এখনও মাস্ক পরায় অনীহা, বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধির

প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২১


সুলেমান কবির:
গতকাল মধ্যদুপুর, সুনামগঞ্জের আলফাত উদ্দিন স্কয়ার ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় অনেকটাই ছিল লোকে লোকারণ্য। লকডাউনের শেষ হওয়ার পরপরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব কিছুই ফিরে গেছে চিরচেনা রূপে। রাস্তাঘাট যানবাহন ,শমিংমল, কাঁচাবাজার, মাছবাজার, গ্রার্মেন্টস, চা- পানের দোকান হোটেল রেস্টুরেন্ট সহ সবখানেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের ছিল ব্যাপক জনসামগম ।
রাস্তার পাশে দোকানিকে সবজি ও ফল ক্রিয় বিক্রয় করতে দেখাগেছে । বিক্রেতা যারা আছেন, তাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। ক্রেতাদের অনেকের দশাও একই। যারা মাস্ক পরেছেন, তাদের অধিকাংশই আবার সঠিকভাবে পরেননি। কেউ থুতুনির নিচে কেউ কানের কাছে কেউবা নাকের নিচে মাস্ক নামিয়ে রেখেছেন। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিমুক্ত নন। লকডাইন শিথিলের পর মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে রোগতত্ত্ব ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার ঘরের বাইরে শতভাগ মানুষকে সঠিকভাবে মাস্ক পরিধানসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের পরামর্শ কানে তুলছেন না অনেকেই। গতকাল সুনামগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় রাস্তাঘাটে যানবাহন ও মানুষের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো।সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাস্ক পরিধান করা জরুরি বলা হলেও তা কেউ মানছেন না। শতভাগ তো দূরের কথা ৫০ শতাংশ মানুষও সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান করছেন না। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার যে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, তাও উপেক্ষিত। সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ ভবনে ঢোকার রাস্তার বিপরীতে সুনামগঞ্জ সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে একটি হোটেল থেকে পরোটা ও সবজি খাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব আলম। তিনি বলেন, ‘হোটেল মালিকসহ কর্মচারীদের কারও মুখে মাস্ক নেই। ক্রেতা যারা এসেছেন, তারা সামাজিক দূরত্ব না মেনেই খাবার খাচ্ছেন। অনেকের মুখে মাস্ক নেই।’ স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বর্তমান মহামারি করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ পরিস্থিতিতে শুধু নিজের জন্য নয়, অপরের নিরাপত্তার জন্যও মাস্ক পরতে হবে। অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হলেও উপসর্গ না থাকায় তারা মাস্ক ছাড়া ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ফলে অজান্তেই তারা ভাইরাস অন্যজনের মধ্যে ছড়াচ্ছেন। অন্যজনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা গর্হিত অপরাধ।’তিনি বলেন, ‘অনেকেই মাস্কের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জানেন না। তারা নানা অজুহাতে মাস্ক পরলেও খুলে থুতুনির নিচে বা কানের পাশে ঝুলিয়ে রাখেন। কিন্তু সার্জিক্যাল মাস্ক সব সময়ই পরে থাকা যায়। অনেকে মনে করেন মাস্ক নিজের জন্য পরেন। আসলে মাস্ক অন্যকে রক্ষার জন্যও পরা উচিত।’

এই সংবাদটি 20 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ