১০ নম্বর প্রজ্ঞাপন জারি: খুলে দেওয়া হলো সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২১


মিনহাজ অভি:
অবশেষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সাপেক্ষে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও আদালত খুলে দেওয়া হলো। সংক্রমণ ঠেকাতে যা ১২ এপ্রিল থেকে বন্ধ রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে, বিধিনিষেধের মেয়াদ বেড়েছে ১৫ জুলাই পর্যন্ত। বুধবার (১৬ জুন) এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। জানা গেছে, বুধবারের প্রজ্ঞাপনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত ১০ নন্বর প্রজ্ঞাপন। ১২ এপ্রিল থেকে আগের ৯টি প্রজ্ঞাপনে ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হয় মার্কেট, শপিংমল, হাটবাজার, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট, মেট্রোপলিটন ও আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস ইত্যাদি। খুলে দেওয়া হয় ব্যাংক, বীমা ও শেয়ারবাজারও। দাবির মুখে খুলে দেওয়া হয়েছে খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁ। ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি ও সরবরাহ করতে পারবে এগুলো। বসাতে পারবে আসন সংখ্যার অর্ধেক গ্রাহক। আন্তঃজেলাসহ সব ধরনের গণপরিবহন আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে অবশ্যই যাত্রীসহ সবাইকে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। তবে এখনও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র, পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার। মানুষের সমাগম হয় এ ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানেও (বিয়ের অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পিকনিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান) আছে নিষেধাজ্ঞা। প্রসঙ্গত, গতবছরের ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। কয়েকবার খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সংক্রমণ বাড়ায় তা সম্ভব হয়নি। সবশেষ গত ১৩ জুন আরেকদফা বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। উল্লেখ্য, সংক্রমণ ঠেকাতে ১২ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি অফিস বন্ধই ছিল। তবে সচিবালয়ে শুরু থেকেই কাজ চলেছে। শুরুর দিকে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হলেও পরে কয়েক ধাপে সেটাও চালুর অনুমতি দেওয়া হয়। চালু হয়েছে উড়োজাহাজ ও নৌযানও। এদিকে মহামারির মাঝেই প্রস্তুতি চলছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেরও। এ প্রসঙ্গে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোশরফ হোসেন জানান, ‘করোনা পরিস্থিতিতে আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে কাজ করেছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলছে। ২১ জুন উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। তাই ইউএনও অফিস বন্ধ রাখার সুযোগ নেই।’ দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক খালেদ মোহম্মদ জাকী জানিয়েছেন, ‘জেলায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় লকডাউন চলছে। তবে অফিস বন্ধ রাখার প্রশ্নই ওঠে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস করেছি। জেলা প্রশাসকের দফতরে সাধারণ মানুষের অনেক সেবা নেওয়ার সুযোগ আছে।’ পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, ‘জেলা প্রশাসকের দফতরে সব সময়ই কাজ চলেছে। তবে পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। ব্যাংক, হাসপাতাল, রাজস্ব অফিসে কাজ চলছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। সভাসমাবেশ, বিনোদন কেন্দ্র, শিশুপার্কও বন্ধ আছে।’ এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ‘রাষ্ট্রের জরুরি কাজ পরিচালনার স্বার্থে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শুরু থেকেই খোলা। তবে অর্ধেক জনবল দিয়ে কাজ চলছে।’

এই সংবাদটি 21 বার পঠিত হয়েছে