাড়ি।

মাথা গোজার ঠাঁই নাই মোদের
পেটেও নাই আহার,
ধনাঢ্যদের নেই কো অভাব
ফ্রিজে নানা খাদ্যের বাহার।
নির্ঘুমতায় রাত্রি কাটে
দিন কর্ম ব্যস্থতায়,
বড় লোকের বিরাট কারবার
বুঝাও বড় দায়।

বিত্তবানদের চিন্তাও ভারী
আর কথায় কথায় বড়াই,
গরিব বলেই নিত্যই করি
বেঁচে থাকার লড়াই।

এই সংবাদটি 70 বার পঠিত হয়েছে