০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে দালালদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: জেলা প্রশাসক

সুনামগঞ্জ জেলা সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

আজ রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে সুনামগঞ্জ জেলা সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম।জেলা প্রশাসক বলেন, হাসপাতালে দালালদের চিহ্নিত করতে একটি কমিটি করা হয়েছে।

ওই কমিটির মাধ্যমে কারা দালালি করছে, তা চিহ্নিত করা হবে। দালালদের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।হাসপাতালে এসে কেউ বিশৃঙ্খলা বা সহিংস আচরণ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার কথাও বলেন জেলা প্রশাসক।সভায় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সংসদ সদস্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনীয়তাসহ বিভিন্ন ঘাটতির বিষয় তালিকা করে সংসদ সদস্যের কাছে দেওয়া হলে তিনি তা মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরতে পারবেন।হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। চিকিৎসক, নার্সসহ সহযোগী জনবলের ঘাটতি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা বলেন জেলা প্রশাসক।পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সারা দেশে আগামী তিন মাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ অভিযান চলমান থাকবে। হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন থাকলেও বাইরে থাকা বড় ডাস্টবিনে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ও সাধারণ বর্জ্য একসঙ্গে রাখা হচ্ছে। এতে বর্জ্য সংগ্রহকারীদের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ বা অন্য ধারালো সামগ্রী থাকলে দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ কারণে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ও সাধারণ বর্জ্য আলাদাভাবে রাখার ব্যবস্থা করার কথা বলেন জেলা প্রশাসক। এ বিষয়ে পৌরসভার সঙ্গে আলোচনা করে বড় ডাস্টবিনও আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। বর্জ্য রাখার ডাস্টবিনে ঢাকনা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।সভায় হাসপাতালে জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ ও নিবন্ধনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, হাসপাতালে জন্ম ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে সেগুলো যথাযথভাবে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে হবে।

২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার সরকারি লক্ষ্য রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, সংসদ সদস্যের সহযোগিতা ও উৎসাহে হাসপাতালের কাজ আরও বেগবান হবে। সবাই নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে হাসপাতালকে ভালোভাবে এগিয়ে নিলে এখান থেকে দৃষ্টান্তমূলক সেবা পাওয়া সম্ভব হবে।

টেগ :
জনপ্রিয় পোস্ট

তাহিরপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন, একজনকে জরিমানা ও অপরজনের ৬ মাসের কারাদণ্ড

হাসপাতালে দালালদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: জেলা প্রশাসক

আপডেট সময় : ১১:২২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলা সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

আজ রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে সুনামগঞ্জ জেলা সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম।জেলা প্রশাসক বলেন, হাসপাতালে দালালদের চিহ্নিত করতে একটি কমিটি করা হয়েছে।

ওই কমিটির মাধ্যমে কারা দালালি করছে, তা চিহ্নিত করা হবে। দালালদের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।হাসপাতালে এসে কেউ বিশৃঙ্খলা বা সহিংস আচরণ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার কথাও বলেন জেলা প্রশাসক।সভায় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সংসদ সদস্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনীয়তাসহ বিভিন্ন ঘাটতির বিষয় তালিকা করে সংসদ সদস্যের কাছে দেওয়া হলে তিনি তা মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরতে পারবেন।হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। চিকিৎসক, নার্সসহ সহযোগী জনবলের ঘাটতি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা বলেন জেলা প্রশাসক।পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সারা দেশে আগামী তিন মাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ অভিযান চলমান থাকবে। হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন থাকলেও বাইরে থাকা বড় ডাস্টবিনে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ও সাধারণ বর্জ্য একসঙ্গে রাখা হচ্ছে। এতে বর্জ্য সংগ্রহকারীদের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ বা অন্য ধারালো সামগ্রী থাকলে দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ কারণে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ও সাধারণ বর্জ্য আলাদাভাবে রাখার ব্যবস্থা করার কথা বলেন জেলা প্রশাসক। এ বিষয়ে পৌরসভার সঙ্গে আলোচনা করে বড় ডাস্টবিনও আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। বর্জ্য রাখার ডাস্টবিনে ঢাকনা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।সভায় হাসপাতালে জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ ও নিবন্ধনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, হাসপাতালে জন্ম ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে সেগুলো যথাযথভাবে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে হবে।

২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার সরকারি লক্ষ্য রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, সংসদ সদস্যের সহযোগিতা ও উৎসাহে হাসপাতালের কাজ আরও বেগবান হবে। সবাই নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে হাসপাতালকে ভালোভাবে এগিয়ে নিলে এখান থেকে দৃষ্টান্তমূলক সেবা পাওয়া সম্ভব হবে।