কঠোর লকডাউনেও পাড়া-মহল্লায় ভিড় বাড়ছে

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২১


মিজানুর রহমান মিজান:
দেশে কঠোর লকডাউনের পঞ্চম দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতা দেখা গেলেও পাড়া-মহল্লা ছিল জনমুখর। নেই মুখে মাস্ক, সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধির বালাই। কঠোর লকডাউনের খুব একটা রেশ নেই বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লাগুলোতে। মূল সড়কে পুলিশ-সেনাবাহিনীর তৎপরতা দেখা গেলেও অলিগলিতে অন্য সময়ের মতোই জনসমাগম দেখা গেছে। পাড়ার চায়ের দোকান কিংবা গলির হোটেলে চলছে আড্ডা। সরজমিন ওয়েজখালী, মল্লিকপুর, বড়পাড়া, তেঘরিয়া, আরপিননগর, সোমপাড়া, পশ্চিমবাজার, জামাইপাড়া, পুরাতন বাসষ্টেন্ড, কালীবাড়ী, সোমপাড়া, মুক্তারপাড়া, নতুনপাড়া, মরাটিলা, বাধনপাড়া, ময়নার পয়েন্ট, বকপয়েন্ট, ষোলঘর, মুহাম্মদপুর,বদিপুর, মাইজবাড়ী, হাসননগরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র।
একজন রিকশাচালক বলেন, কতক্ষণ ঘরে বসে থাকা যায়। পুলিশ আসে কিনা জানতে চাইলে হেসে দিয়ে বলেন, ওই যে পেছনের গলি দেখছেন পুলিশ আসলে দৌড়ে ভেতরে চলে যাই। পুলিশ চলে গেলে আবার এখানে আসি। এখন পর্যন্ত দুই থেকে তিনবার পুলিশ এসেছিল। মানুষ কতক্ষণ ঘরবন্দি থাকতে পারে বলে প্রশ্ন ছুড়ে দেন খালেক।
শহরের কাঁচাবাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই। ষোলঘর এলাকার দোকানগুলোর অর্ধেক সাটারখুলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করতে দেখা যায়। যাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। কথা হয় একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। তারা জানান, মাঝে মধ্যে পুলিশ টহল দিচ্ছে। অনেকটা চুরি করে জিনিসপত্র বিক্রি করতে হচ্ছে। তাছাড়া পুরোপুরি লকডাউন মানাতে হলে সবার আগে তাদেরকে ক্ষতিপূরণের আওতায় আনতে হবে। না হলে পরিবারের সদস্যদের খাওয়া-পরা, বাসা ভাড়া কোথা থেকে আসবে? এমনটিই জানান তারা। সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধে হোটেল রেস্তরাঁয় বসে খাবার খাওয়া বারণ থাকলেও অনেকেই তা মানছেন না।
র‌্যাবের পরিচালক (ডিরেক্টর অ্যান্ড মিডিয়া উইং) কমান্ডার খন্দকার আল মইন সম্প্রতি গণমাধ্যমে বলেছেন, ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব শহরের পাড়া-মহল্লায় জনসমাগম ঠেকাতে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে। জনসমাগম ঠেকাতে গুচ্ছাকারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কঠোর লকডাউন চলাকালীন বাসার বাইরে বের হচ্ছেন তাদেরকে আইনের আওতায় এনে জরিমানাসহ বিভিন্ন শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এই সংবাদটি 12 বার পঠিত হয়েছে