সুনামগঞ্জ জেলায় আইসিইউ শয্যা নেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বাস্তবায়ন চান জেলাবাসী

প্রকাশিত: ৪:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২১

মিজানুর রহমান মিজান:
সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোর কোথাও আইসিইউ শয্যা নেই। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর আগে থেকেই বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্য বিভাগকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এখনও আহ্বান জানিয়ে চলেছেন।
করোনা সংক্রমণ শুরুর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট চালুর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সে নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে খুবই কম। করোনা সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসায় তা পর্যাপ্ত নয়। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রোগীর চাপ অনেক বেশি। প্রয়োজন আছে এমন অনেক রোগী সময়মতো আইসিইউ পাচ্ছেন না। কারও কারও আইসিইউ পেতে কয়েক দিন লেগে যায়। অপেক্ষা করতে করতে অনেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। সরকারি পরিসংখ্যান মতেই, ৩৫ জেলায় আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছেন না রোগীরা। সারাদেশের মোট আইসিইউ শয্যার ৭৬ শতাংশই ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে। এর মধ্যে রাজধানীতেই ৭৩ শতাংশ। ফলে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বিভাগীয় পর্যায়ে অথবা রাজধানীতে ছুটতে হচ্ছে চিকিৎসার জন্য। তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বহুজন পথেই মারা যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আইসিইউ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবলের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ চাইলেও রাতারাতি জনবল তৈরি করা সম্ভব হবে না। দক্ষ জনবল ছাড়া শুধু আইসিইউ শয্যা স্থাপন করে কোনো লাভ হবে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য সঠিক নয়। আইসিইউ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্মিলিত। রোগীর যে বিভাগের চিকিৎসক প্রয়োজন হয়, সেই বিভাগের চিকিৎসকই সেবা নিশ্চিত করবেন। শুধু সার্বক্ষণিক যেসব চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মী থাকবেন, তাদের প্রশিক্ষিত হতে হবে। দ্রুততার সঙ্গে সেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব। স্বল্পমেয়াদে প্রশিক্ষণ দিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মীদের জেলা পর্যায়ে পদায়ন করে সমস্যার সমাধান করা যায়। সারাদেশে মোট আইসিইউ শয্যা এক হাজার ১৫৭টি। এর মধ্যে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ফাঁকা ছিল ৪৬৪টি। রাজধানীর ৮২১ শয্যার মধ্যে ফাঁকা ৩৪৫টি। রাজধানীর সরকারি ৩৮৪ শয্যার মধ্যে ফাঁকা ১১৭টি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে যাদের তীব্র শ্বাসকষ্ট থাকে তাদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে। এসব রোগীর চিকিৎসার জন্য আইসিইউ শয্যা, হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর ও এইডিইউ শয্যার প্রয়োজন হয়। হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন থাকলে শ্বাসকষ্টের রোগীদের চিকিৎসা সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়। সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের মাধ্যমে মিনিটে একজন রোগী সাধারণ শয্যায় ভর্তি থেকে ১৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সাপোর্ট পাবেন। তবে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য আইসিইউর প্রয়োজন। দেশে করোনার সংক্রমণ শুরুর আগে থেকে এসব বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল ছাড়া আইসিইউ চালানো যাবে না। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনের সময় ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ দরকার নেই। সংক্ষিপ্ত সময়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনবল তৈরি করে কাজে লাগাতে হবে। এ ধরনের প্রশিক্ষণে এক মাসের বেশি প্রয়োজন হয় না। বিষয়টি সদিচ্ছার। স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম থাকতে হতো করোনার আগে চলা নীতি নিয়ে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ চলছে করোনার পেছনে। এভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’
জানা গেছে, সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় একটিও আইসিইউ শয্যা নেই। এছাড়াও ঢাকা বিভাগের মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর; ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা ও শেরপুর; চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলা, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া; রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাট; রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট; খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইল; বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় একটিও আইসিইউ শয্যা নেই মর্মে জানা গেছে।সিলেট বিভাগের ৩ হাসপাতালে আইসিইউ: সিলেট বিভাগে সরকারিভাবে ৯টি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা দেওয়া হলেও মাত্র তিনটিতে আইসিইউ সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১০টি এবং মৌলভীবাজারে ৫টি শয্যা রয়েছে। শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ‘কভিড ডেডিকেটেড’ ঘোষণার পর আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুশান্ত মহাপাত্র বলেন, আইসিইউ পরিচালনার জন্য চিকিৎসক ও নার্স থাকলেও অন্য জনবলের সংকট রয়েছে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডাক্তার মো:রফিকুল ইসলাম সুনামগঞ্জের ডাক’কে বলেন,“বর্তমানে সদর হাসপাতালে ৪জন করোনা পজেটিভ রোগী আছেন। তবে হাসপাতালে কোন আই সি ইউ বেড নেই, সংকটাপন্ন রোগীদেরকে সিলেটে রেফার্ড করা হয়। আইসিইউ বেড স্থাপনের জন্য প্রচেষ্ঠা চলছে”।
এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার “প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট চালুর” নির্দেশনার দ্রুত বাস্তবায়ন চান সচেতন জেলাবাসী।

এই সংবাদটি 59 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ