জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে উদ্বোধনের পূর্বেই ভেঙে পড়লো সেতু!

প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের পাগলা জগন্নাথপুর আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক কোন্দানালা নামক স্থানে একটি সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়েছে। রোববার রাতে সেতুটির ৫ টি গার্ডার ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী নিম্মমানের কাজ হওয়ায় সেতু ধসে পড়ার অভিযোগ করছেন। অপর দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর দূর্ঘটনা জনিত কারনে সেতু ধসে পড়ার কথা বলছে।
সোমবার (১মার্চ) সকাল থেকে ধসে যাওয়া সেতু দেখতে লোকজন ভীড় করছেন। সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাগলা পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুর উপজেলা অংশে একশত কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ সেতু কুশিয়ারা নদীর উপর নিমাণার্ধীন সেতুর কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুগুলোর কাজ করছে। সড়কের কোন্দানালা নামক স্থানে নির্মিত সেতুর দৈর্ঘ্য ৫০.১২মিটার ও প্রস্ত ১০.২৫ মিটার। গত এক বছর ধরে সেতুর নির্মাণ কাজ চলছিল। আগামী ডিসেম্বরে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা। সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির ৫ টি গার্ডার ধসে মাটির সাথে মিশে গেছে। কৌতুহলী লোকজন ধসে পড়া সেতু দেখে নানা মন্তব্য করছেন। ঘটনাস্থলে কথা হয় দরগাপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রওশন খান সাগরের সঙ্গে। তিনি জানান, নিম্নমানের কাজের কারণে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, এ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সুনামগঞ্জ-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক। একটি সেতু এভাবে ধসে যাওয়ায় একই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আরো সাতটি সেতুর কাজ নিয়ে আমরা চিন্তিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জগন্নাথপুর অনেক বাসিন্দারা জানান, আমরা শুনেছি মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী স্বপ্নের সেতু কুশিয়ারা সেতু এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এই সেতু যদি এভাবে ধসে পরে আমাদের স্বপ্ন আর বাস্তবায়ন হবে না। আমরা চাই কুশিয়ারা নদীর উপর নির্মাণাধিন সেতু উপর নজর রাখা প্রয়োজন, যাতে করে এভাবে আর যেন কোন সেতু ধসে না পড়ে। আমাদের সরকারের টাকার যেন এভাবে ক্ষতি না হয়। সঠিক মানে কাজ হওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএমবিল্ডার্সের প্রকল্প ব্যবস্থাপক হারুনুর রশীদ বলেন, হাইড্রোলিক জেকের মাধ্যমে গার্ডার বসানোর সময় হাইড্রোলিক জ্যাকের পাইপ ফেটে যাওয়ায় জ্যাকটি ফেল করে, যার ফলে গার্ডার পড়ে যায়। তিনি বলেন, একটি গার্ডার থেকে আরেকটি গার্ডারের দূরত্ব ২ মিটার। যে কারণে একটির ধাক্কায় আরেকটি এভাবে ৫ টি গার্ডার পড়ে যায়। তিনি কাজে কোন অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন। এতে তাদের ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে তিনি দাবি করেন। কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সেতুটির প্রায় ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ করে একটি দূর্ঘটনায় সেতুটি ধসে পড়ে। এটি নিছক দূর্ঘটনা। তার মতে একটি গার্ডারের ওজন ১৬০ টন ফলে গার্ডারটি বসানোর সময় হাইডোলিক জেকের পাইপ ফেটে যাওয়ায় ৫ টি গার্ডার ধসে পড়ে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, এটি আসলে দূর্ঘটনা। এছাড়াও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে এ কাজের জন্য কোন বিল পরিশোধ করা হয়নি।

এই সংবাদটি 97 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ