বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম চড়া

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২১


সু:ডা:ডেস্ক:
বছরের শুরু থেকেই অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম ছিল চড়া। এর মধ্যে ভোক্তাদের সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে ভোজ্য তেল, চাল, ডাল, পিয়াজ, মাছ-মাংস ও সবজিসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যের দামে। এ অবস্থায় এবার বাজেট পাসের আগেই বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত ৫-৬ দিনের ব্যবধানে বাজারে কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। যদিও সেটি বাজেটের প্রভাব নয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। আর ভোক্তাদের অভিযোগ, সাধারণত বাজেটে যেসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কথা বলা হয়, শুধু সেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বাজেটের হুজুগে সবকিছুর দামই অন্যায্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। অথচ যেসব পণ্যের দাম কমানোর কথা সেগুলো কার্যকর হয় না।
এ অবস্থায় নিত্যদিনের খাবারের চাহিদা মেটাতে চাপে পড়ে স্বল্প আয়ের মানুষেরা। এবার করোনার কারণে এমনিতেই অনেকের আয় কমে গেছে। ফলে নিত্যপণ্যের দামে লাগাম টানা না গেলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়বে সাধারণ মানুষ।
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে গাজর ও মাশরুম আমদানিতে শুল্ক হার বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। সেইসঙ্গে গাজর, মাশরুম, কাঁচামরিচ, টমেটো, কমলা ও ক্যাপসিকামের ন্যূনতম শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া বাজেটে শিল্প লবণ আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক হার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করা মাংস আমদানিতে শুল্কহার বৃদ্ধি ও ন্যূনতম শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এ দু’টি পণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে জানায় ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এসব পণ্যে এখন পর্যন্ত বাজেটের প্রভাব খুব একটা না পড়লেও বাজেট পেশের এক সপ্তাহ আগেই কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাজারে বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভোজ্য তেল ও পিয়াজের দাম। এ ছাড়া চাল, আটা, ময়দা, রসুন ও ডালের দাম গত এক সপ্তাহ থেকে আরেক দফা বেড়েছে। এ ছাড়া মাছ, মাংস বিশেষ করে গরুর মাংস ও দেশি মুরগির দাম এখনো চড়া। ওদিকে বেড়েছে গুঁড়োদুধের দাম।
কচুক্ষেত বাজারে আমিনুল নামের একজন ক্রেতা বলেন, করোনার মধ্যে চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তি। গত রমজানে যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে সেগুলো এখনো কমেনি। বরং বাড়ছে। গরুর মাংস রমজানের আগে ৫০০-৫৫০ কেজিতে কিনেছি। কিন্তু রমজান ও ঈদে গরুর মাংসের দাম ৬০০ টাকা করা হয়। সেই দামে এখনো চলছে। কমানোর তো কথাই নেই, বরং পারলে আরও বাড়ায়। এসব দেখার যেন কেউ নেই। গরুর মাংস সহ কিছু মাছের দাম এখনো চড়া। যা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তিনি আরো বলেন, বাজেটে কোনো কিছুর দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গেই বেড়ে যায়। কিন্তু কোনোকিছুর দাম কমলে সেটা সহজে কার্যকর হয় না। অথচ সরকারের এসব বাজার মনিটরিং করা উচিত ছিল। এই বাজারের একজন মুদি দোকানি বলেন, বাজেটে কোনো কিছুর দাম কমলে সেটা পাইকারি বাজার থেকে কমার কথা। পাইকারি বাজারে কমলে সেটা তিন থেকে চারদিন পর কার্যকর হয়। যদিও রাজধানীর বাজারগুলোতে আটা, ময়দা, মসুর ডাল ও সিগারেটের মতো কিছু পণ্যের দাম বাজেট পেশের আগেই বেড়েছে।
ওদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চিকন, মাঝারি ও মোটা সব ধরনের চালের দাম গত তিনদিনের ব্যবধানে কেজিতে আরও ১ থেকে ২ টাকা বেড়ে গেছে। দাম বেড়ে চিকন চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৬ টাকায়, যা দুইদিন আগেও ৬০ থেকে ৬৪ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। গরিবের মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকায়, যা আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। কাওরান বাজারের জনতা রাইসের স্বত্বাধিকারী আবু ওসমান বলেন, বোরোর নতুন চাল বাজারে আসার পরেও চালের বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। নতুন চালের দাম কিছুটা কম হলেও পুরান চালের দাম বেশি। মিরপুরের ১৪ নম্বরের চাল ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিন বলেন, বাজেটের কারণে মোটা চালের দাম বেড়েছে। মিনিকেট চালের দাম যেটুকু কমেছিল বাজেটের পর সেটা আগের দামে ফিরে গেছে। মোটা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা। এ ছাড়া চালের পাশাপাশি দাম বেড়েছে আটা ও ময়দার দাম। ৩২ থেকে ৩৪ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া এক প্যাকেট আটার দাম বেড়ে এখন ৩৪ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেট ময়দার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৬ টাকায়, যা আগে ছিল ৪২ থেকে ৪৪ টাকার মধ্যে।
অন্যদিকে ভোজ্য তেল কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, যা গত শুক্রবার ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকার মধ্যে। আর পাম সুপার বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়, যা আগে ১১৫ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। জানা যায়, বাজেট পেশের আগেই দাম বেড়েছিল সয়াবিনের। তবে বাজেটের পরদিন বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বড় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছেন আগেই। বাজেট উপলক্ষে আগে থেকেই সয়াবিনের বাড়তি দামের বোতল বাজারে এসেছে। বাজেট পেশের আগের দিন পর্যন্ত ৫ লিটার বোতলের সয়াবিন বিক্রি হয়েছিল ৬৬৫ টাকায়। আর এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৭২৮ টাকায়।
এ ছাড়া পিয়াজের দাম দুই দফায় আরও বেড়ে গেছে। গত শুক্রবার ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি পিয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। সাধারণ হাইব্রিড পিয়াজ গত বৃহস্পতিবার থেকে বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫২ টাকায়। এর সঙ্গে বেড়েছে রসুনের দাম। আমদানি করা রসুনের দাম বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যা গত শুক্রবার ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে ছিল। একইভাবে বাজারে মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এর বাইরেও কিছু পণ্যের দাম এখনো বেশ চড়া। গরুর মাংস ৬০০ টাকা কেজির নিচে কেনা যাচ্ছে না। ব্রয়লার মুরগির দাম নাগালের মধ্যে থাকলেও দেশি মুরগির দাম বেশি। অন্যদিকে মাছের বাজারও চড়া বলে জানান ক্রেতারা।
ওদিকে হঠাৎ করে বেড়েছে সবজির দাম। বিক্রেতারা জানান, বেগুনের দাম বেড়ে দ্বিগুণের কাছাকাছি হয়েছে একদিনে। মিরপুরে খুচরা বাজারে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৪০ টাকায় বিক্রি করা শসা এখন ৬০ টাকা। ৩৫ টাকার লাউ হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। সজনি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি। যা ৫-৬ দিন আগে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এই সংবাদটি 10 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ