প্রধানমন্ত্রী আমরারে পাকা ঘর দিছইন, জীবনেও ভাবিনাই পাকা ঘরে থাকমু

প্রকাশিত: ৫:০৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২১

ষ্টাফ রিপোর্টার:
জীবনেও ভাবি নাই পাকা ঘরে থাকমু প্রধানমন্ত্রী আমারে পাকা ঘর দিছইন। অখন মেঘ-বাদলীর দিনে আর কষ্ট হইতো না। আগে ভাঙ্গাচুড়া ঘরে থাকতাম বর্ষাকালে ছেলেমেয়ে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতাম আর রোদে শুকাইতাম। এভাবে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিমের স্ত্রী খোশবাহার বিবি তার ঘর পাওয়ার অনুভুতির কথা বলছিলেন। কাকিয়ারপাড় নোয়াগাঁও গ্রামের ছুরতুন নেছা বলেন, দেখার হাওরের কান্দাত পাতলা টিনের ঘর বানাইয়া বছরের পর বছর ছেলেমেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। কেউ আমাদের কোন খবর রাখেনি। হাওরের ঢেউয়ে ঘরের মাটি ধুয়েমুছে নিয়ে যেতো। এখন পাকা ঘর পাইছি। রোদ বৃষ্টি আসলেও কষ্ট করতে হবে না। নোয়াগাও গ্রামের মোছামৎ মনমিলা খাতুন বলেন, আমরার এখন পাকা ঘর রান্নার রুম বাথরুম টিপ কল সবি আছে। টিপ কলের পানির জন্য এখন কারো বাড়ি যেতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী আমারের ঘর দিছইন জমি দিছইন। তাইনের লাগি দোয়া করি। পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের রূপজান বেগম বলেন দেশে কতো সরকার আইলো গেল কেউ আমরারে টিনের ঘর দেয়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকা ঘর দিছইন। আমরার জীবন বদলে দিয়েছেন তিনি। সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১টি উপজেলায় ১ম পর্যায়ে ৩ হাজার ৯০৮টি ও ২য় পর্যায়ে ৩৫৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পাচ্ছে ‘স্বপ্নের নীড়’। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ২য় পর্যায়ে ৩৫৮টির মধ্যে ২০৯টি ঘর হস্তান্তর করা হবে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া জানান, সরকারি ব্যবস্থাাপনায় প্রতিটি ঘরের জন্য দুই শতাংশ খাসজমির বন্দোবস্তসহ দুই কক্ষের সেমিপাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এসব ঘরের প্রতিটিতে একটি রান্না ঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা রয়েছে। প্রতিটি ঘরে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা করে ব্যয় ধরে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মাধ্যমে ‘ক’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ভূমিহীন ও গৃহহীন ৪১১টি পরিবারের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রথম ও ২য় পর্যায়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ২৬১টি পরিবারকে জমি ও ঘর নির্মাণ করে দিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জয়কলস ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে ৬২, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ঘোড়াডুম্ভুর ও পিটাপসী গ্রামে ১৫১টি এবং পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে নবীনগর ও শত্রুমর্দন গ্রামে ৫১টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা করে। তবে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত ১০টি ঘরে সরকারি বরাদ্দ ছিলো ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে। উপজেলার জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া জানান, মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভূমিহীন-গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘর গুলোর উপকার ভোগী বাচাই করা হয়েছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের বাছাই করে এই ঘরগুলো নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার উজ জামান বলেন, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মানসম্মত ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। সুবিধাভোগীরা অধিকাংশই রাস্তার ধারে ফুটপাত বা কারও আশ্রয়ে বসবাস করতেন। তারা এখন প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর উপহার পাবেন। পর্যায়ক্রমে উপজেলার শতভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাদের জমি ও ঘর নাই, তাদের বসবাসের জন্য বাড়ি করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ২য় পর্যায়ে ২০৯টি ঘর পাচ্ছেন ভূমিহীন ও গৃহহীনরা। এর আগেও এই জেলায় ১ম পর্যায়ে বিভিন্ন উপজেলায় ৩ হাজার ৯০৮টি ঘর বরাদ্দ হয়েছিলো। সেগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ ২০ জুন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ঘরের দলিল উপকার ভোগীদের মধ্যে বিতরণ করবেন।

এই সংবাদটি 94 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ