সাচনা বাজারে সামান্য বৃষ্টিতেই চলার অযোগ্য হয়ে পড়ে রাস্তা

প্রকাশিত: ৪:০৭ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২১


জামালগঞ্জ প্রতিনিধি:
জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে বেহেলী রোড ও বাঁধ বাজারের সড়কটি সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। অপরিকল্পিত সড়ক, দোকানপাট ও বাসাবাড়ি নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের এ বেহাল দশার জন্য দায়ী বলে এলাকাবাসী মনে করছেন। গতকাল সোমবার বেহেলী রোড ও বাঁধ বাজারের মাঝ দিয়ে সড়কের দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে এটি সড়ক নয় যেন ময়রা আবর্জনার স্তুপ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম কলমদর জানান, ভাটি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সাচনা বাজারে কয়েক শতাধিক লোকের দোকানপাট রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের প্রবেশের একমাত্র রাস্তা বেহেলী রোড ও বাঁধ বাজার রোড। বেহেলী রোডে প্রায় ২০০ মিটার এবং বাঁধ বাজারে ১০০ মিটার রাস্তাটি খানাখন্দে ময়লা পানি জমে কাদায় পরিপূর্ণ থাকে। তাছাড়া প্রায়ই এ রাস্তায় ঘটছে দুর্ঘটনা।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, করোনার জন্য এখন স্কুল-কলেজ বন্ধ। কিন্তু যখন খোলা ছিল তখন এই রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে তাদের জামা-কাপড়, প্যান্ট ও জুতা ময়লা হয়ে যায়। এ জন্য প্রায়ই স্কুল-কলেজে যেতে দেরি হয়।
যানবাহন চালকরা জানান, এ রাস্তায় চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। অকেজো হয়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।
রাস্তায় চলাচলকারী কয়েকজন পথচারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা থাকলেও কোন প্রতিকার নেই। বর্ষা ছাড়াও ময়লা পানি জমে থাকে এই সড়কে। আশপাশের বাসা-বাড়ির লেট্রিন ও ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি ড্রেন না থাকার কারণে বর্ষা ছাড়াও এ রাস্তায় ময়লা পানি সবসময় থাকে।
আশপাশের বাসা-বাড়ি ও দোকানীরা জানায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় এ রাস্তা এবং ড্রেন না থাকায় বাসাবাড়িতেও পানি উঠে যায়।
এ ব্যাপারে সাচনা বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদ আল আজাদ জানান, এ দুটি রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা ও স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীগণ আসা-যাওয়া করে থাকে। অথচ এ রাস্তার এমন বেহাল দশার কারণে সবাইকে অনেক কষ্ট করে বাজারে আসতে হয়। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি, রাস্তার দুই পাশে ড্রেনের ব্যবস্থা করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, এ সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলার এলজিইডির মাধ্যমে নতুন ড্রেন নির্মাণের জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং পুরাতন ড্রেনগুলো সংস্কারের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার লোক তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেচাকেনার জন্য বাজারে আসেন। কিন্তু বাজারে ঢুকতেই রাস্তা ভাঙ্গাচূরার কারণে সাধারণ মানুষকে কষ্ট পোহাতে হয়। সাচনা বাজার এই ভাটি অঞ্চলের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী বাজার। আমাদের উপজেলা পরিষদ থেকে ড্রেন করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এলজিইডিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যার কারণে টেন্ডার হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে। এ বাজার থেকে সরকার বাহাদুর প্রতি বছরই প্রায় অর্ধ কোটি টাকা রাজস্ব নিয়ে থাকে।

এই সংবাদটি 40 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ