ট্রেনে পাথর ছুঁড়ে মারার ঘটনা নতুন কিছু না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ ঘটনা মারাত্মক বেড়েছে। কেন পাথর ছুঁড়ে মারে, কারা মারে এ নিয়ে রয়েছে এক বিশাল রহস্য। চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুঁড়ে মারে কেন, এই প্রশ্ন লাখ লাখ মানুষের। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও শেয়ারিং সাইটে এমন অসংখ্য ভিডিও রয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে- ট্রেনপথে চলন্ত ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন কিছু ব্যক্তি।

ট্রেন থেকে কেউ শখের বশে ছবি তোলার চেষ্টা করতেই হাতে কোনো উপায়ে আঘাত করে ওঁত পেতে থাকা ব্যক্তি। আকস্মিক আঘাত পেয়ে বাধ্য হয়ে ফোনটা ফেলে দেন যাত্রী। কোনো কোনো সময় কোনো ধরনের বস্তু দিয়ে আঘাত করতেও দেখা গেছে। চলন্ত ট্রেন বা বাসে ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে এসব যারা করছে তারা অধিকাংশ সময়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে অপরাধ কমছে না।

এমন ঘটনায় দরজায় কাছে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী পড়ে মারা গেছেন, এমন অনেক তথ্যও রয়েছে।

আল মামুন নামের একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী নিজের ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, দুই ব্যক্তি ট্রেনের খুব কাছে ছিলেন। পরে দ্রুত সরে যাচ্ছেন। ছবির ব্যক্তি দুজনের শারীরিক ভাষা খুবই সন্দেহজনক। ছবিটি পোস্ট করে আল মামুন লিখেছেন, ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসে ছিলাম, ভৈরব পার হচ্ছিল আর গ্রামের ভেতরে ডুকছিলাম, ভাবলাম ছবি তুলি একটা, দূর থেকেই সন্দেহ হচ্ছিল ফোন টান দেবে, যেই ভাবা সেই কাজ। ফোন নিতে পারেনি, আমি তাদের ছবি ঠিক আগেই নিয়ে নিয়েছিলাম, ভৈরবের আশপাশেই থাকে এই দুই চোর, ধরিয়ে দিন চিনলে!’

আল মামুনের কথা অনুযায়ী এই দুজন দুর্বৃত্ত। যারা ভৈরবের ট্রেন লাইনের আশপাশেই থাকেন, যারা নিয়মিত চলন্ত ট্রেন থেকে ফোন টান দেয়। এরা দুজনও আল মামুনের ফোন টান দেওয়ার চেষ্টা করেছিল; কিন্তু সম্ভব হয়নি। উল্টো দুই ‘দুর্বৃত্ত’ ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাওয়ার সময় মামুন তাদের ছবি তুলে ফেলতে সক্ষম হন।

একজন মন্তব্য করেছেন, ‘এই জায়গাগুলোর মধ্যে বহুৎ ছিনতাইকারী আছে যে ওঁত পেতে থাকা গাড়ি ছাড়ার পর কখন কার জিনিসপত্র টান দিয়ে দৌড় দেবে, দৌড়ও দিতে হয় না, কারণ ট্রেন তো আস্তে আস্তে চলে যায়, ওরা জাস্ট একপাশে দাঁড়িয়ে থাকে।সূত্র : কালের কণ্ঠ