উদ্বোধনের অপেক্ষায় দোয়ারাবাজার হাসপাতাল

প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১


ষ্টাফ রিপোর্টার:
মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি মেটাতে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন উপজেলার আড়াই লাখ জনতা। তবে কথা হচ্ছে, তৎকালীন এরশাদ সরকারের আমলে স্থাপিত ৩১ শয্যাবিশিষ্ট দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি শুরু থেকেই যন্ত্রপাতি ও লোকবল সংকটসহ নানা সমস্যায় আবর্তে ঘুরপাক খাওয়ায় আজো কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না উপজেলাবাসী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও স্বাস্থ্যসেবা কতটুকু উন্নীত হবে কার্যত সে বিষয়ে বিব্রতবোধ করছেন ভূক্তভোগী সেবাগ্রহীতারা। ডাক্তার, কনসালটেন্ট, টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন পদে লোকবল সংকট ও ও এক্সরে মেশিন ইত্যাদি কারণে দীর্ঘদিন থেকে নিয়মিত কাঙ্খিত সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন ভূক্তভোগীরা। একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি শুরু থেকেই চালকবিহীন। মানবিক কারণে জরুরি প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিজস্ব অর্থায়নে জেলা কিংবা বিভাগীয় শহরে প্রাইভেট চালক দিয়ে রোগীদের প্রেরণ করা হয়। তাই সময়ের দীর্ঘসূত্রিতায় গর্ভবতী মহিলা ও বয়োবৃদ্ধসহ সংকাটাপন্ন অনেক জটিল রোগী পথিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। কেননা সরকারি চালক না থাকায় অনবিজ্ঞ প্রাইভেট চালকের দরূন অ্যাম্বুলেন্সটি অনেক সময় বিকল হয়ে পড়ে। এছাড়া আর্থিক দৈন্যদশায় উন্নত চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয়ে বিফল মনোরথে অনেক জটিল রোগীকে প্রায়ই বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। জানা যায়, দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪জন কনসালটেন্টের একজনও নেই, ৭জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে কর্তব্যরত আছেন ৫জন, ডেন্টিস্ট থাকলেও যন্ত্রপাতি নেই, উপজেলাধীন বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্যকর্মী, এমএলএসএস, ঝাঁড়–দার, নৈশ প্রহরীসহ তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির অর্ধশতাধিক পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। “এ যেন কাজির গরু খাতায় আছে, গোয়ালে নেই।” মূলত এসব কারণেই যথার্থ সেবা পাচ্ছেন না অবহেলিত ভূক্তভোগি সেবাগ্রহিতারা। এছাড়া সময়ের দীর্ঘসূত্রিতা, ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসক সংকটে উপজেলার বাংলাবাজার, লক্ষীপুর, নরসিংপুর, দোহালিয়া ও পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের অনেক জটিল রোগীকে পার্শ্ববর্তী ছাতক, কৈতক ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের স্মরণাপন্ন হতে দেখা যায় প্রায়ই। জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন সুমন প্রতিবেদককে জানান, হাসপাতালে কর্তব্যরত ১৩জন নার্স থাকা সত্বেও অতিরিক্ত সেবা প্রদানে ইদানিং এখানে ৬জন মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মেডিকেল অফিসার, টেকনোলজিস্ট এবং এক্সরে মেশিন এ তিনটির শূন্যতাই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা বিঘিœতের প্রধান অন্তরায়। তবুও যতটুকু সম্ভব সমন্বয় করেই আউটডোর-ইনডোরে যথারীতি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের মাধ্যমে চাহিদা মোতাবেক নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে। ইনশাআল্লাহ অচিরেই তা কার্যকর হবে। অপরদিকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আবশ্যকীয় স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্টোরকিপারসহ তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের ব্যাপারে ইতিমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এই সংবাদটি 60 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ