সুনামগঞ্জের হাওরের ধান খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৪:০১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২১

ইফতি রহমান:
কৃষিমন্ত্রী মো:আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, করোনার কারণে বিভিন্ন দেশের উৎপাদন কমে গেছে, আবার কোথাও কোথাও দুর্ভিক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জের হাওরের ধান দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। করোনা সংক্রমণের আতঙ্কের মধ্যে দেশের মানুষ যেন খাদ্য নিয়ে কোনও আতঙ্কে না থাকে, এটাই সরকারের চাওয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রাম সংলগ্ন দেখার হাওরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ধান কাটার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, চলতি বছর দেশে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ লাখ হেক্টর। সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে আরও ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। যেহেতু স্থানীয় জাতের ধানের চেয়ে হাইব্রিড ধানের উৎপাদন বেশি হয়, সে জন্য সরকার এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো বেশি পরিমাণে হাইব্রিড ধান উৎপাদনের। এজন্য দুই লাখ হেক্টর বেশি জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান লাগানো হয়। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার কৃষকদের প্রণোদনা দিয়েছে। সময়মতো হাওরের ধান কাটা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার হারভেস্টার রিপার মেশিনসহ কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে হাওর এলাকার কৃষদের ভর্তুকি দিয়েছে। হাইব্রিড ধান উৎপাদনের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর দেশে প্রায় তিন লাখ টন ধান বেশি উৎপাদন হবে। বাজারে ধান চালের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, গেল বার পরপর বন্যার কারণে দেশে আউশ ও আমনের উৎপাদন কম হয়েছে। তাই অগ্রহায়ণ মাসে চালের দাম বেড়ে গেছে। বাজারের চালের দাম বেশি থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা কষ্টে রয়েছেন। ধান ও চালের দাম বাড়ার কারণে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো দেশে ধানের উৎপাদন বাড়ানো। এ বছর ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করে দুই কোটি টন ধান উৎপাদন করার চেষ্টা হবে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে বোরো ধান কাটার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক আসাদুল্লাহ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সুনামগঞ্জের উপ-পরিচালক ফরিদুল হাসান। এ বছর সুনামগঞ্জের ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ মেট্রিকটন ধান। যার বাজারমূল্য সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।

এই সংবাদটি 13 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ