করোনায় চলে গেলেন সাবেক চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান: বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ

প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২১


ইফতি রহমান:
সুুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান, লক্ষনশ্রী ইউনিয়নের দুই মেয়াদে নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা ওয়াহিদুর রহমান সুফিয়ান করোনা আক্রান্ত হয়ে সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাাহি—-রাজিউন)। সুনামগঞ্জের পরিচিত মুখ সুফিয়ান করোনা আক্রান্ত হবার আগে অসুস্থ হয়ে ভারতে এবং দেশে চিকিৎসা গ্রহন করে আরপিননগর তালুকদার বাড়ীর পৈতৃক বাসায় ছিলেন। গণমূখী, তুমুল আড্ডাবাজ, দিলখোলা মানুষ হিসাবে উনি সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। প্রাণবন্ত মানুষটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বেশ কয়েকদিন থেকে বাসায় অসুস্থ শরীর নিয়ে দিনযাপন করছিলেন। কয়েকদিন আগে শরীর বেশী খারাপ হলে তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কোভিট টেস্টে করোনা পজেটিভ আসে। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই গতকাল বিকালে মাউন্ট এডোরায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গতকাল বাদ এশা আরপিননগর শাহী ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে আরপিননগর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। উনার মৃত্যুতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, পীর মিছবাহ এমপি, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড: সামছুননাহার রব্বানী শাহানা, সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদসহ বিভিন্ন মহল শোক প্রকাশ করেছেন।
বর্নাঢ্য এ রাজনীতিবিদের জন্ম ১লা ফেব্রুয়ারী ১৯৬২। তালুকদারবাড়ীর মরহুম এম,সাজিদুর রহমানে’র তৃতীয় পুত্র ওয়াহিদুর রহমান সুফিয়ান দুই দুইবার বিপুল ভোটে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষনশ্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও একবার সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সালে প্রথমবার ও ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত লক্ষনশ্রী ইউনিয়ন ও ২০০৩ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সময় কালে উপজেলা সদরের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করার অপরাধে এরশাদ সরকারের আমলে তিনি বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ দিন কারান্তরালে ছিলেন। ১৯৮৭ সালে আওয়ামীলীগে যোগদানের আগ পর্যন্ত তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। পরে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগে যোগ দিলে জেলা কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
ওহিদুর রহমান সুফিয়ান ২০১৭ সাল থেকে মস্তিস্কের অজ্ঞাত কঠিন রোগে ভোগছেন। ২০১৬ সালে তার হার্টে রিং লাগানো হয়। তিনি তালুকদার বাড়ীতে বসবাস করতেন। বাকশক্তি হারিয়ে একরকম পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে ছিলেন।
তার স্ত্রী নাম সাঞ্জিদা চৌধুরী উর্মি । তিনি ১ছেলে ও ২ মেয়ের পিতা। বড় মেয়ে মৌলদা রহমান আননা বিবাহিত। ছেলে বায়েজীদ রহমান আকন সিলেট নর্থ ইষ্ট বিশ্ববিদালয়ে এলএলবি (অনার্স) অধ্যায়নরত। আরেক মেয়ে মোক্তাদার রহমান আনান সুনামগঞ্জ মহিলা কলেজের এইচএসসি ক্লাশে অধ্যায়নরত।

এই সংবাদটি 50 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ