যাদুকাটা নদীতে ছোট ভাইকে বাচাঁতে গিয়ে বড় ভাইসহ নিখোঁজ

প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২১


তাহিরপুর প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় যাদুকাটা নদীতে স্্েরাতের টানে ভেষেঁ যাওয়া ছোট ভাইকে বাচাঁতে গিয়ে বড় ভাইসহ গত দুদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তারা হল,বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিন বাদাঘাট ইউনিয়নের মিয়ারচর গ্রামের সবজি বিক্রিতা মস্তোফা মিয়ার দু-ছেলে মেরাজুল ইসলাম (১০) ও খাইরুল ইসলাম(৬)। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিখোঁজ শিশুর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান,মঙ্গলবার উপজেলার দক্ষিন বাদাঘাট ইউনিয়নের মিয়ারচর গ্রামের বাজারে প্রতিদিনের মত সবজি বিক্রি করছিল মস্তোফা মিয়ার। বিকাল ৫টার দিকে মস্তোফা মিয়ার ছোট ছেলে খাইরুল ইসলাম (৬) বাজার সংলগ্ন যাদুকাটা নদীর পশ্চিম দিকে ঘাটে বাদা নৌকায় উঠেছে দেখে বড় ছেলে মেরাজুল ইসলাম তার বাবাকে জানায়। তখন খাইরুলকে নিয়ে আসতে বলে পিতা মস্তোফা মিয়া। পিতার কথা মত নদীতে গেলেও আর তারা ফিরে আসেনি। এর পর তাদের আসতে দেরি দেখে দোকান বন্ধ করে নদীতে গিয়ে আর কাউকেই খোঁজে পায়নি। আর কেউই দুশিশুর বিষয়ে বলতেও পারছেন না। পরে বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশকে অবগত করলে তারা ঘটনাস্থল পরির্দশন করে। এরপর থেকে বিশ্বম্ভরপুর ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরী দল নিউটন দাসের নেতৃত্বে শিশুদের উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।
নিখোঁজ শিশুদের পিতা মোস্তফা মিয়া বলেন,কালকে(গতকাল) নদীতে গোলার পানিতে নদী একবারে বড়া ছিল। দোকানে এসময় বেচা বিক্রি বেশি ছিল। এসম ছোট পুলা(ছেলে)নৌকায় উইঠা পানি দেখতাছে বড় পুলা আইয়া বলে। পরে বড় পুলারে আবারও পাঠাই ছোট পুলারে আনতে। কিছুখন যাওয়ার পর মেরাজুল ও খাইরুল দুজনেই আর ফিরে না আসায় পিতা মোস্তফা মিয়া তাদের খোঁজতে নদীর পাড়ে যায়। নদীর পাড়ে গিয়ে মেরাজুল ও খাইরুলকে দেখতে না পেয়ে বাড়ি ও আতœীয় স্বজনের বাড়িতে খোঁজা খোঁজি কারে না পেয়ে বিষয়টি বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশকে জানাই। মনে হয় আমার দুই পুলাই(ছেলেই) পানিতে পইরা(পড়ে) গেছে। পরে আজ (৩০ জুন বুধবার) সকাল থেকে থানা পুলিশ ও ফায়ারসার্ভিসের একটি দল যাদুকাটা নদীর মিয়ারচড় তাদের উদ্ধারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।
দুটি শিশু নিখোঁেজর সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইনচাজ মোঃ ইকবাল হোসেন জানান,যাদুকাটা নদীতে প্রবল স্্েরাতের মধ্যে খাইরুল ইসলাম(৬)ভেষেঁ যাওয়ার সময় বড় ভাই মেরাজুল থাকে উদ্ধার করতে গিয়ে সেও ¯্রােতের টানে ভেষেঁ যায়। খবর পেয়েই আমরা সেখানে যাই। এখনও আমার দুটি শিশু উদ্ধারের চেষ্টা করছি।
এব্যপারে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, বিষয়টি জানানোর পর আমি সকালেই থানা পুলিশ ও পায়ারসার্ভিসের একটি ডুবুরি দল নিয়ে ঘটনার স্থল পরিদর্শন করেছি। পরিবারের ভাষ্য মতে দুই শিশুই নদীর পানিতে পাড়ে নিখোঁজ রয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগীতায় পুলিশ ও পায়ারসার্ভিসের ডুবুরি দলের উদ্ধার অভিযান অব্যহত রয়েছে।

এই সংবাদটি 62 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ