দুর্নীতি সহ্য করবো না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২১


সু:ডা:ডেস্ক:
দুর্নীতির বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুঁশিয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেহেতু আমরা অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি, অর্থনৈতিকভাবে অগ্রগতি হচ্ছে; এ জন্য কোনও ধরনের দুর্নীতিকে আমরা সহ্য করবো না। সেটিকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।’
বুধবার (১৮ আগস্ট) ভার্চুয়াল সচিব-সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপক হারে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সচিব-সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতি একটি ব্যাধির মতো। এই ব্যাধি থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। সেদিকে আপনাদের একটা কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যেখানে দুর্নীতি দেখবেন সেখানেই ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা ভালো কাজ করবেন অবশ্যই তারা পুরস্কৃত হবেন। কিন্তু যারা দুর্নীতিতে জড়িত হবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই একটা দক্ষ সেবামুখী জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে উঠুক। যা দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারবে। সেটাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘আর কিছু না, আমারও একটা চাওয়া আছে। আমরা যে কাজগুলো করতে চাই দ্রুত সেই কাজগুলো যেন বাস্তবায়ন হয় এবং যথাযথ মানসম্পন্ন হয়। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেন যথাযথভাবে কার্যকর ও বাস্তবায়ন হয়। এই বিষয়গুলো সবাইকে একটু দেখা দরকার। সেটা আপনারা বিশেষভাবে দেখবেন, এটাই আশা করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটাই চাই, আপনারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। সমস্যা থাকলে সমস্যাগুলো সমাধান করে দেওয়া; এ বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ রাখবেন। কোনোমতেই যেন কাজে স্থবিরতা না দেখা দেয়।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার বেতন বৃদ্ধি করে দিয়েছি। আবাসনের ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি, যেন তারা ভালোভাবে বসবাস করে কাজ করতে পারেন। সুন্দরভাবে থাকতে পারলে কাজের সুবিধাটা ভালো হয়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা উৎসব ভাতা দিচ্ছি। পহেলা বৈশাখ আমাদের বাংলা নববর্ষ, নববর্ষ ভাতা দিয়ে যাচ্ছি। গৃহনির্মাণের জন্য যাতে সহজে ঋণ পাওয়া যায় সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। গাড়ি কেনার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এই সুযোগগুলো আমরা সৃষ্টি করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তারা অবসরে গেলে বা পিআরএল-এ গেলে যেসব সুবিধা পেতেন আমরা সেসব সুবিধা বৃদ্ধি করে দিয়েছি। পেনশন সহজভাবে পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। সমস্ত বেতন-ভাতা, পেনশন ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইএফটি-এর মাধ্যমে এখন প্রদান করা হচ্ছে। ঘরে বসে সবাই পেয়ে যাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘কৃষকের সমস্যা কী, তাদের কী সুবিধা আমরা দিতে পারি, সেটা দেখতে হবে। যে শ্রমিক তার শ্রম দিয়ে উৎপাদন করে, সেই শ্রমিক যেন উন্নত জীবন পায়, তারাও যেন কাজ করার সুন্দর একটা পরিবেশ পায়, তার ছেলেমেয়েরা যেন কষ্ট না পায়। কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ তাদের কথাও আমাদের চিন্তা করতে হবে।’

এই সংবাদটি 18 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ