৭৫ পেরিয়ে ৭৬এ পা রাখলেন আলহাজ্ব এম এ মান্নান

প্রকাশিত: ৩:৩২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১


সু:ডাকডেস্ক:
৭৫বছর অতিক্রম করে ৭৬বছরে পর্দাপন করেছেন দেশের কৃতি সন্তান পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান এমপি। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) হাওরপাড়ের এ কিংবদন্তি জননেতার ৭৬তম জন্মবার্ষিকী। ভাঁটি অঞ্চলের উন্নয়নের বরপুত্র ১৯৪৬ সালের আজকের দিনে এ পৃথিবীতে আগমণ করেন। ব্যক্তি, পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত এমএ মান্নান ছিলেন সাবেক সফল রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও বর্তমানে সফল মন্ত্রী। পরপর তিনবার সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে আছেন। সাংসদ মান্নান হাওরাঞ্চল ও সমগ্র সিলেটের উন্নয়নে ব্যাপক আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় সিলেটাঞ্চলের উন্নয়নযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। সিলেটের যতো বড়বড় প্রকল্প আছে প্রতিটি প্রকল্প তাঁর হাত দিয়ে পাস হয়। উন্নয়নবান্ধব এ জননেতার জন্মদিনে রহিল অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। মন্ত্রী মান্নান ১৯৪৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া গ্রামের এক স¤্র¢ান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জানা যায় জন্মের পর পিতা-মাতার স্নেহ মমতা পেয়ে এমএ মান্নান গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। জন্মলগ্ন থেকে বহু ত্যাগ তিতিক্ষা পার করে আসতে হয়েছে তাঁকে। এরই মধ্যে ঘটে যায় আকষ্মিক দূঘর্টনা। ছোটবেলায় কলেরা রোগ থেকে অলৌকিত ভাবে বেঁচে গেলেও হারিয়ে ফেলেন ছোট ভাই-বোনকে। নদীর পানি খেয়ে বড় হওয়া এমএ মান্নান গ্রামের বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রের্ণী পর্যন্ত পড়ালেখা করার পর মামার বাড়ি জেলার ছাতক উপজেলার ধারনে চলে যান। সেখানে পড়াশোনার পর মামা স্কুল শিক্ষকের বদলীজনিত কারণে তিনি আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবীলি স্কুলে ভর্তি হন। সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় এক সহপাঠীর মাধ্যমে জানতে পারেন পাকিস্তানের সারগোদা বিমান বাহিনীর বিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগের আবেদন নেয়া হচ্ছে। তিনি চট্রগ্রামে গিয়ে ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে সেখানে গিয়ে পাকিস্তানের সারগোদা বিমান বাহিনীর স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্মাতক পিজিডি (অর্থনীতি) ম্যানচেষ্টার বিশ্ববিদ্যালয় ইংল্যান্ড ও ব্রাসেলস বিশ্ববিদ্যালয় বেলজিয়াম থেকে সার্টিফিকেট ইন ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে তাঁর নির্দেশে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। পর্যায়ক্রমে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে কাজ করেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে সরকারের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং এনজিও ব্যুারোতে মহাপরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।এছাড়া জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের ইকোনমিক মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০০৩ সালে চাকরি অবসর নেওয়ার পূর্বে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। চাকুরী জীবনের ইতি ঘটলেও দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে যায় তাঁর।পরবর্তীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় নির্বাচন করতে সুনামগঞ্জ-৩ আসন জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ছুঁটে আসেন। প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুজনিত কারণে উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করেন। পরবর্তীতে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন। আওয়ামী লীগ গঠিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ লাভ করেন। এরপর থেকে পিছিয়ে পরা ভাঁটি অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেন। এসময় তাঁকে সংসদে পাবলিক অ্যাকাউন্টস সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি মহাজোট সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছিলো। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে একই আসন থেকে পুনরায় বিজয়ী হয়ে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পাওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলাকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন এক এক করে বাস্তবায়নের কৌশল অবলম্বন করেন। করে ফেলেছেন সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ সেতু ‘রাণীগঞ্জ কুশিয়ারা সেতু’ (চলমান), সুনামগঞ্জ টেক্সটটাইল ইন্সটিটিউট (চলমান), সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ (চলমান), জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজ সরকারীকরণ, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চলমান) ও কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট (চলমান) নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

এই সংবাদটি 129 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ