সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সভা

প্রকাশিত: ৪:১৬ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২১

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী ও সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম’কে হেনস্তা, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নি:শর্ত মুক্তি সহ সারা দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের-হয়রানির ও স্বাস্থ্যা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে সভা অনুষ্টিত হয়েছে।
শুক্রবার (২১ মে) বিকাল ৩টায় স্থাানীয় পৌর পয়েন্টে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় গণমাধ্যম কর্মী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শতাদিক জনসাধারন অংশ নেন। জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব সভাপতি জহিরুল ইসলাম লালের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক রিয়াজ রহমানে পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. কায়েস চৌধুরী, পিজিপি নিউজ এর চেয়ারম্যান আলহাজ¦ শাহ নুরুল করিম. জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মো. হুমায়ূন কবির, প্রচার সম্পাদক মো. ইয়াকুব মিয়া, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবীর ফরীদি, সাংবাদিক মো. আব্দুল ওয়াহিদ, জগন্নাথপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ হিফজুর রহমান তালুকদার জিয়া, দৈনিক শ্যামল সিলেটের জগন্নাথপুর প্রতিনিধি গোলাম সারোয়ার, সাংবাদিক মো. মুকিম উদ্দীন, জগন্নাথপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. আমিনুর রহমান জিলু প্রমূখ।
এ সময় উপস্থিাত ছিলেন, জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব এর দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব দেবনাথ, বাংলা টিভির জগন্নাথপুর প্রতিনিধি গোবিন্দ দেব, সিলেট প্রতিদিনের জগন্নাথপুর প্রতিনিধি দুলন মিয়া, সাংবাদিক ইকবাল হোসেন, সুজাত আলী, রুম্মান আহমদ, জামাল হোসেন, রনি মিয়া, আশরাফুল রহমান রিয়াদ, জাতীয় পার্টি নেতা আব্দুর রহমান ও জাতীয় যুব সংহিত জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রফিক উদ্দীন সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার শতাদিক জনসাধারন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রোজিনা ইসলাম করোনার এই মহামারির সময়ে স্বাস্থ্যা বিভাগের সব অনিয়ম, দুর্নীতি, অবস্থাাপনা নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছেন। রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্যা বিভাগের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়েও প্রতিবেদন করেছেন। এতে স্বাস্থ্যা মন্ত্রণালয়ের লোকজনের ব্যক্তিগত অনেক ক্ষতি হয়েছে। সচিবালয়ের স্বাস্থ্যা মন্ত্রণালয় পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করেছেন, যা কোনোভাবেই স্বাস্থ্যা মন্ত্রণালয় করতে পারে না। তাঁরা রোজিনা ইসলামের নয়, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছেন। স্বাস্থ্যা মন্ত্রণালয় এভাবে কোনো সাংবাদিককে আটকে রাখতে পারে না। বক্তরা আরো বলেন, রোজিনা ইসলাম সৎ, সাহসী ও পরিশ্রমী সাংবাদিক। তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, তা গুপ্তচরবৃত্তির। গুপ্তচরবৃত্তি আর সাংবাদিকতা এক নয়। যে আইনে মামলাটি করা হয়েছে, আইনটি মৃত। সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংবাদিকেরা মনে করেন, রোজিনার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। সম্প্রতি রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্যা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ম, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাাপনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন করেছেন। এই আক্রমণ এ ঘটনারই প্রতিহিংসা কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ক্ষমতা ও আইনের অপব্যবহার করার মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকেই শুধু লঙ্ঘিত করা হয়নি, এই ঘটনা প্রশাসনের সুশাসনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নারী সমাজ যখন প্রশাসন, সাংবাদিকতাসহ সব ক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছে, তখন একজন উচ্ছপদস্থ নারী কর্মকর্তার রোজিনা ইসলামের ওপর এহেন বর্বর আচরণ সুষ্ঠু তদন্তের দাবি রাখেন বক্তারা।

এই সংবাদটি 57 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ