রোজিনা ইসলামের বিষয়টি কোনভাবেই সৎ সরকারি কর্মকর্তা, সরকার এবং দেশের জন্য সুখকর নয়”—–পীর মিসবাহ এমপি।

প্রকাশিত: ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ, মে ২১, ২০২১

মিজানুর রহমান মিজান: অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট: সারাদেশের এই মুহুর্তের তুমুল আলোচিত সমালোচিত একটি বিষয়।
এই অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট সম্পর্কে মহান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও সুনামগঞ্জ- ৪ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য জননেতা পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ষ্টেটাসে “রোজিনা ইসলামের বিষয়টি কোনভাবেই সৎ সরকারি কর্মকর্তা, সরকার এবং দেশের জন্য সুখকর নয়” মর্মে মন্তব্য করে কিছু গুরুত্বপুর্ন ও অজানা তথ্য তুলে ধরেছেন। পাঠকদের জ্ঞাতার্থে তাঁর মুল্যবান তথ্য সমৃদ্ধ লিখাটি হুবুহু তুলে ধরলাম:
“অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বৃটিশ শাসনামলে প্রণয়ন করা হয়। ১৮৯৯-১৯০৫ সাল পর্যন্ত লর্ড কার্জন যখন ভারতবর্ষের ভাইসরয় তখন এই আইনটি হয়।
কয়েক দফা সংশোধিত হয়ে ১৯২৩ সালে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট জারি হয়। বৃটিশরা ভারতবর্ষের মানুষকে শাসন করত।
ভারতবর্ষের অনেকে কাজ করতেন বৃটিশ প্রশাসনে। মুলত প্রশাসনে কাজ করা ভারতবর্ষের লোকজনের প্রতি অবিশ্বাস থেকে বৃটিশ শাসকরা এই অ্যাক্ট জারি করে।
১৯২৩ সালের এই আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ স্থানে যদি কেউ যায় বা যেতে উদ্যত হয় কিংবা ওই স্থানের কোনো নকশা বা স্কেচ তৈরি করে বা কোনো গোপন তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশ করে তবে সে অপরাধী হবে।
৩(ক)ধারায় বলা হয়েছে যে,নিষিদ্ধ স্থানের কোন ফটো, স্কেচ বা নকশা কেউ প্রকাশ করতে পারবেনা।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের আগে বাংলাদেশে এই আইনে কোন মামলা হয়নি।
সাংবাদিকদের জন্য বাংলাদেশের সচিবালয় গোপন কোন স্থান নয়।সচিবালয়ে যাবার জন্য সাংবাদিকদের পাস দেয়া হয়।সাংবাদিকরা সেখানে তথ্য সংগ্রহের জন্য যান।সেটা জেনেই তাদের সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে।নিশ্চয় সাংবাদিকরা সেখানে বেড়ানোর জন্য যাননা।
ভারতে একবার মন্ত্রীসভার গোপন নথি ফাঁস হয়ে যাবার ভিত্তিতে একজন সাংবাদিক মি.সাইকিয়া একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে তখন অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা হয়েছিল।

দিল্লী হাইকোর্ট সেই মামলায় মি.সাইকিয়াকে অব্যাহতি দিয়ে বলেছিল, কোন নথি ফাঁস হলে সেটিকে ‘গোপন’ আখ্যা দিয়ে একজন সাংবাদিককে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতায় দোষী করা যায়না।

রোজিনা ইসলামের বিষয়টি কোনভাবেই সৎ সরকারি কর্মকর্তা, সরকার এবং দেশের জন্য সুখকর নয়।

এই সংবাদটি 118 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ