অবিরাম বৃষ্টি আর কঠিন লকডাউনে বেড়েছে নিত্য পণ্যের দাম, টিসিবি চালুর আহবান

প্রকাশিত: ৫:০৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২১


মিজানুর রহমান মিজান:
অবিরাম বৃষ্টি আর কঠিন লকডাউনকে পুঁজি করে সুনামগঞ্জে নিত্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী। নিত্য প্রয়োজনীয় সোয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। সুনামগঞ্জ সহ দেশজুড়ে চলছে কঠিন লকডাউন। বাজারে ক্রেতাদের উপ¯ি’িত কম থাকলেও নিত্য পণ্যের দাম কিন্তু কম নয়। কয়েকটি বাজার ঘুরে জানাযায় প্রায় সব ধরনের মাছ কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। দাম বেড়েছে সবধরনের সবজির দাম। সয়াবিন তেল বিক্রয় হচ্ছে আগের দামেই। ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বিপণনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সয়াবিন তেলের দাম ৪ টাকা কমালেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পরেনি। আগের আগের দামেই সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ঘোষিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, বোতলের এক লিটার সয়াবিন তেল ১৪৯ টাকা এবং খোলা এক লিটার সয়াবিন তেল ১২৫ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। এছাড়া বোতলের পাঁচ লিটার তেল ৭১২ টাকা এবং খোলা পাম সুপার এক লিটার ১০৮ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। তবে শুক্রবার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বোতলের এক লিটার সয়াবিন তেল ১৫৩-১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়। আর পাম সুপারের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। কিচেন মার্কেট এলাকার খুচরা ব্যবসায়ি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,“তেলের দাম কমানোর কথা শুনেছি। কিন্তু নতুন দামের তেল এখনও আমরা পাইনি। নতুন দামের তেল এলে, তখন আমরাও দাম কমিয়ে বিক্রি করব। তবে নিত্য পণ্যের দাম আগের মতোই আছে বলা যায়”। শহরের পুরাতন জেলরোড, কালীবাড়ী মোড়, কিচেন মার্কেট সংলগ্ন মাছ ও সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক কেজি ওজনের পাঙ্গাস মাছ বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এই ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১০০ টাকায়। আকারভেদে শিং মাছ প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, রুই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মৃগেল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, কাতল ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, সিলভার কার্প ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে শিং মাছে কেজিতে ৫০ টাকা এবং অন্য মাছ গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মাছ কিনতে আসা সুলেমান কবীর বলেন, লকডাউনের অজুহাতে মাছ ব্যবসায়িরা সব ধরনের মাছ কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজরে সবকিছুর দামই বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সামান্য বেড়েছে ব্রয়লার, সোনালী বা পাকিস্তানি কক মুরগি এবং লাল লেয়ার মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকার মধ্যে। সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকায়। মুরগির পাশাপাশি দাম বেড়েেেছ গরু ও খাসির মাংসের। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। আর খাসির মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুরলতি ৬০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়শ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কচুমুখী ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙার কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সবজি বিক্রেতা মাসুক মিয়া বলেন, প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চালকুমড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচকলার হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পেঁপের কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার কারণ হচ্ছে কটোর লবডাউনে ট্রাক ভাড়া দ্বিগুন, অনবরত বৃষ্টি ও বর্ষায় এখন প্রতিনিয়তই পানি বাড়ছে, সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এছাড়া অতিবৃষ্টিতে রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে গেছে, তাই চাহিদা অনুসারে সবজি আসছে না বাজারে। এর ফলে সবজির দাম বেশি। বাজারের নিত্যপণ্যের মুল্যের উর্দ্ধমুখিতা রুখতে অনরতি বিলম্বে শহরে টিসিবি’র মাধ্যমে পণ্য বিক্রির আহবান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ক্রেতা সাধারন।

এই সংবাদটি 52 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ