রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ প্রদান: পৌরকাউন্সিলর রাসেল কারাগারে

প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রতারণার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেয়ার অভিযোগে আটক সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র) হোসেন আহমদ রাসেলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
গতকাল সোমবার সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কুদরত-এ-ইলাহীর আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন চাইলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সুনামগঞ্জ কোর্ট ইন্সটেক্টর সেলিম নেওয়াজ জানান, এ মামলার পলাতক আসামি হোসেন আহমদ রাসেল সোমবার স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে জামিন চাইলে আদালত না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুই রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মসনদ দেয়ার মামলায় গত বুধবার (২০ জানুয়ারি) সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, প্যানেল মেয়র হোসেন আহমদ রাসেল, সহকারি কর আদায়কারী পিযুষ কান্তি তালুকদার, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধক ও স্যানিটারী পরিদর্শক মো. সেলিম উদ্দিন ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য কাওসার আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরদিন বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) আদালত থেকে জামিন নেন পৌর মেয়র নাদের বখ্ত ও আইনজীবী কাওসার আলম।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলা পাসপোর্ট কার্যালয়ে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে প্রতারণার মাধ্যমে পাসপোর্ট করতে আসেন দুই রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে একজন নারী ছিলেন। তারা টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চার ব্যক্তির সহযোগিতায় সুনামগঞ্জে আসেন। ঐ চার ব্যক্তি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। ওইদিন সকালে পাসপোর্ট করতে গিয়ে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। বিকেলে আবার ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দিতে পাসপোর্ট কার্যালয়ে গেলে কর্মকর্তারা সন্দেহ করেন। পরে দুই রোহিঙ্গা ও তাদের সহযোগী চার ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দেন পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে ঐদিনই জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার তেরানগর গ্রামের মো. ফরহাদ আহমদ (৩৬), রামনগর গ্রামের মো. নূর হোসেন (২৩), সুজাতপুর গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন (২৪) ও আমির উদ্দিনকে (২৩) আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিন্নাতুল ইসলাম তালুকদার।
এর আগে ওই দুই রোহিঙ্গা সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলীপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে স্থানীয় কাউন্সিলর হোসেন আহমদের সুপারিশে পৌরসভা থেকে জন্মসনদ নিয়েছিলেন। এ মামলায় গত ২১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এতে এজাহারভুক্ত চার আসামি ছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেল, পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী পীযূষ কান্তি তালুকদার, পৌরসভার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধক ও স্যানিটারি পরিদর্শক মো. সেলিম উদ্দিন, মেয়র নাদের বখত ও আইনজীবী কাওসার আলমকে যুক্ত করা হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলরসহ ওই কর্মকর্তারা যুক্ত রয়েছেন। পরে আইনজীবী কাওসার আলম সেটি সত্যায়িত করেছেন।
এ বিষয়ে মেয়র নাদের বখত বলেন, যে ঘটনায় তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে, সেটির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যখন এসব সনদ দেওয়া হয়, তখন তিনি ঢাকায় ছিলেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন কাউন্সিলর হোসেন আহমদ। তাই রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় তিনি কোনোভাবেই যুক্ত নন।

এই সংবাদটি 127 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ