কারাগারে নয় বই হাতে অভিযুক্তশিশুদের পরিবারের কাছে ফেরত পাঠালেন বিচারক।

প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১

মিজানুর রহমান মিজান :
কারাগারে নয় বই হাতে শিশু অভিযুক্তদের বাবা মায়ের কাছে ফেরত পাঠালেন সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালতের বিজ্ঞ বিচার মোঃ জাকির হোসেন। একসঙ্গে ৩৫টি মামলায় ৪৯ জন শিশু অভিযুক্তকে এ্ই ব্যতিক্রমী রায় দিলেন বিজ্ঞ বিচারক। গতকাল বুধবার বেলা ১২ টায় আদালত অভিযুক্ত শিশু ও তাদের অভিবাবক, প্রবেশন কর্মকর্তা এবং আইনজীবীদের উপস্থিতিতে জেলহাজতে কারাদন্ডের পরিবর্তে ১০টি শর্ত দিয়ে অভিযুক্ত শিশুদের সুন্দর জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের এ্ই ব্যতিক্রমী রায় ঘোষনা করেন বিচারক।

এসব শিশুদের জীবনকে আরও সুন্দরভাবে গড়ার জন্য বিজ্ঞ বিচারক নি¤েœাক্ত শর্তাবলী পালনের নির্দেশ দেনঃ ১) ‘একশত মনীষীর জীবনী’ নামক গ্রস্থ পাঠ করা, ২) বাবা-মাসহ গুরুজনদের আদেশ নির্দেশ মেনে চলা, ৩) বাবা-মায়ের সেবা যতœ করা এবং কাজে কর্মে সাহায্য করা, ৪) ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, ৫) নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা, ৬) প্রত্যেকে কমপক্ষে ২০ টি করে গাছ লাগানো ও পরিচর্যা করা, ৭) অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করা, ৮) মাদক থেকে দূরে থাকা, ৯) ভবিষ্যতে কোন অপরাধের সাথে নিজেকে না জড়ানো, ১০) স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা।
আদালত রায়ের পর্যবেক্ষনে বলেন, শিশুরা হল জাতির আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারা বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে নানান মামলায় জড়িত ছিল। আদালত শিশু আইনের বাস্তবায়ন ও শিশু অধিকার রক্ষায় এ রায় দিয়েছেন। শিশুদের প্রতি বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখার জন্য অভিবাবকদের আদেশ দেন। যাতে শিশুরা আবারো অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে।
রায় ঘোষনার পর আদালতের পক্ষথেকে প্রত্যেক শিশুর হাতে ‘একশ মনীষীর জীবনী’ নামে একটি করে বই উপহার দেয়া হয়, বিচারক জাকির হোসেন এই রায়ের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরকে শিশুদের অপরাধ প্রবনতা থেকে দুরে রাখতে সুন্দর পরিবেশ দেয়ার আহবান জানান ও তাদের প্রতি যতœশীল হতে বলেন, শিশুদের উদ্দ্যেশ্যে তিনি আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত হওয়ার উৎসাহ দেন, এই মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চলমান ছিলো, রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদী এবং বিবাদী পক্ষের সকলেই। অভিযুক্ত শিশুরা বলেন, আদালতের এই রায়ের ফলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন তারা।
শিশু আদালতের পিপি নান্টু রায় বলেন, আদালতের রায়ের ফলে শিশুরা পরিবারের সংগে জীবন যাপন করে সুষ্ঠু জীবনে ফিরে যেতে পারবে। শিশু আদালতের এই বিচারক এর আগেও ১৪ জন শিশুকে শর্তযুক্ত মুক্তি প্রদান করেছেন।
প্রবেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউর রহমান বলেন, আদালতের আদেশ মেনে চলার বিষয়টি তিনি কঠোর ভাবে পর্যবেক্ষন করবেন। কেউ আদেশ লংঘন করলে আদালতে বিষয়টি তুলে ধরবেন। এর আগে যে সব শিশু প্রবেশনে মুক্তি পেয়ে পরিবারের কাছে ফিরে গেছে তারা ভালভাবে চলাফেরা করছেন।

এই সংবাদটি 145 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ