সুনামগঞ্জ সহ সিলেট বিভাগে স্থাপিত হচ্ছে নতুন ৬টি হাইওয়ে থানা

প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২১


ইফতি রহমান:
নিরাপদ সড়ক গড়তে সিলেট বিভাগে নতুন ৬টি হাইওয়ে থানা স্থাপন হচ্ছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩টি, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় একটি করে হাইওয়ে থানা স্থাপিত হবে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাইওয়ে থানার সংখ্যা দাঁড়াবে ১১টি। হাইওয়ে পুলিশ, সিলেট রিজিওন’র পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ জানান, সিলেটের সড়ক সমূহে দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে নতুন এসব থানা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি স্থান নির্ধারণের কাজও চলছে। কয়েকটি এলাকা এরই মধ্যে পরিদর্শনও করা হয়। মহাসড়কের যেসব এলাকা বেশি দুর্ঘটনা প্রবণ কিংবা যানজট ও অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হয়-এসব পর্যালোচনা করে স্থান নির্ধারণ করা হবে। এসব দিক চুলচেরা বিশ্লেষণের পর হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। সূত্র জানায়, সিলেটের বিয়ানবীবাজারের চারখাই, কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় ও হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর হাইওয়ে থানা স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। সিলেট জেলার চারখাই হাইওয়ে থানার আওতাভুক্ত থাকবে সিলেট-জকিগঞ্জ মহাসড়কের হেতিমগঞ্জ থেকে বিয়ানীবাজার, চারখাই থেকে জকিগঞ্জ ও সুতারকান্দি পর্যন্ত এলাকা। এই থানার অফিস থাকবে বিয়ানীবাজার ও জকিগঞ্জের মিলনস্থল চারখাই বাজারে। কোম্পানীগঞ্জের বর্ণি এলাকায় নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের বিপরীতে স্থাপন করা হবে ভোলাগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিস। এই থানার আওতায় থাকবে সালুটিকর থেকে ভোলাগঞ্জ এবং সালুটিকর থেকে গোয়াইনঘাট সড়ক। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরের ফরিদপুর মৌজায় স্থাপন করা হবে ফেঞ্চুগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিস। এই থানার আওতায় থাকবে মোগলাবাজার থেকে রাজনগর ও কুলাউড়া সড়ক পর্যন্ত। সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা-মধ্যনগর-জামালগঞ্জ সড়কের জন্য স্থাপন করা হবে জামালগঞ্জ হাইওয়ে থানা। এই থানার অফিস থাকবে জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে। তবে, এই মহাসড়কটি বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে বলে হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-জুড়ীসহ আশপাশের সড়কের জন্য স্থাপন করা হবে কুলাউড়া হাইওয়ে থানা। কুলাউড়া উপজেলা সদরে হবে এই থানার অফিস। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সদরে হবে মাধবপুর হাইওয়ে থানার অফিস। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের হবিগঞ্জের শেষ সীমানা মাধবপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়কের এই অংশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এই হাইওয়ে থানা। সূত্র জানায়, প্রতি হাইওয়ে থানায় সম্ভাব্য জনবল কাঠামোতে রয়েছে- ১ জন পরিদর্শক, ৩ জন উপ-পরিদর্শক, ১ জন সার্জেন্ট, ৪ জন সহকারি উপ-পরিদর্শক, ২৫ জন কনস্টেবল। এছাড়া, ১টি ডাবল কেবিনের পিক-আপ ও ২টি মোটর সাইকেলও বরাদ্দ থাকবে প্রত্যেকটি থানার জন্য। গত বৃহস্পতিবার হাইওয়ে পুলিশের সিলেট রিজিওন’র পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ সিলেটের ৩ থানার সম্ভাব্য স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি স্থানীয় বিশিষ্টজনদের সাথে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনাও করেন। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে হাইওয়ে পুলিশের থানার অফিস নির্ধারণে পরামর্শও গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে সিলেট জেলায় তামাবিল হাইওয়ে থানা, মৌলভীবাজার জেলায় শেরপুর হাইওয়ে থানা ও সাতগাঁও হাইওয়ে থানা, সুনামগঞ্জ জেলায় জয়কলস হাইওয়ে থানা এবং হবিগঞ্জ জেলায় শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট বিভাগে মহাসড়কের তুলনায় বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে হাইওয়ে পুলিশকে পাওয়া যায় না। দূরত্ব, যানবাহনের সীমাবদ্ধতার ফলে হাইওয়ে পুলিশের আগে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারী ভোরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের রশিদপুরে সিলেট গামী লন্ডন এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী এনা পরিবহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে চিকিৎসক, ব্যবসায়ীসহ ৮ জন নিহত হন। সংঘর্ষে গাড়ী দু’টির চালকও নিহত হন এবং গাড়ী দু’টি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনার পর প্রথমে স্থানীয় জনসাধারণ ও পরে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এত ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরও হাইওয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে পারেনি। তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, কোন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। আমাদের সাধ্য অনুযায়ী উদ্ধার তৎপরতাসহ অন্যান্য কার্যক্রমও করি। নতুন হাইওয়ে থানা স্থাপন হলে সড়কে দুর্ঘটনা ও যানজট কমবে বলে তার ধারণা। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিশু বলেন, মহাসড়কে তুলনামূলকভাবে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা কম। কেবল নতুন থানা করলেই হবে না ; জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হবে। যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিক যাতে তাদেরকে পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য হাইওয়ে পুলিশকে এ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে হবে। এর ফলে হতাহতদেরকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া যাবে। অনেকের জীবন রক্ষা পাবে।

 

এই সংবাদটি 84 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ