লকডাউন ভেঙে ফুটবল টুর্নামেন্ট, বন্ধ করল প্রশাসন

প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২১


ধর্মপাশা প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ওই ইউনিয়নের গোলকপুর পূর্ব বাজারের তরকারি মহালে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ম্যাচ আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। পরে খবর পেয়ে প্রশাসন খেলা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।
এদিকে, করোনাকালে এমন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করায় এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এতে লোকসমাগম ঘটানোর কারণে এলাকায় করোনার সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন মানুষজনের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলকপুর পূর্ব বাজারে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেন এ টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বপালন করে আসছেন। ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী জামালগঞ্জ এবং তাহিরপুর উপজেলার অর্ধশতাধিক ফুটবল দল এ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে সারা দেশে লকডাউনে সবকিছু থেমে গেলেও মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টটি থেমে নেই। ওই আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে তিন সপ্তাহ ধরে গোলকপুর বাজারে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট চলে আসছে।
সপ্তাহখানেক আগে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের খবরটি পান ধর্মপাশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান। তিনি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রধান সমন্বয়ক জাকির হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে এই টুর্নামেন্ট বন্ধ করতে বললে ওই আওয়ামী লীগ নেতা এতে সম্মত হন।। গত তিন-চারদিন খেলা বন্ধ ছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার গোলকপুর বাজারে আবারও মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা শুরু হয়। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে শতাধিক মানুষ উপস্থিত হয়ে ফুটবল খেলা উপভোগ করেন। এলাকাবাসীর কাছ থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই টুর্নামেন্টের খবর পান ধর্মপাশার ইউএনও। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টুর্নামেন্টের প্রধান সমন্বয়ক জাকির হোসেনকে খেলা বন্ধ করতে বললে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর আওয়ামী লীগের নেতা জাকির হোসেন এলাকায় খুবই প্রভাবশালী ও লাঠিয়াল প্রকৃতির লোক। করোনাকালে তিনি সরকারি নির্দেশনা ভঙ্গ করে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করলেও ওই আওয়ামী লীগ নেতার দ্বারা হয়রানি ও মারধরে শিকার হওয়ার আশঙ্কায় এ নিয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। টুর্নামেন্ট আয়োজনে যারা জড়িত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনাগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
নিজেকে সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক দাবি করে জাকির হোসেন বলেন, আমাদের এলাকাটি হাওরবেষ্টিত। বর্ষায় পানিতে মাঠ-ঘাট তলিয়ে যায়। তাই বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় এলাকার মানুষজনের বিনোদনের জন্য তিন সপ্তাহ আগে আমাদের গোলকপুর বাজারে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিলাম। সারা দেশে লকডাউন থাকায় এবং করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় আমি এই টুর্নামেন্ট বন্ধ করে দিয়েছি। আজ (গতকাল) যে খেলাটি হয়েছে সেটি টুর্নামেন্টের অংশ নয়। আমার অনুপস্থিতিতে খেলাটি শুরু হয়েছিল। ইউএনও স্যারের ফোন পেয়ে আমি সরেজমিনে সেখানে গিয়ে ফুটবল খেলাটি বন্ধ করে দিয়েছি। এখানে আর কোনো খেলা হবে না বলে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান বলেন, সরকারি নির্দেশনা না মেনে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলার আয়োজন করা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। খবর পাওয়ার পর মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা বন্ধ করার ব্যবস্থা করেছি। লকডাউন চলাকালে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে যারা এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন, খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি 20 বার পঠিত হয়েছে