২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান ও স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এ ভবনটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দুই বছর পরও ১৯৭৮ সালে নির্মিত ৩০ শয্যা বিশিষ্ট পুরাতন ভবনেই কোনরকম চলছে চিকিৎসা সেবা। ফলে, মহামারী করোনার মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, আসবাপত্র ও লোকবল সংকটে নতুন ভবনে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞিত হচ্ছেন তাহিরপুরবাসী।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে মোট ১২৪টি পদের মধ্যে ৬৮টি পদই শূন্য। প্রধান কর্মকর্তা ছাড়া আবাসিক চিকিৎসক, মেডিসিন, গাইনি, সার্জারি ও এ্যানেসথেসিয়া পদগুলো খালি এক দশক ধরে। ১৩ জন চিকিৎসকের মধ্যে আছেন মাত্র ৬ জন। এর মধ্যে প্রেষণে রয়েছেন দুইজন মেডিকেল অফিসার। তাছাড়া ২০ জন নার্সের মধ্যে কর্মরত আছেন ৯ জন। তৃতীয় শ্রেণীর ৭১ জন কর্মচারীর মধ্যে আছেন ৩৬ জন। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সংকট মোকাবেলা করা হচ্ছে আউটসোর্সিয়ের ১৮ জন কর্মচারীর মাধ্যমে।
অপরদিকে গত তিন বছর ধরে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটিতে একটি জেনারেটার ও আলাট্রাসনোগ্রাম মেশিন টেকনিশিয়ানের অভাবে অকেজু হয়ে পড়ে রয়েছে।

স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটিতে নেই ডেন্টাল, ল্যাব ও রেডিওটেকনোলজিস্ট। এক যুগ ধরে এক্স-রে মেশিনটিও বিকল, রক্ত পরীক্ষারও ব্যবস্থাও নেই এখানে। এখানে আসা রোগীরা রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারছেন না। ফলে, বাধ্য হয়ে স্থানীয় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বাড়তি টাকা খরচ করছেন তারা। দূর্গম হাওর পাড়ের অসহায় রোগিদেও সেবার জন্য একমাত্র নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটিও দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামের ইসলাম উদ্দিন বলেন, পুরাতন ভবনে গাধাগাধি করে চিকিৎসা নিতে হয়। নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু হলে ভর্তিকৃত রোগীরা একটু আরামে চিকিৎসা সেবা নিতে পারতো।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, এখানে মহিলাদের জন্য কোন গাইনী ডাক্তার নেই। যে কারণে গর্ভবতী মহিলারা এখানে সঠিক চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রের ইউএইচ এন্ড এফপিও ডা. আহমদ শাফি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রেটিতে ৫০ শয্যায় উন্নিত হলেও প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় এর কার্যক্রম শুরু করতে পারছি না। তাছাড়া বর্তমান চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির জন্য প্রতি মাসেই চাহিদা পাঠানো হচ্ছে।