সুনামগঞ্জে সূর্যমুখী চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা

প্রকাশিত: ৪:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২১


সুলেমান কবির:
সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের পর এবার জগন্নাথপুর উপজেলায় মাটির উর্বরতার সঙ্গে আবহাওয়া অনুকূল পরিবেশের মিল থাকায় চাষাবাদে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। এবার প্রথম বারের মতো বিস্তৃত পরিসরে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করা হয়েছে। সূর্যমূখী চাষে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। জগন্নাথপুরে এবার ১৫০ একর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছেন কয়েকজন চাষী। তার মধ্যে জগন্নাথপুর সদর গ্রামের যুবক শামীম আহমদ একজন সফল কৃষক। তিনি ও তার সহযোগী কৃষক ওয়াসিম মিয়া মিলে এবার পৌর এলাকার হাসিমাবাদ হাওরে ৮ কেদার অর্থাৎ ২৪০ শতক জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছেন। তাদের এই বাগানটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত তরুন, যুবক -যুবতী ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি।চাষী শামীম আহমদ বলেন, আমরা সূর্যমুখী সম্পর্কে তেমন ধারণা পাইনি। তবে উপজেলা থেকে কৃষি কর্মকর্তারা এসে আমাদের সূর্যমুখী সম্পর্কে ধারণা দিলে এ চাষ শুরু করি। কিন্তু দর্শনার্থীদের ভিড়ে আমরা অতিষ্ঠ। ফুলগাছ দেখতে এসে ছবি তোলা, হুড়োহুড়ি করা, ফুল ছেড়া ও গাছ নষ্ট করার কারণে আমরা অতিষ্ঠ হয়েছে পড়েছি।
তিনি আরও জানান, বাগানগুলো দেখার জন্য বা একটি সেলফি তোলার জন্য প্রতিদিনই জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন উৎসুক জনতা। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের ভ্রমণপিপাসু মানুষের পছন্দের স্থানে পরিণত হয়েছে সূর্যমুখী বাগান এলাকা। ফসলের মাঠের মাঝখানে সূর্যমুখী ফুলের বাগান। ফুটে আছে হাজার হাজার হলুদ বর্ণের সূর্যমুখী ফুল। যে দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় না করার কোনো উপায় নেই। সম্প্রতি এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই বাগানটি এক নজর দেখতে ছুটে আসছেন প্রকৃতি প্রেমীরা।
সূর্যমুখী ফুল বাগানে দেখতে আসা দর্শনার্থী জাবেদ আহমদ বলেন, আসলে একসঙ্গে এতগুলো সূর্যমুখী ফুল আগে কখনো দেখা হয়নি। তাছাড়া জগন্নাথপুরে সূর্যমুখীর বাগান আগেও আমি দেখিনি তাই এখানে ছুটে আসা। দুলাল আহমদ নামের আরেকজন দর্শনার্থী জানান, কিছুদিন ধরে আমার বন্ধুবান্ধব এখানে এসে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে। সেটা আমি দেখতে পাই। আর সেখান থেকেই বাগানটি নিজের চোখে দেখার আগ্রহ জন্মে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, ২০২০-২১ সালে প্রণোদনার মাধ্যমে জগন্নাথপুর পৌরসভা সহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৫০ বিঘা জমিতে সূর্যমূখী ফুলের চাষাবাদ শুরু করি। গতবছর থেকে পরিক্ষামূলক ভাবে এ উপজেলায় সূর্যমূখী চাষ শুরু হয়। আমরা কৃষকদের উদ্বদ্বু করি। এবং সবধরনের সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছি। তাই এবার বিস্তৃত পরিসরে সূর্য মুখী চাষ করা হয়েছে। এবার ফলন ভালো হয়েছে। আগামী ২/৩ সপ্তহের মধ্যে ফসল কর্তন হবে। আশা করি কৃষক গন লাভবান হবেন। তিনি বলেন,বাগান এলাকা এখন কৃষিভিত্তিক ইকো ট্যুরিজমে পরিনত হয়েছে। কৃষকের ক্ষতি না করে এবং বাগান নষ্ট না করে ছবি তোলা এবং আনন্দঘন সময় কাটানোর জন্য দর্শনার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।কৃষি অধিদপ্তর জগন্নাথপুর কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, এ বছর কৃষি পুনর্বাসন প্রণোদনার আওতায় উপজেলার মোট ৭০জন কৃষককে ১ কেজি করে সূর্যমুখীর বীজ দেয়া হয়েছে।এছাড়াও সব কৃষককে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

 

এই সংবাদটি 152 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ