০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার

সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ করতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার। ইতোমধ্যে সেন্টারের ১০টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে দ্রুতই সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য সিলেটসহ জেলার বাইরে যেতে হয়। এতে চিকিৎসার পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচ বহন করতে হয় রোগী ও স্বজনদের।

অনেক রোগীর জন্য নিয়মিত এই যাতায়াত শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে বড় চাপ তৈরি করে। সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা চালু হলে জেলার রোগীদের এই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-৪ অধিশাখা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৪৪টি জেনারেল ও জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের জন্য রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ৩৯৬টি পদ সৃজনের কথা জানানো হয়েছে।

এর মধ্যে প্রতিটি হাসপাতালে ছয়টি করে সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং তিনটি করে মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ডায়ালাইসিস) পদ রয়েছে।সেই হিসাবে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেন্টারের জন্যও নয়টি পদ সৃজন করা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে সেন্টারটির কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের বড় একটি অংশকে নিয়মিত চিকিৎসার জন্য সিলেটে যেতে হয়। ডায়ালাইসিস একবার করেই শেষ হয় না; রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নিয়মিত এই চিকিৎসা নিতে হয়।

ফলে জেলার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের জন্য সময় ও অর্থের ব্যয়ও দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যা হয়ে আছে।বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের ক্ষেত্রে এই ভোগান্তি আরও বেশি।

সুনামগঞ্জ শহরের বাইরে থাকা রোগীদের প্রথমে উপজেলা বা নিজ এলাকা থেকে জেলা শহরে আসতে হয়। এরপর সিলেট বা অন্য জেলায় যেতে হলে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর সঙ্গে স্বজনকেও যেতে হয়। ফলে চিকিৎসা ব্যয়ের সঙ্গে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ যোগ হয়ে পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু হলে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা রোগীরা সুনামগঞ্জ শহরেই এই সেবা নিতে পারবেন। এতে জেলার বাইরে যাতায়াতের প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় পথে কাটাতে হবে না।সচেতন মহলের লোকজন বলছেন, সুনামগঞ্জে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ জেলার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

নিয়মিত ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য জেলার বাইরে যাওয়া যেমন কষ্টকর, তেমনি ব্যয়বহুলও। সরকারি হাসপাতালে এই সেবা চালু হলে অপেক্ষাকৃত কম খরচে রোগীরা চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে সেবা চালুর পর তা নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার পাশাপাশি যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোগীর চাপ অনুযায়ী ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি রয়েছে। সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১০টি বেড প্রস্তুত আছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দ্রুত সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

নকল মশার কয়েল বিক্রির অপরাধে ৪ প্রতিষ্ঠানকে ২২ হাজার টাকা জরিমানা

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ করতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার। ইতোমধ্যে সেন্টারের ১০টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে দ্রুতই সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য সিলেটসহ জেলার বাইরে যেতে হয়। এতে চিকিৎসার পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচ বহন করতে হয় রোগী ও স্বজনদের।

অনেক রোগীর জন্য নিয়মিত এই যাতায়াত শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে বড় চাপ তৈরি করে। সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা চালু হলে জেলার রোগীদের এই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-৪ অধিশাখা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৪৪টি জেনারেল ও জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের জন্য রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ৩৯৬টি পদ সৃজনের কথা জানানো হয়েছে।

এর মধ্যে প্রতিটি হাসপাতালে ছয়টি করে সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং তিনটি করে মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ডায়ালাইসিস) পদ রয়েছে।সেই হিসাবে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেন্টারের জন্যও নয়টি পদ সৃজন করা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে সেন্টারটির কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের বড় একটি অংশকে নিয়মিত চিকিৎসার জন্য সিলেটে যেতে হয়। ডায়ালাইসিস একবার করেই শেষ হয় না; রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নিয়মিত এই চিকিৎসা নিতে হয়।

ফলে জেলার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের জন্য সময় ও অর্থের ব্যয়ও দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যা হয়ে আছে।বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের ক্ষেত্রে এই ভোগান্তি আরও বেশি।

সুনামগঞ্জ শহরের বাইরে থাকা রোগীদের প্রথমে উপজেলা বা নিজ এলাকা থেকে জেলা শহরে আসতে হয়। এরপর সিলেট বা অন্য জেলায় যেতে হলে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর সঙ্গে স্বজনকেও যেতে হয়। ফলে চিকিৎসা ব্যয়ের সঙ্গে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ যোগ হয়ে পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু হলে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা রোগীরা সুনামগঞ্জ শহরেই এই সেবা নিতে পারবেন। এতে জেলার বাইরে যাতায়াতের প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় পথে কাটাতে হবে না।সচেতন মহলের লোকজন বলছেন, সুনামগঞ্জে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ জেলার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

নিয়মিত ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য জেলার বাইরে যাওয়া যেমন কষ্টকর, তেমনি ব্যয়বহুলও। সরকারি হাসপাতালে এই সেবা চালু হলে অপেক্ষাকৃত কম খরচে রোগীরা চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে সেবা চালুর পর তা নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার পাশাপাশি যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোগীর চাপ অনুযায়ী ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি রয়েছে। সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১০টি বেড প্রস্তুত আছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দ্রুত সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে।