সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইন বাস্তবায়নের দাবীতে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত।

প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২১


মিজানুর রহমান মিজান:
সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইন বাস্তবায়নের দাবীতে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। রোববার দুপুরে শহরের চেম্বার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খায়রুল হুদা চপলের সভাপতিত্বে এই ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বলা হয়, বহুমুখী সম্ভাবনা থাকা সত্বেও যোগাযোগ অবকাঠামোগত কারণে এখনো সুনামগঞ্জের ব্যবসা বাণিজ্য আশানুরূপ সম্প্রসারণ হচ্ছে না। অতীতের মতো ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ উদ্যম আছে, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আমরা আজো পিছিয়ে আছি। এখনো আমাদের একমাত্র প্রধান ব্যয়বহুল পরিবহন ব্যবস্থা সড়কপথ। তাই সহজে কম খরচে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিপুল ব্যয়ের এই সড়কপথই আমাদের ভরসা। এখন সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প যখন আমাদের সামনে বাস্তবায়ন রূপে ধরা দিয়েছে তখন আমাদের বহুল কাঙ্খিত এই উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অপরাজনীতি হোক আমরা চাই না। চাই না আমাদের স্বপ্নের দাবিটি মুখ থুবড়ে পড়ে থাকুক। আমরা তাই জনপ্রতিনিধিদের এ নিয়ে রাজনীতি না করে কিভাবে দাবিটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় সেই আহ্বান জানাতে চাই। আমরা চাই না আমাদের সজ্জন রাজনীতিবিদ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানকে পাশ কাটিয়ে বাহিরের কোন মন্ত্রীকে অযাচিতভাবে ডেকে এনে পানি ঘোলা করার রাজনীতি করুন আমাদের জনপ্রতিনিধিরা। আমাদের দাবি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর টেকনিক্যাল এক্সপার্টরা যেদিকে রেললাইন সম্প্রসারণের মতামত দিবেন আমরা সেদিকেই বৃহত্তর স্বার্থে রেললাইন সম্প্রসারণ কার্যক্রম মেনে নিবো। আমরা উন্নয়ন থেকে আর বঞ্চিত থাকতে চাই না। চাই না আমাদের স্বপ্নের প্রকল্পের বিলম্ব হোক। করোনা মহামারীকালে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা সংকটে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি। তবে এর মধ্যেই সিলেট সুনামগঞ্জ মোহনগঞ্জ রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্পের আলোর মুখ দেখায় আমরা আশাবাদী হয়ে উঠি। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শন ও সমতায় পিছিয়ে পড়া হাওর জনপদ হিসেবে আমরাও উন্নয়নের মূল ধারাতে চলে আসি। সারাদেশের উন্নয়নের দরজা খ্যাত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আমাদের সজ্জন রাজনীতিবিদ এম এ মান্নানকে গুরু দায়িত্ব দেন আমাদের নেত্রী ও বাংলাদেশের উন্নয়নের রোল মডেল জননেত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে মাননীয় মন্ত্রী জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, ব্যবসাসহ নানা ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জকে জাতীয়ভাবে উন্নয়নভাবে সমতায় নিয়ে আসতে কাজ করছেন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যবৃন্দও সাধ্যমত উন্নয়নের কাজ করছেন। অল্প সময়ের মধ্যে স্বপ্ন দেখা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ, টেক্সটাইল ইনস্টিউট, উত্তরের দুয়ার খ্যাত যাদুকাটায় শাহ আরেফিন-অদ্বৈত সেতু, দক্ষিণের দুয়ার খ্যাত কুশিয়ারা সেতুসহ নানা ধরনের স্থাপনা আমাদের সামনে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। আরো বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নেও আমরা ভাবতে শুরু করি। এর মধ্যে আমাদের স্বপ্নের প্রকল্প সুনামগঞ্জ রেললাইন সম্প্রসারণ কাজও এগুতে থাকে। আন্ত মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাছাই কার্যক্রমও চলে। এই অবস্থায় উত্তর ছাতক ও দোয়ারাবাসী দাবি করেন ছাতক শহর থেকে সুনামগঞ্জ শহর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের। অন্যদিকে জাউয়াসহ দক্ষিণ ছাতকবাসী দাবি করেন গোবিন্দগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ শহরে রেললাইন নিয়ে আসার জন্য। তাদের যুক্তি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এই পথ উপযুক্ত। জনগণের বিভক্ত অংশের দাবির প্রতি কণ্ঠ মিলান জনপ্রতিনিধিরাও। সম্প্রতি এই বিতর্কে জড়ান আমাদের সুনামগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ ২ আসনের সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা, সুনামগঞ্জ ৪ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার। তারা উত্তর ছাতকবাসীর দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে ছাতক পৌর শহর থেকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরে রেললাইন সম্প্রসারণের জন্য রেলমন্ত্রী বরাবর দাবি জানান। এই দাবিকে অযৌক্তিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের মন্ত্রী এমএ মান্নানকে পাশ কাটিয়ে সিলেট শহরের আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়কে যুক্ত করে আরও বিতর্ক বাড়িয়ে তুলেন। এতে সাধারণ মানুষজনের সাথে আমাদের ব্যবসায়ী সমাজ মর্মাহত। তাই সাধারণ জনগণের সঙ্গে আমাদের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যেও শঙ্কা দেখা দিয়েছে যে রেললাইন সম্প্রসারণের প্রকল্প আবারও বিলম্বিত হবে। রাজনৈতিক হিংসার কারণে থাকবে আমাদের কাক্ষিত দাবিটি। আমাদের ব্যবসায়ী সমাজের ¯পষ্ট বক্তব্য হলো- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তার টেকনিক্যাল এক্সপার্টরা যেদিকে বৃহত্তর স্বার্থে রেললাইন সম্প্রসারণ করবেন আমরা সেদিকেই মেনে নেব। কারণ এ নিয়ে অপরাজনীতি করে আমরা আর উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে থাকতে চাই না। আমরা চাই সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইনের মাধ্যমে আন্তজেলা যোগাযোগ সম্প্রসারিত হোক। ব্যবসা-বাণিজ্যও যোগাযোগের প্রসার ঘটুক। আমাদের ব্যবসায়ী সমাজের দাবি মাননীয় ৫ জন সংসদ সদস্যদের কাছে তারা যেভাবে আগে মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের নেতৃত্বে মিলেমিশে জেলার উন্নয়নে কাজ করেছেন আবারও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় মিলেমিশে কাজ করবেন। তাহলেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা হবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহ সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি খন্দকার মঞ্জুর আহমেদ, পরিচালক শংকর চন্দ্র দাস, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও এফবিসিসিআই’র কার্যনির্বাহী সদস্য মো:এনামুল হক, সাধারণ সদস্য মো.জিয়াউল হক, পরিচালক নুরুল ইসলাম বজলু, জিএম তাহশিজ, নূরে আলম, রাজিব রায়, সবুজ কান্তি দাস প্রমুখ।

এই সংবাদটি 177 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ